• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Showing posts with label Kalimpong. Show all posts
Showing posts with label Kalimpong. Show all posts

Friday, January 15, 2021

রিশপ ট্রিপ - Trip to Rishop

 বাইকে করে রিশপ ট্রিপ। নতুন নয়। এর আগে অনেকে করেছে। কিন্তু হিমালয়ে দু'চাকা নিয়ে যাওয়া আমার প্রথম। এর আগে টুকটাক বীরভূম, পুরুলিয়া হয়েছে। সে যাই হোক। ডিসেম্বরের শেষে হাড়কাঁপুনি ঠান্ডায় গিয়ে উপস্থিত হলাম রিশপ। গেছিলাম বছরের শেষদিন। এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি আর তারপর শিলিগুড়ি থেকে fz250 বুক করে সোজা কালিম্পং।

রাস্তায় দেখেছিলাম পাইন ভিউ নার্সারি। বলব কি মশাই! রাস্তার হাল যা, তাতে বাইক নিয়ে যে শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি এই ঢের। নার্সারি যাওয়ার রাস্তা বেশ ঘাঁটা। তার উপর গুগলও সঙ্গ দিচ্ছে না। মোবাইলের টাওয়ারই নেই তো নেট কানেকশন। অগত্যা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে পাইন ভিউ নার্সারি পৌঁছলাম। ক্যাকটাস আর কাঞ্চনজঙ্ঘার মেলবন্ধনে জায়গাটা মোটের উপর অপূর্ব।

সেখান থেকে রওনা দিলাম রিশপের উদ্দেশ্যে। মাঝে পড়েছিল মর্গান হাউস। তবে বুকিং না থাকায় ঢুকতে পারিনি। বাইরে থেকে দেখেই শান্ত থাকতে হল আমাদের। তারপর সেখান থেকে গেলাম ডেলো হয়ে পৌঁছলাম রিশপ। মাঝ রাস্তায় ডেলোর কাছে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মোমো খেলাম। সঙ্গে দু'কাপ ভর্তি কপি। ধড়ে যেন প্রাণ এল। অক্সিজেন নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। কারণ এরপর আর হল্ট দেব না।

সোজা রিশপ। কিন্তু যাব বললেই কি যাওয়া যায়? রাস্তার জন্য রিশপ পৌঁছতে বেজে গেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা। যদিও তখন সন্ধে নামার কথা নয়। কিন্তু পাহাড়ে ঝুপ করে কখন অন্ধকার নেমে যায় বোঝাই যায় না। এর ফলে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল আমাদের। কারণ রিশপ যাওয়ার রাস্তা বেশ খাড়াই। তার উপর দুপাশে পাইনের জঙ্গল। অন্ধকার তখন আমাদের এমনভাবে গ্রাস করেছে গাড়ির হেডলাইটে তা দূর হচ্ছে নামমাত্র। বাইকে আমরা মাত্র দুজন। সঙ্গে কেউ নেই। গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলেছি। প্রাণপাখিটা তখন গলার কাছে ঠেলা মারছে। যদি জঙ্গল থেকে কোনও বন্যজন্তু বেরিয়ে আসে বেঘোরে পৈত্রিক প্রাণটা খোয়াতে হবে। কিন্তু তা আর হয়নি। হোমস্টে পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম।

তবে এখানে বলে রাখি পাইনের ওই জঙ্গল কিন্তু সকালে অসম্ভব সুন্দর। পরের দিন লাভা, কোলাখাম আর ছাংগে ফলস যাওয়ার পথে দেখেছিলাম। ওই দৃশ্য ভোলবার নয়। পরের দিন চারটে থেকে উঠে প্রতীক্ষা করছিলাম সূর্যোদয়ের। বরফ ঠান্ডা জলে প্রাতঃকৃত্য সেরে হোমস্টের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের হোমস্টের পাশ দিয়েই টিফিনদারার রাস্তা। কিন্তু স্লিপিং বুদ্ধের উপর সূর্যের প্রথম কিরণ দেখতে গেলে অন্ধকার থাকতে রওনা দিতে হত। দুজন মিলে অন্ধকারে অজানা রাস্তায় পাড়ি দেওয়ার সাহস হয়নি। অগত্যা ব্যালকনিই ভরসা। জানতাম এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। দেখা গেলও।

সূর্যের আলো বরফস্নাত কাঞ্চনজঙ্ঘায় পড়ার দৃশ্য যেন সব মন খারাপ, সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। এমন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে হাজার কষ্ট করা যায়। তবে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্য আমরা দেখিনি। সূর্য একটু উঠতেই টিফিনদারার রাস্তায় রওনা দিয়েছিলাম। সম্পূর্ণটা য়াইনি। কারণ তার আগেই স্লিপিং বুদ্ধ আমাদের দর্শন দিয়েছে। মনে হচ্ছিল যেন উজ্জ্বল লাল-সোনালি চাদর চাপা দিয়ে নিশ্চিন্তে নিদ্রা যাচ্ছেন বুদ্ধদেব। এই দৃশ্য দেখার পর ইচ্ছা করেই আর টিফিনদারা যাইনি। কারণ আমরা বাইকে এসেছি। আলো থাকতে হোমস্টেতে ফিরতে হবে। আগের দিন খুব ভোগান্তি হয়েছে। তাই সেখান থেকে নেমে লাভা হয়ে গেলাম কোলাখাম। সেখান থেকে ছাংগে ফলস।


লাভা থেকে কোলাখাম যাওয়ার রাস্তা নেওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে দিয়ে। রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। অন্নপ্রাশন নয়, ঝাঁকুনির চোটে গত জন্মের অন্ন উঠে আসতে পারে। আর যে কোনও মুহূর্তে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সেসব ফাঁড়া কাটিয়ে পৌঁছলাম কোলাখাম। পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রাম। এখান থেকে ঘুমন্ত বুদ্ধ আরও স্পষ্ট। কোলাখাম হয়ে পৌঁছলাম ছাংগে ফলস। জলপ্রপাতের তেজ কম। কিন্তু মনোরম। জায়গাটাকে ঢেলে সাজিয়েছে প্রকৃতি। অল্প জলের উপর দিয়ে দৃশ্যমান পাথর। তার উপর পা দিয়ে টুকটাক এপাশওপাশ যেতে পারবেন। এখানেই কেটে যাবে অনেকটা সময়। এরপর আমরা আর কোথাও যাইনি। ব্যাক টু হোমস্টে।


তারপরের দিন রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। লাভা-গরুবাথান রুটে শিলিগুড়ি ফেরা। এই রাস্তা প্রথমদিনের চেয়ে অনেকটাই ভাল। কিন্তু এখানে একটা কথা বলে রাখি, রোমাঞ্চ ভালবাসলে অবশ্যই রিশপ বাইকট্রিপ করতে পারেন। এখানকার সৌন্দর্য আর রাস্তা আপনাকে প্রতি পদক্ষেপে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ দেবে। কিন্তু বাইক যদি আপনি ভাল চালান তবেই সাহস দেখান। নাহলে দুর্ঘটনা বসে আছে আপনাকে খপ করে ধরবে বলে।


বি.দ্র. বাইক কিরায়া (sujit da-9735912211)থেকে আমরা বাইক ভাড়া করেছিলাম। সিকিউরিটি বাবদ 2000 টাকা জমা রাখতে হয় (with any original ID PROOF)। এছাড়া বাইক ভাড়া নিয়েছিল (yamaha fz25 1300/day excluding fuel) টাকা প্রতিদিন। রিশপ যাওয়ার পথে রাস্তা বহু জায়গায় বেশ খাড়াই। কোথাও কোথাও রাস্তা ভাঙা। ফলে বাইক খুব ভাল চালাতে জানলে তবেই যান। আমরা ছিলাম গ্রিন পিক রিসর্টে। খাওয়া মোটের উপর ভালই। উত্তর ও পূর্বের ঘর (একতলা 105 ও দোতলা ROOM NO.206) থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। সম্ভব হলে এই 2টি ঘরের একটি বেছে নিন। ভাড়া সিজন হিসেবে ভ্যারি করে। হোটেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বুক করতে পারেন(manager pallab-8170077624) আমরা হোটেলটা ট্রাভেল এজেন্ট মারফৎ বুক করেছিলাম। দু'টদিনের ৪২০০ টাকা পড়েছিল।


Sourav Ghosh

Wednesday, November 25, 2020

কানকেব‌ঙ (কালিম্পং) - kankebong (kalimpong)

 অনেকেই হয়তো এই জায়গাটির নাম শোনেননি, কিন্তু হিমালয়ের আঁকাবাঁকে, আনাচে-কানাচে কত অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে যে প্রকৃতি সেজে আছে তা এই গ্রামে এলেই বুঝবেন। কালিম্পং ডিভিশনের এক ছোট্ট গ্রাম কানকেবং আপনাকে অবাক করবে, তার রূপ-লাবণ্যে।

যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং শুধু এবং শুধুই অবসর কাটানোর ঠিকানা খুঁজছেন এবং পাহাড়ের সেই পরিচিত কাঠপোড়া গন্ধ, সবুজের নিস্তব্ধতা চান তাদের জন্য‌ই এই লোকেশন। পাহাড়ী জীবনের মাটির স্বাদ নিতে ঘুরে আসুন কানকেবং থেকে।

যারা একবার এখানে গেছেন তারা যে সহজেই এই জায়গার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছেন, বলাই বাহুল্য। কালিম্পং থেকে ঘন্টাখানেকের রাস্তা পেরিয়ে ডাউনহিলে মূলত এই গ্রাম। এছাড়াও বিভিন্ন হিমালয়ান পাখির আস্তানা এই ছোট্ট জনপদ। স্বভাবতই পাখি প্রেমীদের ক্রমেই প্রিয় ডেস্টিনেশন হয়ে উঠবে।

শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে সবুজের মাঝে দুদিন ঘুরে যেতেই পারেন এই পাহাড়ী গ্রামটিতে। আপনি যদি প্রকৃতি কে ভালোবাসেন তবে আবার ফিরে আসতে হবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে পৌঁছতে সময় লাগে ঘন্টা চারেক। হোমস্টেটিও চমৎকার।


বাঁশ দিয়ে তৈরী চমৎকার তিনটি কটেজ। খাওয়াদাওয়া, আতিথিয়তাও বেশ ভালো। রাতের বেলা ওপরের পাহাড়ে লোলেগাও, কাফেরগাও এর আলো জ্বলে উঠলে দেখতে বেশ লাগে। তবে এখানে বিশেষ করার কিছু নেই শুধুই অবসর যাপন ছাড়া। হোমস্টে লাগোয়া একটি ছোট্ট সুইমিং পুল‌ও আছে।

এখান থেকে দেখার জায়গার মধ্যে , কালিম্পং, দূরপীন, ডেলো সব‌ই ঘুরে আসা যায়। এছাড়া কাফেরগাঁও, লোলেগাঁও, সামথার প্রভৃতি জায়গা গুলিও ঘুরে আসতে পারেন দিনে দিনেই। ওখানে পৌঁছেই ঠিক করুন, শুধু‌ই অবসর যাপন নাকি সাইটসিংয়ে বেড়িয়ে পড়বেন কিনা গাড়ী নিয়ে।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দূরত্ব- ৮২ কি.মি
গাড়ী ভাড়া- ৩৫০০-৪০০০/- টাকা।
কালিম্পং থেকে দূরত্ব ১৫ কিমি, গাড়ী ভাড়া আনুমানিক ৮০০-১০০০ টাকা।
হোমস্টেতে থাকা খাওয়ার খরচ ১৫০০/- জনপ্রতি প্রতিদিন সমস্ত মিল সহ।
+916291538880


Himalayan Retreat

Wednesday, October 21, 2020

সাংসের কালিম্পং - Sangser Kalimpong

 কালিম্পং থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে, রংপো যাওয়ার পথে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এক ছোট্ট পাহাড়ী হ্যামলেট সাংসের। অনেকেই হয়তো নাম শোনেন নি তবে ন্যাওড়াভ্যালি ন্যাশানাল পার্কের আভ্যন্তরীণ ডেলো পাহাড়ে ঘেরা সাংসের খাসমহল প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে দৈনন্দিন একঘেয়ে কর্মজীবনে যারা ক্লান্ত, তাদের জন্য টি এস এলিয়টের ভাষায় এ যেন এক প্রকৃত "এসকেপ ফ্রম রিয়েলিটি"।

ঘন সবুজ প্রকৃতির লুকোনো এই ঠিকানা আপনার একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি কাটানোর এক আদর্শ ডেস্টিনেশন হতে পারে। দুদিনের ছুটিতে যারা কাছে-পিঠে পাহাড়ী অফবিটের সন্ধান খুঁজছেন তারা আসতেই পারেন সাংসেরে। একদিকে সুন্দরী তিস্তার আনমনে বয়ে যাওয়া আর অন্যদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা কে যেন হাত দিয়ে ছুয়ে ফেলা যায় সাংসের থেকে। সবমিলিয়ে প্রকৃতি তার সব উজার করে অভ্যর্থনা করবে আপনাকে। ছোট্ট গ্রামটিতে জনসংখ্যা খুবই কম, হোমস্টে ও খুব বেশি নেই। তবে হোমস্টের আতিথিয়তা চমৎকার।


এই হোমস্টেটির বারান্দায় বসেই আপনি কাঞ্চনজঙ্ঘার উপস্থিতি অনুভব করবেন। বসবার জন্য চমৎকার কয়েকটি শেড করা আছে এখানে। প্রিয় মানুষদের সাথে এখানে বসে আকাশে মেঘের খেলা দেখতে দেখতে কেটে যেতে পারে কয়েকটা বেলা। হোটেল বা রিসর্টের আতিশয্য না পেলেও হোমস্টেতে পাবেন ঘরের মানুষের মতো আতিথিয়তা।

এখান থেকে খুব কাছেই কালিম্পং শহর। মাত্র ১৪ কিমি দূরে হওয়ায় দিনে দিনে কালিম্পং থেকে ঘুরে আসতে পারেন। দূরপীন, ডেলো, রামিতে ভিউ পয়েন্ট, হনুমান টক প্রভৃতি স্থান খুব কাছেই। এগুলোও ঘুরে আসা যায়। লাভা-লোলেগাও, রিশপ, কোলাখাম, ইচ্ছেগাঁও, সিলেরিগাও প্রভৃতি সাংসের থেকে ঘুরে আসা যায়। ন্যাওড়াভ্যালি ন্যাশানাল পার্কের অন্তর্গত হওয়াও এই সাংসের এর আসেপাশেই হেঁটে হেঁটে উপভোগ করতে পারেন হিমালয়ের এই লুকনো আস্তানা কে। যারা পাখি ভালোবাসেন, নানা পাখির খোঁজ করেন হিমালয়ের আনাচে কানাচে তাদের জন্য এক কথায় স্বর্গীয় এক ঠিকানা সাংসের। প্যাকেজ ট্রিপের দৌড়াদৌড়ি, তথাকথিত টুরিস্ট স্পটের ভীড় এড়িয়ে তাই আপনার আস্তানা হোক সাংসের।




নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সাংসের এর দূরত্ব ৮৫ কিমি। গাড়ীতে সময় লাগে ঘন্টা তিনেক। গাড়ী ভাড়া ৩০০০-৩৫০০/- টাকা।

হোমস্টের খরচ- ১২০০/- টাকা জনপ্রতি প্রতিদিন সমস্ত মিল সহ। (নূন্যতম দুজন)
06291538880



Himalayan Retreat

Friday, June 5, 2020

লাভা, কালিম্পঙ - Lava, Kalimpong

 ছবিটি লাভা তে তুলেছিলাম । কয়দিন থেকেই লাভা নিয়ে লেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল । বন্ধু সুমি বলছিল ও লাভা খুব ভালবাসে । অথচ লাভা যায় নি । ব্যাপারটা খুব আশ্চর্য । আশ্চর্য নয় কি ? আসলে লাভা কথাটির অর্থই এক সুন্দর কবিতার মত । লা - ঈশ্বর , ভা - উপস্থিতি ।

                                                            Just after leaving Garubathan

আমার ভ্রমণ যাওয়া আর ফিরে আসা । এই পথ দেখতে দেখতে যাওয়া আর আসাই আমার ভ্রমণ ।সুমি , তুমি যেমন কোনদিন লাভা না গিয়েও লাভাকে নিয়ে কবিতা লিখতে পার , আশ্চর্য সুন্দর করে গান গাইতে পার , ওমনি আমিও মাত্র দু ঘন্টা ঘুরেছিলাম । ঠিক করেছিলাম আবার আসব লাভা । সেবার বুড়ো মামাকে নিয়ে খুব অসুবিধায় পড়েছি । মামা শুধু বলে আমি বসি , তুমি ঘোর । আরে তা কি করে হবে । আমি হাঁটতে থাকব , তারপর রাস্তায় গাড়ি পেলে উঠে পড়ব । তোমাকে কোথায় বসিয়ে রাখব । বছর সাত হয়ে গেছ জান , লাভা ঘুরেছিলাম । এখন আমিও বুড়োর খাতায় । তুমি এবার হাত ধরে থেকো । বাস্তবে না পার , তুমি স্বপ্নতেই আমার হাত ধর । আবার আমি লাভা যাব । সুমি এবার তোমার হাত ধরে । নতুন করে ছবি আঁকব ।

                                                            Looks so Dangerous

বেশী জন লাভার দিকে যায় , এন জি পি থেকে তিস্তা বাজার , কালিম্পং হয়ে লাভা । আমি নিয়ে যাব তোমায় ডামডিম হয়ে । সে এক আশ্চর্য সফর করেছিলাম আমরা । খুলে বলি । এত দিন পরও একটু চোখ বুজলেই আমার সব ছবি আর পথের কথা মনে পড়ে যায় । সকাল বেলাতেই সেদিন আমরা চালসার হোটেল ছেড়েছি । হোটেল মালিক বলেছিল বেলা ৮-৩০ একটা ট্রেকার আসবে । ওটা কালিম্পং নিয়ে যাবে । আমি উঠি ভোর পাঁচটার আগে । এত সময় নষ্ট করব ? চালসা মোড়ে এক পথচারী পরামর্শ দিল , এখনই (৬) একটা গাড়ি পাবে মালবাজার যাবে । ওখান থেকে আবার গাড়ি পাবে শিলিগুড়ি যাবার । পথে ডামডিম নেমে যাবে । ওখান থেকে আবার গাড়ি । আমার তো এমন পথের নিশানা পেয়ে মন নেচে উঠল । ডামডিম নেমে এক দোকান এ নাস্তা ।
                                                                    After Landslide
ভাগ্যিস ভাল ভাবে নাস্তা করেছিলাম । তারপর সারাদিন মামাকে আধপেটা করে রেখেছিলাম গো । যাক গল্পটা করি । দোকানদারকে এবার ধরলাম লাভা কি ভাবে যাব । দোকানদার সেই গাড়িটার কথাই বলল । যেটা আমরা চালসা থেকেই ধরতে পারতাম । আমি জানতে চাইলাম আর কোন উপায় নাই । এতক্ষন এভাবে বসে থাকব ? তখন দোকানদার বলল , এখান থেকে সব ম্যাজিক্ গাড়ি যাবে । ওটাই উঠে গরুবাথান যেতে পার । ওখান থেকে লাভার গাড়ি পাবে । শুনে ভালই লাগল । অল্প সময় হলেও গরুবাথানও ঘোরা হবে । গরুবাথান যাবার পথটাও কি সুন্দর । দু ধারে চা বাগান । গাড়ি মাঝে মাঝে দাঁড়াচ্ছে । লোকাল লোকজন উঠছে । মন্দ লাগছিল না জানো । লোকাল লোকজনদের সাথে গাড়িতে দু একটা করে কথা বার্তাও শুরু হল । জানতে পারলাম আজ গরুবাথানে হাট বসবে । এখন আর মনে নেই । সেদিন কি বার ছিল । খুব সম্ভব রবিবার । আমার হিসাব তাই বলছে । যাই হোক ডুর্য়াসে হাট দেখা নিয়ে আমি খুব উত্তেজিত হয়ে গেলাম । সেই সব দিনকাল হয়ত এখন আর নেই । তবু হাটে কত রকম মানুষ জন । নিশ্চয় ভাল কিছু ছবি তোলার আশায় রইলাম ।
                                                                        At Lava

গরুবাথানে একটা লাভা যাবার গাড়ি এখুনি ছাড়বে । হাতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট । টিকিট কেটে মামাকে গাড়িতে রেখে আমি হাটে এলাম । হাট এত সকালে তেমন জমে নি । আর গরুবাথানের এই শহর অঞ্চলটি একবারে ঘিঞ্জি । একটু হতাশই হলাম । একটা দুটো পর্টেট তুললাম । আমাদের গাড়িও ছেড়ে দিল । একবারে টাইমের গাড়ি । আর আমার ভাগ্য আজ গাড়িতে লোকজন কম । আর আমি একটা জানালার ধারে ।
ঘিঞ্জি শহরটা শেষ হতেই গাড়ি পাহাড়ী রাস্তা ধরল । আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ এর মত পুরো পৃথিবী ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পাল্টিয়ে গেল ।
                                                                Father and son

যাবার পথে এই রাস্তায় ( চলন্ত) গাড়ি থেকে এত এত ছবি তুলেছি বলার নই । তবু একটা ছবি গাড়ি থেকে নেমে কাছে গিয়ে না তোলার আফশোষ এখনও আছে । সুমি এই ছবিটা দেখো । ওদের ছোট পৃথিবী । মহিলার পিঠে একটা বাচ্চা । ওরা স্বামী স্ত্রী লাঙ্গল করছে । পাহাড় থেকে মেঘ নেমে এসেছে । কি অসাধারণ ল্যান্ড স্কেপ ছিল । এই সাত বছরে আমার প্রায় মনে পড়েছে এখানে একবার যাব । ভাবতাম আবার যেদিন যাব , সেদিন যদি মেঘ না নেমে আসে ? ওরা দুজন যদি সেদিন লাঙ্গল না দেয় । আর ভয় নেই সুমি । তুমি সাথে থাকবে এবার । এবার ওখানে নামব । গাড়ি চলে যায় যাবে । ওখানে রাত থাকব । মেঘ নামবে । বৃষ্টি হবে । মাঝ রাতে মেঘ ভেঙে চাঁদ দেখা দেবে । জান্নাত নেমে আসবে মাটির পৃথিবীতে ।
                                                                At Lava

আসুন এর এই সকালে ক্যামেরাটাকে আর খারাপ না করে লাভার বাকি গল্পটুকু করে নিই । আজকের মত সেদিন ডামডিম থেকে লাভা ওঠার শেষ ধাপগুলিও ছিল ভয়ংকর । সামনে থেকে এক গাড়ি দেখে মনে মনে ভাবছিলাম যে কোন সময় পাহাড়ে ধস নামতে পারে । আর গাড়ি সমেত -
                                                            Beautiful Lava

ভাবনাটা ভাবার কিছু সময়ের মধ্যেই দেখি গাড়ির জ্যাম । ড্রাইভার বলে দিলেন রাস্তায় ধস নেমেছে । গাড়ি থেকে নামলাম । রাস্তার ধস পরিষ্কার শুরু হয়েছে । কিছু পর রাস্তা কিছু পরিষ্কার করে গাড়ির যাতায়াত শুরু হল । ড্রাইভার জানালো এবার এই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে । পুরো বর্ষাকাল বন্ধ থাকে । আমরা লাভা ঢুকলাম মেঘ কুয়াশার মধ্যে । অনেক গুলি কুয়াশার ছবি নিলাম চলন্ত গাড়ি থেকে । চলন্ত গাড়ি থেকে অল্প আলোয় ছবিগুলি খুব একটা ভাল হয় নি ।
                                                                    Beautiful Lava

লাভা আমরা ঘন্টা দেড় -দুই ছিলাম । আমাদের তাড়া ছিল কাল্মিপং যাওয়ার । ফের ওখান থেকে শিলিগুড়ি ফেরার । সন্ধ্যা সাতটায় কলকাতা ফেরার ট্রেন । একটা দিনের মধ্যে চালসা থেকে লাভা হয়ে শিলিগুড়ি ভায়া লোকাল গাড়ি , খুব সহজ ব্যাপার নই । সবটাই সম্ভব হয়েছিল সময়ে সময়ে গাড়ি পেয়ে যাওয়া ।

লাভা নিয়ে একটু বলে লেখা শেষ করব । লাভা খুব বড় জায়গা নই । কিন্ত অন্তত এক রাত দু দিন না থাকলে লাভার সৌন্দর্যকে উপভোগ করা যাবে না । লাভা থেকে চারিদিকে অনেক গুলি পয়েন্ট ঘোরার আছে । কিছু ছবি দিয়ে লেখা শেষ করছি । ছবিগুলি দেখে বুঝতে পারছি , আজ ভাঙা ক্যামেরা দিয়েও আরও ভাল ছবি তুলতে পারতাম । অনেক ছবি শুধু অভিজ্ঞতার অভাবে নষ্ট হয়েছে ।

Sk Munna

Friday, December 13, 2019

ঝান্ডি, কালিম্পং - Jhandi, Kalimpong

 অপরিচিত জায়গা অনেকের কাছেই..যাঁরা নির্জনতা পছন্দ করেন... শপিং করতে ভালোবাসেন না.... তাঁরা একবার গিয়ে দেখতে পারেন.... চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর তারই মাঝে মেঘের লুকোচুরি খেলা ... খারাপ লাগবে না... প্রকৃতির খেলা আপনার মন ভরিয়ে দেবে.... পুরো অঞ্চলটাই পাখির কোলাহল....থাকার জায়গা বলতে কতকগুলো Ecohut আছে তার সঙ্গে খাবার রেস্টুরেন্ট... আর আছে Pinewood Retreat বলে একটা compact 8 মেম্বার্স এর থাকার জায়গা.... সেখানে 3 তে রুম-এর সঙ্গে অ্যাটাচ টয়লেট ব্যবস্থা.... খুব পরিষ্কার পরিছন্ন.... কলকাতা থেকে বুকিং হয়....

                                                            চা বাগানের মধ্যে দিয়ে পথ
                                                                    
গরুবাথান






যাবেন কি করে - শিয়ালদহ থেকে ট্রেন এ নিউমাল জংশন স্টেশন এ নেমে গাড়ি ভাড়া করে Jhandi.... গাড়িতে সময় লাগে 1.30 মিনিট....ওখান থেকে lava গাড়িতে এক ঘন্টা সময় লাগে.... রাতে খুব ঠান্ডা... তবে উপভোগ্য....

একবার চান্স নিন না !

কোলকাতা থেকে বুকিং -Sintu Bhattacharya -9836830342
লেখা ও ছবি -@atanu ghosh

Saturday, July 20, 2019

কাফেরগাঁও, কালিম্পং - Kafer Gaon, Kalimpong

লোঁলেগাও থেকে ৫ কিলোমিটার ডাইনহিলে, কাঞ্চনজঙ্ঘা কে একদম একান্তে কাছে পাওয়ার এক অচেনা ঠিকানা কাফের। কালিম্পং থেকে কাফেরের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিমি। চারিদিকে শুধু সবুজে সবুজ আর একগুচ্ছ পাহাড়ি পাখির সাথে দুটো অলস দিন কাটাতে চাইলে ঘুরে যান কাফের থেকে।

জনবসতি তেমন নেই বললেই চলে, কাফেরের পথে চলতে চলতে নিজেকেই মনে হবে যেন এই বিপুল সবুজ সাম্রাজ্যের অধিকারী আপনি। নিরিবিলিতে দুদিনের ছুটি যেখানে কোন ব্যাস্ততা নেই, অফিস-স্কুলের তাড়া নেই, গাড়ীর হর্ণ নেই এমন এক জায়গা হতে পারে কাফেরগাঁও। এখান থেকে প্রায় বিনা বাধায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবার অভিজ্ঞতা হবে, তাছাড়া ভুটান, কালিম্পং প্রভৃতি জায়গা গুলিও দেখা যায় কাফের থেকে। কাফের এ একটাই হোমস্টে আছে। থাকা- খাওয়ার ব্যবস্থা বেশ ভালো। আতিথিয়তাও চমৎকার, সবমিলিয়ে দুদিনের ছুটি কাটাতে ঘুরে যেতেই পারেন কাফের থেকে।


কাফের এর আশপাশে দর্শনীয় বলতে, খুব কাছেই লোঁলেগাও, দিনে দিনে ঘুরে আসতে পারেন। এখান থেকে লাভার দূরত্ব ২৪ কিমি। চারখোলের দূরত্ব ১৩ কিমি, যদিও রাস্তাটি বেশ দূর্গম, তবে এ এক মনোরম জায়গা। চারখোলে পৌছলে পথের ক্লান্তি ভুলে যেতে বাধ্য। কোলাখাম, রিকিশাম, চুখিম, পেডং, রিশপ সব গ্রাম গুলি এখান থেকে ঘুরে আসা যায়।
এই অঞ্চলগুলি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও তার পার্শ্ববর্তী পিকগুলি এবং ইস্টার্ন হিমালয়ার ভিউ অসাধারন।
এছাড়াও লোঁলেগাও এর ঝান্ডিদারা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং এভারেস্টের ওপর সূর্যোদয় দেখা এক স্বর্গীয় অনুভুতি।


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কাফেরগাঁও এর দূরত্ব ১২৫ কিমি, গাড়ীতে সময় লাগে ৪-৫ ঘন্টা। গাড়ী ভাড়া আনুমানিক ৪০০০-৪৫০০ টাকা। এছাড়া মালবাজার থেকেও এখানে আসা যায়।
হোমস্টে খরচ ১৫০০/- জনপ্রতি প্রতিদিন (নূন্যতম দুজন) সমস্ত মিল সহ।
06291538880


Himalayan Retreat