• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Showing posts with label Bankura. Show all posts
Showing posts with label Bankura. Show all posts

Sunday, November 14, 2021

দক্ষিণবঙ্গের গভীরতম জঙ্গল এবং তালবেড়িয়া বাঁধ ( বাঁকুড়া) - Dense forest of South Bengal and Talberia Dam(Bankura)

 সত‍্যি বলতে বেশ অবাক হয়েছিলাম যখন জানতে পেরেছিলাম দক্ষিণবঙ্গের গভীরতম জঙ্গল আমার বাড়ি ঝাড়গ্রাম থেকে এতটা কাছে। বাঁকুড়া জেলার ঝিলিমিলির সুতানের জঙ্গলের কথা বলা হচ্ছে এখানে। ঝিলিমিলির বারোমাইলের জঙ্গলের একটা অংশ এই সুতানের জঙ্গল। ঝিলিমিলি-রাণীবাঁধ রোড এই বারোমাইলের জঙ্গলকে দ্বিধাবিভক্ত করে চলে গেছে। এ রাস্তার একদিকে পাহাড় আর আরেক দিকে বিস্তৃত আর গভীর খাদ। মোম-মসৃণ রাস্তা সাপের মতন এঁকেবেঁকে ওপর-নীচে ঢেউ খেলে নিজের ঠিকানায় চলে গেছে। এই রাস্তায় পাওয়া যাবে তিনটি ভিউ-পয়েন্ট যা থেকে নয়নাভিরাম চান্ডিল-দলমা রেঞ্জের সূত্রপাত আমরা চাক্ষুষ করতে পারি।






এইবারে আসি সুতানের কথায়। এই রোড ছেড়ে আপনি যখন সুতানের দিকে বাঁক নিচ্ছেন, ঠিক তখনই আপনি এক আলাদা জগতে পৌঁছে যাচ্ছেন। পাথুরে রাস্তা, একধারে খাদ, প‍্যাঁচানো রাস্তা, প্রাচীন গাছপালা, আর অফ-রোডিং অভিজ্ঞতা - সব পাবেন। ভাগ‍্য সহায় হলে ময়ূর দম্পতিদের দেখা পেতে পারেন। তারা হয়তো ভাববে, প্লাস্টিক ছড়াতে আর পরিবেশ দূষণ করতে আবার কে এলো!!! কিন্তু আপনি সেসব কিছু না করে ওদের অবাক করে দেবেন।





সুতানের জঙ্গলে জঙ্গলে কিছুক্ষণ ঘুরলেই আপনার মনের নাগরিক প‍্যাঁচ আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করবে। বিরাট বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে ছড়ানো বিশুদ্ধ বনভূমি দিয়ে যেতে যেতে মাঝে মধ্যে দু-একটা পাথুরে পথ ডানদিকে বা বামদিকে চলে যায় কোনও একটা জঙ্গলঘেরা গ্রামের দিকে। জঙ্গলে ঘুরেই কাটিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু আমাদের সাধারণ প্রবণতা থাকে কোথাও যাওয়া মানে একটা গন্তব‍্য বা স্পট থাকতে হবে। রাস্তা উপভোগ করতে আমরা ভুলে যাই। সুতানের রাস্তাই যেন এর প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু এখানেও একটা স্পট রয়েছে। একদম সুতান গ্রামের সামনেই রয়েছে পরিত‍্যক্ত C.R.P.F ক‍্যাম্প এবং ওয়াচ-টাওয়ারটি। বিগত কঠিন সময়ের সাক্ষ্য বহন করে দাঁড়িয়ে আছে এই অবশেষগুলি। সাধারণত এই ওয়াচ-টাওয়ারটির ছবি দেখলেই বোঝা যায় যে ছবিটি সুতানের ছবি। একটা ফাঁকা জায়গায় এই ক‍্যাম্প আর টাওয়ার। এগুলো ছাড়াও সেখানে নতুন একটি ওয়াচ-টাওয়ার বানানো হয়েছে আর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের একটা গেস্ট হাউসও রয়েছে। এখনও চালু হয়েছে কিনা সঠিক জানা নেই। পিকনিক করার জন্য রয়েছে দুটো-তিনটে মতন বেদি। এছাড়াও পেছনে রয়েছে একটি বিল‍। যার পরিচয় সেরকম কোথাও পাইনি। কিন্তু বেশ একটা রেন-ফরেস্ট রকমের ব‍্যাপার আছে।



এরসাথে বোনাস হিসেবে পেয়ে যাচ্ছেন তালবেড়িয়া বাঁধের মতন সুন্দর একটি জলাশয়ে সময় কাটানোর সুযোগ। বাঁধের পাঁচিলের মাঝামাঝি জায়গা থেকে একটি সিমেন্টের তৈরী মঞ্চ আপনাকে বাঁধের কিছুটা ভেতর অবধি নিয়ে যাবে। ফলস্বরূপ, সেই মঞ্চে থাকলে আপনার তিনদিকেই দেখবেন জল। জঙ্গলঘেরা সকল জলাশয়ই মন কেড়ে নেয়। তালবেড়িয়াও তার ব‍্যতিক্রম না।



মোট কথা, কোলকাতা থেকে এলেও একদিনের ঘোরার জন্য অসাধারণ। আর যাঁদের একদিনে ঘোরা হবে না, তাঁদের থাকার জন্য এই অঞ্চলে সবচেয়ে দারুণ জায়গা হলো ঝিলিমিলির রিমিল লজ। এই সংক্রান্ত পোস্ট পেজে আগে করা হয়েছে, সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

আর এই জায়গাটি যেহেতু নতুন নয়, এর আগে বহু মানুষ এখানে গেছেন আর ফেসবুকেও অনেক লেখালেখি হয়েছে তাই এর গুগল ম‍্যাপ লিঙ্ক দেওয়া হলো।

গুগল ম‍্যাপ লিঙ্ক:

১) সুতান:- Sutan Forest Camp

Ranibandh - Barikul Road, Sutan, West Bengal 722148

https://maps.app.goo.gl/g7UcA69ctGeXBRnD9

২) তালবেড়িয়া:- Talberiya Dam

Talberiya Road, Rautara, West Bengal 722148

https://goo.gl/maps/jkBMhxfUeh5QMUUU7



ছবি ও লেখা: Sandipan Das

Tuesday, April 7, 2020

বিষ্ণুপুর বাঁকুড়া - Bishnupur Bankura

 অপার সৌন্দর্যের চাবিকাঠি খুঁজতে যখন বিষ্ণুপুর যাওয়া তখন শুধুই চেয়ে থাকি,,,,, আঁখি ফিরাইতে না পারি,,,,,,,,........।

শিল্পীর তুলিতে যেমন মনের ক্যানভাস আঁকা হয়ে যায় তেমন করেই বোধহয় আমার দুনয়নে ভরে আছে শিল্প স্থাপত্যের এমন অনবদ্য নিদর্শন যাকে শুধু ছবিতে দেখলে মন ভরে না,,,,,অনুভূতির পরশ নিতে গেলে অবশ্যই অনুভব করতে যেতে হবে মল্ল রাজাদের বিষ্ণুপুর।
                                                        বিষ্ণুপুরে প্রবেশের প্রধান ফটক

শুরু হল পথ চলা সকাল বেলা নিজেদের ঠিক করা বাহন কে নিয়ে সঙ্গে আমার আপনজন তাই চিন্তা কম আর প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া বেশি,,,,একটুও সুযোগ ছাড়িনি।পথে রাস্তা বেশ ভালোই ছিল তবে আরামবাগ হয়ে যাবার পরই রাস্তায় কাজ হবার জন্য অনেকক্ষণ সময় পার হয়ে যায় পৌঁছতে। হোটেলে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা নেমে আসতে পারে বুঝতে পেরে আমরা হোটেলে পৌঁছানোর আগেই বনলতা তে দুপুরের ভোজন টা সেরে নিই।
                                                                         রাস মঞ্চ

বনলতা কে প্রাকৃতিক ভাবে যতটা সাজানো যায়(সবজি থেকে ফুলের চাষ, এমু পাখি থেকে শুরু করে র্টাকি,কড়কনাথ মুরগি, খাঁটি গরুর প্রতিপালন, পুকুরে মাছের চাষ) বা অথিতি আপ্যায়ন ও বেশ মন ভরিয়ে দেয় তবে বাদ সাধে আমাদের বাঙালি লোভী খাদ্যরসিক মন,,,,,কিছুই ছাড়তে চায় না,,,তাই যথারীতি প্রায় সবরকম রান্নাই স্বাদ আস্বাদন করার ইচ্ছে জাগে (যতটা খাওয়া যায়) কিন্ত একটু নিরাশ হতে হয় কড়কনাথ মুরগির পিস দেখে এবং সঙ্গে টার্কি মুরগির পিসের ও একই অবস্থা।
                                                        রান্নাঘর যা আজ ধ্বংসাবশেষ

তবে ওখানকার মানুষের ব্যবহারে মনটা ভরে গেছে বলে ততটা খারাপ লাগে না,,,,পরের দিন আবার যখন দুপুরের আহার করতে গিয়েছিলাম তখন আর মুরগী না খেয়ে মাছ খাই যা খুবই সুস্বাদু ছিল।
                                                        সাল লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে
                                                                      শ্যাম রাই মন্দির
                                                            
জোড়া বাংলা মন্দির
                                                                
মদনমোহন মন্দির
                                                                 
রাধামাধব মন্দির
যাইহোক বেশ খাওয়া দাওয়া সেরে যখন বিষ্ণুপুর পৌঁছলাম তখন সন্ধ্যায় চারিদিক সেজে উঠেছে আলোয় আলোয়,,,কারণ ওখানে তখন বিষ্ণুপুর মেলা চলছে। যার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখের হয় নি প্রথমেই।
                                                        "তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো ছেড়ে দেবো না"

কারণ আমাদের নির্ধারিত হোটেল বিষ্ণুপুর টুরিস্ট লজ যেটা মেলার খুব কাছেই ফলে চারিদিকের বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয় আর তার জন্য আমাদের আরো প্রায় ঘন্টখানেক ঘুরে বেড়াতে হয় হোটেলে পৌঁছানোর জন্যে।কারণ গাড়ির ড্রাইভার এবং আমরা সবারই প্রথম বিষ্ণুপুর যাওয়া তাই কিছুই চেনা নেই।
                                                                 মা ছিন্নমস্তার মন্দির 

হোটেলে ফোন করলে বলা হয় "আশপাশের লোকজন কে জিজ্ঞাসা করুন তারা বলে দেবে "এতে তাদের বেশ দায়িত্বজ্ঞানহীনের প্রকাশ পাওয়া যায়। পরে অভিজ্ঞতা আরো খারাপ হয় তাদের বানানো চাইনিজ মিক্সড ফ্রাইড রাইস খেয়ে যিনি বানিয়েছিলেন তিনি পোলাও এর সাথে মনে হয় গুলিয়ে ফেলেছিলেন তাই যথেচ্ছ চিনি দেওয়া যেটা খাবারের সাথে মেশে নি পর্যন্ত এবং খাবারের পরিমাণ খুবই কম।এই আতিথেয়তা কে সঙ্গে করে রাতে নিদ্রা যাই।
                                                                    দলমাদল কামান

সকালে ফুলকো লুচির তরকারি আর নলেন গুড়ের রসগোল্লা আর গরম গরম চা খেয়ে হৃদয় তৃপ্ত হলে মন্দির দর্শনে বেরিয়ে পড়ি। শুরু হয় রাসমঞ্চ দিয়ে যা কোনো মন্দির নয়। এটি বানিয়েছিলেন ১৬০০ সালে রাজা বিরহাম।জানা যায় বিষ্ণুপুরের রাজারা এসেছিল রাজস্থান থেকে আর সেখান থেকে আসার পর তারা একসময় বৈষ্ণব হয়ে গিয়েছিল।
                                                                        যদুভট্ট মঞ্চ

সমস্ত বিষ্ণুপুরের রাধাকৃষ্ণের মন্দির থেকে মূর্তিগুলো একজায়গায় নিয়ে এসে শুরু করে রাস উৎসব।তাই নাম দেওয়া হয়েছিল রাস মঞ্চ।এই রাস মঞ্চ টি তিনটি ধর্মের সমন্বয় কে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।মাথার ওপরের দিকটা পিরামিডের মতো(ধাপ বা স্টেপ পিরামিড),মাঝখানটা তৈরি করা হয় বাংলার ঐতিহ্য বজায় রেখে দোচালা - চারচালার ন্যায়( চারটে কোণে যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা চারচালা - বাংলা মন্দিরের ন্যায়,যেটা বড় সেটা দোচালা),এবং নিচের দিকটা ইসলামিক স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়।এর পর যাই শ্যামরাই মন্দির।
                                                            ডোকরার অনবদ্য সৃষ্টি
                                                            
বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্য


শিল্পীদের কুর্নিশ না করলে নিজেকেই ছোটো মনে হবে নিজের কাছে।রাস চক্র থেকে শুরু করে শ্রী রামের যুদ্ধের বর্ণনা অবাক হতে হয় কি অক্লান্ত পরিশ্রমের সৃষ্টি তারা করে গেছে।প্রতিটি কাজ এত নিখুঁত ও নিপুণ ভাবে সম্পন্ন করা যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
                                                                    বনলতা এমু পাখি

ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই জোড়া বাংলা মন্দির, মদনমোহন মন্দির, রাধামাধব মন্দির দর্শনে।এর পর যাই মা ছিন্নমস্তা মন্দিরে যেখানে মায়ের ছবি তোলা নিষেধ তাই দর্শন করে দলমাদল কামান দেখা হয়ে গেলে যাই মা মৃন্ময়ী দেবীর মন্দিরে।গঙ্গা মাটি দিয়ে তৈরি বলে মায়ের নাম দেওয়া হয়েছে মৃন্ময়ী।মূর্তিতে শেষ রঙ করা হয়েছে ২০১৮ সালে তাও নাকি স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর।পাশেই রাখা আছে একটি ছোটো কামান যা নাকি অষ্টমী এবং নবমী পুজোর সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ সন্ধিপুজো শুরু হয় ওই কামান ফায়ারিং করে।তারপর পথে পরে যদু ভট্ট মঞ্চ যিনি বিষ্ণুপুরের কাদাকুরি গ্ৰামে জন্মেছিলেন এবং ছোট বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগীতের শিক্ষক ছিলেন। এরপর আমরা চলে যাই গনগনিতে মা নাকি বাংলার গ্ৰ্যান্ড ক্যানিয়ন। ভীষন সুন্দর ভাবে প্রকৃতি তার রূপকথায় সাজাতে চাইলেও কিছু মানুষের জন্যে তার সুন্দরতা হারাতে চলেছে। খুব শীঘ্রই এর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।না হলে অচিরেই তা নষ্ট হবে।
                                                                লাল মাটির পথে

এবার ফেরার সময় তাই দ্বিতীয় দিনে আমরা প্রথমেই পৌঁছে যাই জয়পুর জঙ্গলে (জঙ্গল যেমন হয় ঠিক সেইরকম কোনো বিশেষ প্রাণীর দেখা আমরা পাই নি তবে ভালো লেগেছে প্রকৃতির নিজস্ব সৃষ্টিকে উপভোগ করতে),,,,,কিছুটা সময় কাটিয়ে বনলতা তে দুপুরের আহার সেরে কলকাতা ফেরা।
কিছু জরুরী তথ্য -----------
***কলকাতা থেকে ড্রাইভার সমেত বিষ্ণুপুর যাওয়া আসা Innova Crysta তে ১২০০০ মতো।
***হোটেল দুদিন (Bishnupur tourist lodge) ট্যাক্স সমেত ১০০০০ মতো (breakfast free)।
***বনলতা তে একবেলার আহার ১৩০০-১৪০০।

Sinatra Sen

Saturday, March 7, 2020

জয়রামবাটি কামারপুকুর Joyrambati Kamarpukur

 এসেছি জয়রামবাটি, আজ অবশ্য কামারপুকুর মানে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মস্থান তাঁর বেড়ে ওঠার জায়গা দেখেছি, আছি জয়রামবাটিতে, হোটেল অনন্যাতে, কাল সারদামনির জন্মস্থান দেখবো, ফেরার পথে মশাটের কাছে রাবড়িগ্রাম হয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।

মাঠ এখন হলুদ,সবুজ রঙের কোলাজ। ধান কাটা সারা হয়েছে,জমিতে আলু, হুগলি জেলার আত্মপরিচয়ের ফসল আলু। যদ্দুর চোখ যায় শুধু হলুদ আর সবুজের সমাহার।


বহুকালের ইচ্ছে আজ বাস্তব রূপ পাচ্ছে বলে ভালো লাগছে। দুটো ট্যুর বাতিল হয়েছে, মার্চ মাস থেকে কোভিড ও আম্ফান পরিস্থিতিতে জনবিজ্ঞান সংগঠনের লাগাতার কাজে এবং অফিসের জন্য ঘরের বাইরেই তো কাটলো কিন্তু বেড়াতে যাওয়ার,ফুসরৎ কোথায় হলো। আজ বেরোলাম এতোদিন পরে, পায়ের তলার সর্ষেগুলোর একটু আরাম হলো।

                                                                 রামকৃষ্ণের বসতবাটি

একরাত দুদিনের ট্যুরে বেড়িয়েছি আজ সকালে, বাড়ি পাতিপুকুর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে জয়রামবাটি, ৩ ঘন্টা সময় নিয়েছে আসতে। রাস্তায় প্রাতরাশ করে দুপুরের খাওয়া হোটেলে সেরে কামারপুকুর। কোভিডের জন্য এখানে এখন সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে ১১ টা আবার বিকেল সাড়ে ৩ টে থেকে সাড়ে ৫ টা খোলা থাকে কামারপুকুর,জয়রামবাটির মন্দির।

                                                                লাহা বাড়ি , গদাধরের পাঠশালা
                                                                        গদাধরের পাঠশালা

গাড়ি থেকে নামতেই মহিলা গাইড সঙ্গী হলো, তিনিই বলতে বলতে আমাদের পথ দেখিয়ে স্থান মাহাত্ম বর্ণনা করতে করতে এগিয়ে চললেন।
                                                                            সাদা বোঁদে
শুরু হলো লাহা পাড়া দিয়ে, এখানেই গদাধরের পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি থাকতেন কামারপুকুরের ২ মাইল পশ্চিমে ধদেড়েপুর গ্রামে, জমিদার বললেন মিথ্যে সাক্ষি দিতে হবে নাহলে গ্রাম ছাড়তে হবে, ক্ষুদিরাম গ্রামই ছেড়েছিলেন, তাঁর বাড়ি আর ১৫০ বিঘে জমি নিলাম করে দিয়েছিলেন জমিদার। এই অবস্থায় কামারপুকুরে ক্ষুদিরামকে আশ্রয় দিয়েছিলেন বন্ধু সুখলাল গোস্বামী, জমিদার দুর্গাচরণ লাহার সাথেও হয়েছিল বন্ধুত্ব।
                                                                        কামাপুকুর
                                                                    লাহাদের মন্দির

গাইড দেখালেন লাহাদের বাড়ি, মন্দির, বালক গদাধরের পাঠশালা। গদাধরের পঠন পাঠনে তেমন আগ্রহ ছিল না, আর অঙ্কে তো নয়ই, তার ধ্যান জ্ঞান অপার্থিব জগৎ, ঈশ্বর নিয়ে, ছাড়লেন পাঠশালা তবে হাতের লেখা ছিল চমৎকার, দক্ষিণেশ্বরে তার হস্তাক্ষর রক্ষিত আছে।
গদাধরের যখন তখন বাহ্যজ্ঞান লুপ্তিতে, বিপদ আশঙ্কায় মাতা চন্দ্রমনি দেবী গোপেশ্বর শিবমন্দিরে হত্যে দিয়েছিলেন।
কামারেরা পুকুর খনন করেছিলেন বলে নাম কামারপুকুর, এর একদিকে আকাশচুম্বী অট্টালিকার নির্মাণ চলছে এখন।
দুর্গাদাস পাইনের বসতবাটি

দুর্গাদাস পাইন ছিলেন রক্ষণশীল, বাড়ির অন্দরমহলে মহিলাদের কাছে পুরুষদের প্রবেশ নিষেদ,গদাধর মেয়ে সেজে বাড়ির অন্দরমহলে গিয়ে মহিলামহলের সাথে আলাপ করে ফিরে যাওয়ার সময় দুর্গাদাস পাইনকে বলে যান, "এসেছিলাম মহিলামহলে। " দেখলাম সে বাড়ি।
                                                            দানি কামারনীর বাড়ি, মন্দির

গদাধর অভিনয় করেছিলেন শ্রীনাথ পাইনের বাড়ির নাট্টমঞ্চে, বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়াতে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, দেখলাম সে বাড়ি আর নাট্টমঞ্চ।
দানি কামারণী গদাধরকে পরিচর্য্যা করেছিলেন, গদাধরের পৈতের সময় তাকে বলা হলো," তোমার ভিক্ষে মা কে হবেন? " গদাধর বলেছিলেন, দানি মার কথা, আপত্তি হলো, দাদা রামকুমার বললেন, " আমাদের বাহ্মণপরিবারে অন্য বর্ণের মানুষের থেকে ভিক্ষে মা হবার রীতি নেই, বেঁকে বসেছিলেন গদাধর, শেষে বাবা ক্ষুূদিরাম বলেন, " আমাদের পরিবারে এ রীতি নাও থাকতে পারে অন্য বাহ্মণ পরিবারে এ রীতি আছে, ফলে লোক নিন্দে হবেনা। " রইল গদাধরের কথা, ভিক্ষে মা হলেন দানি কামারণী। তাঁর বাড়ি ও মন্দির দেখলাম।
                                                               গোপেশ্বর শিব মন্দির

দেখলাম গদাধর বন্ধুদের নিয়ে যে পুকুরে স্নান করতেন, সেই হালদার পুকুর।
সবশেষে গদাধর - শ্রীরামকৃষ্ণের বসতবাটি, এটিতে নির্মিত হয়েছি মন্দির, পাশে মাটির বাড়ি, খড়ের চালাঘর এখনও আছে। ফুলের সমারোহ চারদিকে, খুব সুন্দর, মনোরম জায়গা, বেরিয়ে উল্টোদিকে রয়েছে অফিস, বুক স্টল, স্মারক স্টল। কিনলাম দুএকটা বই।
                                                                 শ্রীনাথ পাইনের বাড়ি ও নাট্যমঞ্চ

সবশেষে কিনলাম, কামারপুকুরের বিখ্যাত সাদা বোঁদে। ছানার গজা মোটে ৫ টাকা,পেল্লায় সাইজের ল্যাংচা মোটে ১০ টাকা। একধরণের মেয়া বা লড্ডুও বেশ খেতে, দাম ৫ টাকা।
খুব সুন্দর কাটলো বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে পর্যন্ত। বহুদিনের বাধা সরিয়ে আজ যে আসতে পারলাম, খুব ভালো লাগছিল।
আমরা টেম্পো ট্রাভেলরে এসেছি, ৩০ টাকা প্রতি কিলোমিটার বা ৩০০ টাকা প্রতি ঘন্টা দরে। যেটা বেশি সেটাই দিতে হবে, রাতে থাকার জন্য অতিরিক্ত ২০০ টাকা।এরসাথে ড্রাইভারের থাকার ঘর এবং খাওয়া।
ভালোই ভীড় হয়েছিল, হয়েছিল লম্বা লাইন।
আমরা জয়রামবাটিতে হোটেল অনন্যাতে উঠেছি,নির্জনতায় মোড়া, ১ মাইলের মধ্যে কোনও দেকান নেই, মনে হয় ধান আর আলু ক্ষেতের মধ্যই বসে আছি আমরা।আমরা ১২ জন, ৪ টে ডবল রুম ৬০০ টাকা করে, আর একটা ৪ বেডের বিরাট ঘর, এসি সমেত ১২০০ টাকা, খাবার খরচও কম।
আজ সকালে পাতিপুকুর থেকে ডানলপ হয়ে ডানকুনি,ডানকুনি থেকে বাঁদিকে টি এন মুখার্জী রোড হয়ে অহল্যাবাঈ হোলকার রোডে পড়ে চন্ডীতলা,মশাট, শিয়াখোলা,ইলাহীপুর,দীপা,চাঁপাডাঙা,সাইদপুর,পানপেত,জয়রামপুর আরামবাগ,গোগাট, কালীপুর হয়ে কামারপুকুর হয়ে জয়রামবাটি পৌঁছেছি।
কাল জয়রামবাট, সারদামনির জন্মস্থান দেখে হোটেলে দুপুরের খাওয়া খেয়ে মশাটের অদূরে রাবড়ি গ্রামের রাবড়ি আর মশাটের বিখ্যাত দই খেয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।

Sourav Chakrabarti

Thursday, December 26, 2019

বিসিন্দা পাহাড় - বাঁকুড়া, Bisinda Pahar Bankura

 আজ একটা অন্যরকম ভ্রমণের গল্প বলবো, অফ বিট স্পট ঘুরতে যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য এই যায়গা টা অতীব মনোরম......তো চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করি....

এখন মানুষের জীবনে সব থেকে দামি হলো 'সময়' , আর ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্রথম যেটা দরকার সেটা হলো 'সময়'।। তো হাতে ছিল বড়দিনের ছুটি তার সাথে আর একদিন জুড়ে দুদিনের ছুটি বের করলাম, ছুটি তো বেরোলো.... যাবো কোথায়??

অনেক ভিডিও দেখা হয়ে গেলো অনেক রিসার্চ করে ফেললাম....এই করতে করতে একটা সুন্দর যায়গা পেয় গেলাম....নাম "বিসিন্দা", বাঁকুড়া শহর থেকে ৩২কিমি দূরে অবস্থিত ছোট টিলা আর জঙ্গলে ঘেরা এই বিসিন্দা (গঙ্গাজল ঘাটি থেকে ৮.৯ কিমি, ২০মিনিটের রাস্তা)।।

ভোর ৫টা থেকে বেরোনোর তোড়জোড় চলছে কিন্তু বেরোনো হলো সকাল ৭টা নাগাদ , প্রতি বারের মতো এবারেও সময় মতো বেরোনো হলোনা 😂 , তো যাইহোক গাড়ির চাকা ঘোড়া শুরু হলো মাজখানে একবার চা আর একবার জলখাবার এর জন্য গাড়ি দাড়িয়েছিল, বিসিন্দায় যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় দুপুর ১টা বাজে, আশপাশের পরিবেশ দেখে তো আমরা এক কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম, আমরা ছিলাম "মা নাচন চণ্ডী অতিথী নিবাসে"(গঙ্গাজল ঘাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এর অন্তর্গত এই লজ) বিশাল বড়ো জায়গা জুড়ে দুটো সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দুটি ঘর (এক একটি ঘরে এক্সট্রা বেড নিয়ে ৬জন আরামে থাকা যাবে, একটি বাথরুম একটি বারান্দা)

সামনেই একটি ঘরে রান্না হয়, সামনে চারিদিকে জঙ্গল ছোট ছোট টিলা আর পেছন দিকে ধানক্ষেত, চোখ জুড়িয়ে গেলো সেই দৃশ্য দেখে।।
পৌঁছানোর সাথে সাথেই দুপুরের খাবার রেডি, (আগের দিন জানিয়ে দিতে হয়েছিল খাবারের কথা)
শাল পাতার থালায় পরিবেশন শুরু হলো, প্রথমেই এলো স্যালাড, ভাত, মুগের ডাল, পোস্ত, বেগুন ভাজা, আলু ফুলকপি ভাজা, বাঁধাকপির তরকারি, কালবোস মাছের ঝাল আর শেষ পাতে চাটনি, পাঁপড় ভাজা।।

খাওয়াদাওয়া সেরে হালকা বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পরলাম অচেনা গ্রাম পরিদর্শনে, আমাদের লজেই একজন ভদ্রলোকের সাথে আলাপ হলো ওনার নাম বনমালী মন্ডল, উনি ওখানেরই একটি গ্রামের বাসিন্দা।। ওনার কাছে আবদার করে বসলাম দাদা আপনাদের গ্রামের পাড়ায় একটু ঘুরতে চাই, তো ওনার সাথে সাথে চললাম মাঠ ঘাট পেরিয়ে সুন্দর গ্রাম বাংলার পরিবেশ অনুভব করতে করতে তাঁর পাড়ায়, সে কি বলবো আমরা তো এখানে কংক্রিটের জঙ্গল আর পাহাড় থেকে বেড়িয়ে সেই গ্রামে যেতে মনে হলো যেনো কোনো অন্য জগতে চলে এসেছি, চারপাশে মাটির বাড়ি , সন্ধ্যে সন্ধ্যে হচ্ছে তখন, ঠান্ডা ও বাড়ছে, আর বনমালীদার বাড়ির লোক আমাদের চা না খাইয়ে ছাড়বেন না, সেখানে খাটিয়ায় বসে চা খেয়ে যখন উঠলাম
                                                                
তখন অন্ধকার নেমে এসেছে আর ঠান্ডা তখন তুঙ্গে, প্রায় ১.৫-২ কিমি মাঠ ঘাট জঙ্গলের অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে যখন লজে ফিরলাম তখন প্রায় সন্ধে ৬:৩০টা বাজে, সেই গ্রাম থেকেই চপ নিয়ে এসেছিলাম আর বনমালী দা তাদের ঘরে ভাজা মুড়ি খেয়ে ঘরের সামনে কাঠ জালিয়ে বসে পরলাম আগুন পোহাতে, প্রচন্ড ঠান্ডা সামনে আগুন জ্বলছে পাশ থেকে শেয়ালের ডাক আর জঙ্গলের অন্ধকার যেনো গিলে খেতে আসছে আমাদের, যদিও ভয়ের কোনো কারণ নেই.... সেই অন্ধকার ভয়ংকর পরিবেশ কে উপভোগ করতে বেরিয়ে পরলাম রাতের জঙ্গল ভ্রমণে 😂 আসলে অ্যাডভেঞ্চার প্রীয় মানুষ তো, এইসব ছাড়া টুর সম্পূর্ণ হয়না 🤭 রাস্তার দুপাশে জঙ্গল মাথার ওপর চাঁদ, টর্চ জালার কোনো প্রয়োজন হয়নি।।

                                                                তপোবন আশ্রম

আর বেশি বাহাদুরি না দেখিয়ে ফিরে এলাম লজে😛, আরো বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করতে করতে রাত ১০টা বাজলো আর তার সাথে সাথেই ডাক পড়লো রাতের খাবারের জন্য, ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে গেলাম রান্নার ঘরে , টেবিলে রাখা কসা মুরগির মাংস আর গরম গরম রুটি দেখে সব ঠান্ডা নিমেষেই গায়েব 😍 ওখানের প্রধান রাঁধুনি হলেন কাঞ্চন দা , ওনার হাতে সত্যিই জাদু ছিল আপনি যেই পদ টা যেভাবে খেতে চাইবেন সেটা সেই ভাবেই উনি আপনাকে পরিবেশন করবেন।।
বিষ্ণুপুর মেলা
                                                                        বিষ্ণুপুর মেলা
রাতের খাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পরলাম, পরেরদিন সকালে খেজুর রসের আবদার করেছিলাম কাঞ্চন দার কাছে, ব্যাস ঘুম থেকে উঠে ভোর ৬টা নাগাদ একটু হাটতে বেড়িয়েছিলাম এসে দেখি খেজুরের রস এসে হাজির
😍 রস খেয়ে ফ্রেশ হোয়ে চলে গেলাম মা নাচন চণ্ডী মন্দির দর্শন করতে, লজ থেকে ৫ মিনিটের হাঁটা পথ, সামান্য কিছু সিড়ি উঠলেই মা এর মন্দির,
                                                                মা নাচন চণ্ডী মন্দির

মন্দির বলতে আমরা যা ভবি সেটা নয় সেটা আপনারা ছবিতে বুঝতে পারবেন, কিন্তু খুব সুন্দর লাগবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস মন থেকে মা এর কাছে যা চাওয়া হয় মা ভক্তকে তাই দেন।। সেই মন্দিরেই থাকেন এক সাধু বাবা, নাম "সন্ত বাংলা প্রসাদ" উনি নিজে আমাদের মন্দির ঘুরে দেখালেন, মন্দির এর ঠিক পাশ দিয়েই একটি ছোট পাহাড়ি রাস্তা উঠে যাচ্ছে ওপরের দিকে, সেই ভাঙাচোরা পাহাড়ের রাস্তা পেরিয়ে উঠে গেলাম পাহাড়ের ওপর, রাস্তা টা একটু দুর্গম কিন্তু সেখান দিয়ে যা দৃশ্য দেখলাম তার কাছে সেই দুর্গম রাস্তা কিছুই নয়, পাহাড় থেকে নামার পর সাধু বাবা আমাদের নিজে হাতে চা বানিয়ে খাওয়ালেন, উনি কোনরকম টাকা পয়সার ভিক্ষা করেন না, ওনাকে যে যেটুকু দান করেন উনি সেটুকুই গ্রহণ করেন।।
সেখান থেকে আসার পর ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পরলাম বিষ্ণুপুরের উদ্দেশ্যে, ফেরার সময় একটি জায়গা গেলাম , কোরো পাহাড়ে অবস্থিত তপোবন আশ্রম, এখান থেকেও চারপাশের দৃশ্য বেশ মনোরম, বিষ্ণুপুরের মেলা দেখে ছিন্নমস্তা মা এর মন্দির দর্শন করে (অনেকবার বিষ্ণুপুর ঘুরেছি,তাই আর বেশিক্ষণ দারাইনি) রওনা দিলাম বাড়ির দিকে....বাড়ি যখন ফিরলাম তখন ঘড়িতে সন্ধ্যে ৮:৪৫।।
সব মিলিয়ে বলা যায় কেউ যদি দুদিনের জন্য ব্যাস্ত জীবনযাপন থেকে ছুটি নিয়ে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান তাঁর জন্য বিসিন্দা পাহাড় হলো এক কথায় সেরা ঠিকানা।। নিচে কিছু মোবাইলে তোলা ছবি দিলাম, দেখতে পারেন আসা করছি খারাপ লাগবেনা আর কিছু ফোন নম্বর দিলাম, যারা আসতে চান তাঁরা কন্টাক্ট করে নিতে পারেন।।
কৈলাস দা- 6297592660(বুকিং এর জন্য ফোন করতে পারেন)
উজ্জ্বল দা - 8617076472
রাজু দা(গাড়ি) - 9836515439 (যদি হাওড়া সালকিয়া অথবা সালকিয়ার আসে পাশে থাকেন তবেই ফোন করবেন)

Sandipan Karar