• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Showing posts with label darjeeling. Show all posts
Showing posts with label darjeeling. Show all posts

Saturday, January 9, 2021

সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 2 - Sandakphu Trek, Part 2

 সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 2

16th ডিসেম্বর 2020 টংলু
====================
সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই বাইরে বেরিয়ে দেখি রোদের আলোতে ঝলমলে কাঞ্চনজঙ্ঘা... আমি যদিও একটা পিক এর নাম জানিনা.. কিন্তু ওই যে তুষার শুভ্র পর্বত ওটাই যেন আমার কাছে সব কিছু, শুধু আমার কাছে কেন আপামর বাঙালি র কাছে একমাত্র আকর্ষন...

চা খেয়েই ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পাশেই একটা উঁচু জায়গা আছে যেখান থেকে পুরো জায়গা টা 360 ডিগ্রি তে দেখা যায়.. সব ভালো শুধু মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা আর হাওয়ার দাপট টুকু ছাড়া
এই প্রসংগে বলে রাখি টংলু তে GTA এর ট্রেকার Hut এ ছিলাম... বুকিং হবে কলকাতা র গোর্খাভবন থেকে.. ওখানে গিয়েই বুক করতে হবে.. অনলাইন বা ফোন এ হবেনা..তবে আপনি যদি টুমলিং এ থাকেন সেখানে থাকার অনেক Home Stay পেয়ে যাবেন... তবে সুযোগ পেলে টংলু তে থাকুন কারণ ওখান থেকে দেখা সূর্যাস্ত কোনোদিন ভুলতে পারবেন না


সকাল 9.00 AM
============
প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছে গেলাম টুমলিং... এবার ট্রেকিং রাস্তা আর গাড়ি চলাচল এর রাস্তা একইসাথে... কিছুটা গিয়ে সিংগালিলা ন্যাশনাল ফরেস্ট এর অফিস এ পারমিশন মানে Entry পাস নিতে হবে.. রেজিস্টার এ Signe করবেন গ্রুপের হেড.. আধার কার্ড থাকলেই হবে একজনের.. আর লাগবে 120 টাকা প্রতিদিন প্রতিজনের সান্দাকুফু ট্রেক করার জন্য...


আবারো পথ চলা শুরু... প্রায় তিন কিলোমিটার চলে বিরতি নিলাম নেপালের ছোট্ট একটা গ্রাম জৌবারী.... এখানে বেশ কিছু Home স্টে আছে... জায়গা টা খুব সুন্দর ।।চাইলে এখানেও রাত্রিবাস করতে পারেন...
জৌবারী থেকে আরো 3 কিলোমিটার পথ চলে গৈরিবাস, খুব ইন্টারেস্টিং জায়গা.. ভারত আর নেপালের মাঝে এমন একটা গ্রাম... যেখানে হাঁটার সময় ডান পা পড়বে ভারতের মাটিতে... বাম পা পড়বে নেপালের মাটিতে ।।।


পৌঁছে একটু বিরতি নিলাম... এবার আমার স্যাক টা পাঠিয়ে দিলাম কালিপোখরী.. ট্যুরিস্ট গাড়ি ছিলো একটা তাতেই উপায় হলো, তবে এর জন্য 100 টাকা দিতে হলো
গৈরিবাস এও চাইলে রাত্রি বাস করা যায়.. আমরা Momo খেলাম স্থানীয় দোকান থেকে... অপূর্ব স্বাদ
এরপর পথ উঠে গিয়েছে ওপরের দিকে.. গাইড বললো দুই কিলোমিটার এই ভাবেই উঠতে হবে.. আমরা সেই ভাবেই এগিয়ে গেলাম..তবে এক্ষেত্রে সুবিধা হলো মাঝে মাঝে শর্ট কাট গুলো... এই ব্যপারটা শিখেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে কেদারনাথ ট্রেক করার সময়


আমরা দুজন অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি... সামনে এগোবো কিনা ভাবছি কারণ রাস্তা না ভুল হয়ে যায় ওটাই ভয়... এমন সময় কোথা থেকে হাজির এক পাহাড়ি কুকুর... নিজেই আগে আগে চললো পথ দেখিয়ে.. যদিও আমাদের দেওয়া বিস্কুট সে ভদ্র ভাবেই নাকচ করলো... অভিমান কিনা বুঝতে পারলাম না..
চলতে চলতে নির্জন রাস্তায় হটাৎ মেঘ এসে সব যেন অন্ধকার করে দিলো. দাঁড়িয়ে পড়লাম. তারপর মেঘ কেটে গেলে চলা শুরু.. পৌঁছে গেলাম আরো একটা পাহাড়ি গ্রাম কাইয়াকাটা..


মানুষ দার্জিলিং সিকিম এ যায় বেড়াতে.. কিন্তু এই পর্বে আমার একটা কথা বার বার মনে হচ্ছিলো যারা এই সান্দাকুফু ট্রেক করবে... তাদের কাছে আর কোন কিছুই ভালো লাগবেনা কারণ প্রকৃতি এখানে অনবদ্য অতুলনীয়
।কাইয়াকাটা পৌঁছে স্থানীয় একটা সরাইখানা থেকে কফি নিলাম.. ক্লান্ত শরীরে যেন নতুন উৎসাহের সঞ্চার হলো.. কিছু সময় পরে টিম এর বাকি মেম্বার রা চলে এলো আবারো পথ চলা..
তবে এবার একটু দ্রুত কারণ বেলা পরে আসছে সন্ধ্যার আগে কালিপোখরী পৌঁছাতে হবেই
কিন্তু পথের যেন শেষ নেই.. যদি ও রাস্তা প্রায় সমান... কিন্তু এই শেষ চার কিলোমিটার এর যেন শেষ নেই.. অনেকটা চলার পরে নির্জন রাস্তায় গাড়ির আওয়াজ এ চমক কাটলো, একটা যাত্রী হীন ল্যান্ডরোভার যাচ্ছে... নেহাত মজার ছলে লিফ্ট এর ঈশারা করতেই ড্রাইভার মুচকি হেসে ইঙ্গিত দিলো উঠে বসতে, ব্যাস আর কি চাই.. এই অভিজ্ঞতাও হয়ে যাবে, তবে গাড়ি চলতে যখন শুরু করলো.. বাপরে বাপ... সে ই যে ঝাঁকুনি
ভাগ্যিস রাস্তা খুব সামান্যই ছিলো নাহলে ড্রাইভার কে অনুরোধ করতাম নামিয়ে দিতে


গাড়ি থেকে কালিপোখরী তে নেমেই দেখি চারিদিক রাঙা করে সূর্য অস্তাচলে, আরো এক মহেন্দ্রক্ষনের সাক্ষী হতে যাচ্ছি আমরা. ঠিক গতকাল বিকেলে টংলু তে এই রকমই একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে
সেই মুহূর্তে র সাক্ষী থাকলাম আমি সৌরভ আর কালিপোখরী র পুকুর
এরপর ঠান্ডা আর ক্লান্তি কে কোন কস্টে সহ্য করে শরীর টা প্রায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চললাম একটু কাছেই আজকের আশ্রয় CHEWANG LODGE


এটা বুক করেছিলো আমাদের গাইড.. সত্যি অসাধারণ... ভাড়া বেড পিছু 300 টাকা.. আর ওপরে দুটো রুম এর বেড 800 টাকা.. ওটাই নিলাম.. তারপর আন্টির তৈরি লাল চা. পড়ে দুধ চা খেয়ে শরীর পুরো জুড়িয়ে গেলো... 13 কিলোমিটার পথ চলার জার্নি কোথাও হারিয়ে গেলো
রাতের আহার ছিলো 200 টাকা মিল সিস্টেম সব্জি ভাত ডাল আলুভাজা, চিকেন 4 পিস 100 টাকা
এরপর ঘুমের দেশে


17th ডিসেম্বর..
============
সকালে ঘুম যখন ভাঙল তখন সকাল 8 টা.. উঠে চা খেয়ে পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়লাম কালিপোখরী লেক টা দিনের আলোতে ভালো করে দেখব বলে
এখানে মোবাইল এ কোন নেটওয়ার্ক নেই.. এই হোম স্টে থেকে বাড়িতে একটা ফোন করেছি. ISD কল 10 টাকা নিয়েছে এক মিনিটে
যাইহোক একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম সব জায়গার জল জমে গেলেও কালিপোখরী র জল কিন্তু জমেনি, স্থানীয় মানুষের কাছে এই পুকুর খুব পবিত্র তারা মনে করে এই পুকুরে বাস করে কালনাগ তাই এই জল কোনোদিন জমেনা
একটু পরেই দেখি মোবাইল এ নেটওয়ার্ক এসেছে
দরকারী ফোন গুলো করে নিলাম... ফিরে এসে ব্যাগ গুলো গুছিয়ে তৈরী হয়ে নিলাম সান্দাকুফু ট্রেক এর জন্য.. এর জন্যই তো এতো কষ্ট সহ্য করা.. রাস্তা যদিও 6 কিলোমিটার কিন্তু শুনেছি অনেকে হাঁটতে না পেরে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো অবস্থা হয়
কথাটা যে কতোটা সত্যি সেটা চলার পথে বুঝেছিলাম
যাইহোক আগামী পর্বে সেটা নিয়েই লিখব আর ওটাই হবে সান্দাকুফু অভিযানের শেষ পর্ব
বলে রাখি গাড়ি করে যেতেই পারবেন তবে একবার যদি সম্ভব হয় এই ট্রেক টা করে নিয়েন.. অনেকেই বলবে খুব কঠিন অনেকে বলবে খুব সহজ, কিন্তু আপনি কি বলবেন সেটা ই সব থেকে বড়ো কথা
আমিও করেছি প্রতিটা মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দী তৈরি করেছি অভিযানের পর্ব গুলো গল্পের মতো করে.. কেন জানেন? বৃদ্ধ বয়সে স্মৃতিচারণের জন্য

জীবনে কিছু থাকবে না. থাকবে এই অভিজ্ঞতা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার অনুভূতি
এই পর্বের ভিডিও গুলো দেখতে পারেন নিচের লিঙ্ক গিয়ে...তৈরি হতে পারেন আগামী দিনে অভিযানের জন্য
https://youtube.com/c/TravelWithKoushik
ভালো থাকুন সবাই....


Koushik Paul

Sunday, January 3, 2021

সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 1 - Sandakphu Trek, Part 1

সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 1 

13th ডিসেম্বর 2020

===============
খাগড়া ঘাট স্টেশন এর 3 নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে আপ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস.. প্ল্যাটফর্ম এ অন্ধকার.. লাইট গুলো কোন কারনে অফ.. বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে কপালের কোনা টা কেটে গিয়েছে... জানিনা কেন আজকে সময় বার বার কোন অশুভ সংকেত দিয়ে আগামী সঙ্কট থেকে আমাকে আটকে দিতে চাইছে.. এতো জায়গায় বেড়াতে গেলাম কিন্তু এই প্রথমবার বাড়ির লোক খুব আপত্তি করেছিলো.. অজানা অচেনা মানুষ সব.. ভরসা বলতে কেদারনাথ আর আমার সিউড়ি র বন্ধু সৌরভ.. আর একজনের প্রবল টান.. আর সেই টান নিয়ে আজকের গল্প শিখরে বাঙালি সান্দাকুফু ট্রেক


অনেকেই বলবেন ও তো বহুবার গিয়েছি, খুব সহজ, সাধারন লেভেল এর ট্রেক.. কিন্তু আমার কাছে হয়তো অন্যকিছু
14th December 2020
==================
ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই রাত 2.30 এ NJP নামিয়ে দিলো.. মোবাইল এর ফ্ল্যাশ লাইট দিয়েও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলাম না.
অপেক্ষা র পরে গাড়ি করে রওনা দিলাম ধোতরে র পথে সুকনার পথ ধরে কার্শিয়াং কে পাশে ফেলে ঘুম স্টেশন পেরিয়ে লেপচা জগতের থেকে দেশ থেকে 5 কিলোমিটার পরে রাস্তার ডান দিকের মোড় ধরে এগিয়ে গিয়ে মানেভঞ্জন থেকে আরো 18 কিলোমিটার পরে পৌঁছে গেলাম ধোতরে..
👉8500 ফুট ওপরে উঠে ঠান্ডা বেশ ভালো ভাবেই জানান দিলো তার অস্তিত্ব.. আশ্রয় হলো গাইড নীমার হোম স্টে কাম ট্রেকার হাট
বেড পিছু 200 টাকা..


👉জানলা খুলে দিলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা র সাথে গল্প করা যায়.. এরপর হাজির হলো গরম গরম চিকেন Momo.. আট পিস করে জন প্রতি...
একটু ধাতস্হ হয়ে গাইড এর সাথে বেরিয়ে পরলাম ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম টা ময়না করতে, ভিউ পয়েন্ট গুলো দেখতে...
🍜দুপুরে আহার মিললো ভাত, ডাল, সব্জি চার পিস করে চিকেন পেঁয়াজ লঙ্কা আর পাপর ভাজা
সন্ধ্যা বেলা চা খেয়ে টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পাহাড়ি গ্রাম টা কে নিশাচর এর মতো ঘুরে দেখতে..রাতের আহার ছিলো রুটি আর ডিমের কারী...
😊এরপর তলিয়ে গেলাম ঘুমের দেশে.. ঠাণ্ডা এতো ইচ্ছে করছিলো কালকেই ঘুম থেকে উঠে বাড়ি ফিরে যাই কিন্তু সময় হয়তো আমার জন্য অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলো


15th December 2020
=================
ঘুম ভাঙল কিসের যেন আওয়াজে.. দেখি রুমের ভেতরে ধুপ ধাপ শব্দ.. তারপর ওরা সবাই জানলা দিয়ে এক এক করে.. ওই গানের লাইন টা ঘুম থেকে উঠেই দেখি বউ পালালো জানলা দিয়ে..
👉আসলে ভোরের আলোতে কাঞ্চনজঙ্ঘা তখন অপরূপ.. সেই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করতেই সবাই... বাইরের দরজা বন্ধ কিনা..
👉এরপর সকাল হলো.. বাইরে তখন অদ্ভূত এক দৃশ্য.. রাতের শিশির মিহি তুষার কনা তে জলে রয়েছে পুরো উপত্যকা জুড়ে.. বাড়ির ছাদ থেকে মাঠের ঘাস সর্বত্র একই চিত্র..


👉চা পর্ব শেষ করে বাথরুমে গেলাম.. ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই প্রকৃতির ডাকে যেতেই হবে.. তবে কাজ শেষ এ প্রথম বার ধোয়ার পরিবর্তে মুছে নিতে হলো সৌজন্যে টিস্যু পেপার
এরপর Maggi ব্রেক ফাস্ট সেরে প্রস্তুত হলাম টংলু অব্দি ট্রেক এর জন্য.. সকাল 9:30 এ যাত্রা শুরু.. পিঠে ব্যাগ হাতে বাঁশের লাঠি যেটা খুব সাপোর্ট দিয়েছে...


👉এরপর বন জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম এক অদ্ভূত দেশে.. যেখানে মেঘ গুলো খুব দ্রুত চলাচল করছে.. দূরে গরু গুলো মনের সুখে ঘাস খাচ্ছে.. তাদের গলায় বাঁধা ঘন্টা অদ্ভূত শব্দ সৃষ্টি করছে...
👉একটু ওপরে একটা রাস্তা গাইড বলল ওটাই টংলু শুরু হলো হাঁটা.. কিসের যেন আকর্ষন.. অবশেষে ট্রেকিং রাস্তা মিশে গেলো গাড়ি চলার রাস্তায়... কাঞ্চনজঙ্ঘা বার বার মেঘ এর আড়ালে কিংবা সামনে..
চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ.. যেন কোন যুদ্ধ জয়ের পরের দৃশ্য... ঘড়ির কাঁটা বলছে বিকেল 4 Pm..
টংলুর ট্রেকার হাট এ পৌঁছে সামান্য বিশ্রাম এর পরই ছুটে গেলাম.. কারণ ওই যে মেঘের দেশে সূর্য অস্ত যাচ্ছে.. আবারো রাত নামছে পাহাড়ে র বুকে.. ওই যে দূরে টুমলিং...
👉ফিরব পরের পর্বে এর পরের গল্প নিয়ে..
আজকের এই পর্বের ভিডিও শেয়ার করলাম যারা ট্রেক করেছেন বা করবেন তাদের আশাকরি মন ছুঁয়ে যাবে....
👉 https://youtu.be/sWa2vPalM8c 👈

🙏তবে আপনারা ভাবছেন সব তো ভালো খারাপ টা কি তবে? সেদিন আমিও জানতাম না খারাপ টা কি আজকে জেনেছি.. তাই আপনাদের একটা জিনিস বলে রাখি কোন গ্রুপ বা ফেসবুক এ বিভিন্ন নিত্য গ্রুপ নানা রকম ট্যুর এর আয়োজন করে...আমি বলছি না সবাই খারাপ.. শুধু যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন.. যে ভুল টা আমার হয়েছে সেটা যেন আপনাদের না হয়... পঁচা শামুকে পা কেটে বসে আছি... জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর অব্দি দিপুদা থেকে চারধাম যাত্রা সম্পূর্ন.. কিন্তু শেষ অব্দি... যাক পরে বলবো সে কথা... গ্রুপ এর সদস্য দের নতুন বছরের শুভেচ্ছা.. এডমিন সাহেব সাহেবা দের ও.. আর নতুন বছর থেকে অনেক অনেক নতুন জায়গার সন্ধান গল্প ছবি নিয়ে ফিরব এই ভাবেই.... ভালো থাকুন সবাই.. সতর্ক থাকুন..

Koushik Pal

Friday, December 25, 2020

তাকদা তিনচুলে লামাহাটা - Takdah Tinchuley Lamahatta

তাকদা, তিনচুলে, লামাহাটা দার্জিলিং শহরের ছোট্ট ছোট্ট এই গ্রামগুলি কে প্রকৃতি নিজের হাতে সাজিয়েছে, এখানকার পাহাড়ি সৌন্দর্য যেকোনো হিল এরিয়ার সৌন্দর্যের থেকে কোন অংশে কম নয়..

                                                            দার্জিলিং থেকে তাকদা যাওয়ার পথে

                                                   গুম্ফাদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে তোলা ছবি
দার্জিলিং থেকে ঘুম পেরিয়ে বাঁ হাতে ঘুরলেই পেশক রোড। দু’পাশে পাইন, আকাশের গায়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে ৫,৫০০ ফুটের মতো উচ্চতায় এক অদ্ভুত মায়া জুড়ানো জায়গার নাম তাকদা।
                                                গুম্ফাদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে লামাহাটা যাওয়ার পথে

লেপচা ভাষায় ‘তাকদা’-র মানে মেঘে বা কুয়াশায় ঘেরা। দার্জিলিং থেকে উচ্চতা কম, কিন্তু বেশ ঠাণ্ডা চারপাশ। লোকজনের হৈ-হুল্লোড় নেই, বাজারের মেলা ভিড় নেই। থাকার মধ্যে আছে পাহাড়ি স্নিগ্ধ নির্জনতা। আর আছে ঢেউ খেলানো চা-বাগান, অর্কিড।
                                 লামাহাটা যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে এলাচ গাছ

তাকদা থেকে তিনচুলে মাত্র ৩ কিমি। গাড়িতে মিনিট ৩০-এর রাস্তা। অসাধারন জায়গা। চারিদিকে পাহাড়ের মধ্যে একটুকরো জনপদ।
                                     লামাহাটা ইকো পার্কের ওয়াচ টাওয়ার থেকে তোলা ছবি

তিনচুলে থেকে সামান্য দূরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অফুরন্ত পাইন বন, জায়গাটির নাম লামাহাটা।

এর উচ্চতা ৬৫০০ ফুট ।লামাহাটা মানেই পাহাড়ের পর পাহাড়। প্রকৃতি এখানে প্রতি মূহূর্তে রঙ বদলায়। খোলা পাহাড়ি পরিবেশে রয়েছে মন মাতানো চা বাগান। চারদিক নিঃশব্দ।
    
                         লামাহাটা থেকে দার্জিলিং ফেরার পথে

প্রকৃতি খুব যত্ন করে ধীরে ধীরে সাজিয়ে তুলেছে লামাহাটাকে। খুব সুন্দর সাজানো গোছানো জায়গাটা। পাহাড়ের পাদদেশ একটা পার্ক। রঙবেরঙের ফুল, গাছ। সুন্দরভাবে বাঁধানো একটা রাস্তা চলে গেছে পাহাড়ের ওপর। ওপরে ছোট্টো একটা লেক আছে। ২.৫–৩ কিমির ছোটো একটা ট্রেকিং এর স্বাদ পাওয়া যায়। পুরো জায়গাটা প্রকৃতিপ্রেমিকদের স্বর্গরাজ্য।
দার্জিলিং থেকে একদিনের ট্যুর এ তাগদা, তিনচুলে, লামাহাটা ঘুরে আবার দার্জিলিং ফিরে আসা.... এই ছোট্ট ট্যুরের কয়েকটি ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম....

Subrata Dey


Tuesday, December 15, 2020

তিনচুলে, দার্জিলিং- Tinchuley, Darjeeling

 4 দিনের tour এ ঘুরে এলাম সিটং,তিনচুলে, দার্জিলিং.প্রায় দেড় মাস আগে টিকিট কেটে শুধু যাওয়ার দিনের অপেক্ষায় দিনগুনছিলাম, শুধুমাত্র আমিই নই আমার 5 বছরের ছেলেও..কারণ সেও বাড়িতে থেকে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছিল. সেই March e গিয়েছিলাম দারিংবাডি, মান্দাসরু, গোপালপুর, পুরী. ফিরে এসে থেকে ঘর বন্দী. তাই একটা trip এর বড়োই প্রয়োজন ছিলো. ফিরে এলাম অনেক বিশুদ্ধ অক্সিজেন আর মনের মনিকোঠায় প্রকৃতির অপরূপ রূপ এর ছবি নিয়ে.

                                                           Lover's Meet Point

Njp থেকে আমাদের আগের থেকে ঠিক করা গাড়িতে করে পৌঁছে গেলাম সিটং এর Himalayan Home stay তে.ছবির মতো সুন্দর জায়গায় homestay টি. জানলা খুলেই সামনে সবুজ ঘেরা পাহাড়. ওখানে পৌঁছে স্নান, খাওয়া সেরে চলে গেলাম sight seeing করতে. নামথিং পোখরি লেক, অহলদারা view point, orange garden.
                                                     Aholdara view point

পরের দিন break fast খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম তিনচুলের উদ্দেশ্যে. পথে যেতে যেতে সারা রাস্তা কাঞ্চনজঙ্ঘা তার সুবিস্তৃত পাহাড়চূড়ার রূপ আমাদের সামনে মেলে ধরেছিলো. এতো পরিষ্কার ভাবে যেন মনে হচ্ছিলো একদম সামনেই বুঝি আছে. লোভ সামলাতে না পেরে বার বার গাড়ি দার করিয়ে ফটো তুলে যাচ্ছিলাম.
                                                লামাহাটা Eco Park.

পথে যেতে যেতে অনেক tea garden, নাম না জানা পাহাড়ি ঝর্ণা, Hanging bridge, যোগী ঘাট, Lover's meet point, বড়ো মাঙয়া দেখতে দেখতে দুপুরে তিনচুলের অভিরাজ homestay তে পৌঁছে গেলাম.আমরা ছিলাম কাঠের ঘরে. Room টি অনেক বড়ো ছিলো. সূর্য ডোবার পরে ভীষণ ঠান্ডায় লেপের তলায় জড়োসরো হয়ে গেছিলাম. কিন্তু হটাৎ কর্তা বাইরে বের হতে গিয়ে এমন কিছু দেখতে পেলো যে আমাদের সারাদিনের ধকল, ঠান্ডা সব এক নিমেষে উধাও হয়ে গিয়ে আমরা belcony তে চেয়ার নিয়ে বসে পরে তখন শুধু প্রকৃতির আকণ্ঠ রূপ পান করে চলেছি,,, অবাক বিস্ময়ে আমরা শুধু সামনে চেয়ে রয়েছি,,উফফফ,, আগের দিন ছিলো রাস পূর্ণিমা, একটা গোল রুপোর থালার মতন চাঁদ আর আমাদের সামনে শুধু দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়, একদম পরিষ্কার আকাশ, আর পাহাড়ের গায়ে সব আলোকবিন্দু যেন মনে হচ্ছিলো হীরের নেকলেস পরে রয়েছে,,, সেই সৌন্দর্য কোনোদিনও ভোলার নয়.এতো পরিষ্কার আকাশ ছিলো যে নেপাল বর্ডার এর আলোও পযন্ত দেখা যাচ্ছিলো.
                                            সিটং এর রাস্তার পাশে orange garden.

সন্ধ্যাবেলায় মোমো আর কফি খেয়ে আর রাতে কিছু খেতে পারিনি. পরের দিন সকালে দারুন ছোলে ভাটুরে খেয়ে হেটে হেটে gumbadara view point দেখে গাড়িতে করে দার্জিলিং.সেখান থেকে নামচি চারধামের সাদা প্রস্তর শিব মূর্তি দেখা যাচ্ছিলো. পথে তাকদা অর্কিড গার্ডেন,বাতাসিয়া লুপ, zoo দেখে আগে থেকে ঠিক করে রাখা হোটেল এ পৌঁছে খাওয়া দাওয়া করে একটু marketing সেরে নিলাম.

পরের দিন ভোরে উঠে স্নান সেরে ম্যাল ঘুরে মহাকাল মন্দিরে পূজো দিয়ে Glenarys e breakfast সেরে ফেরার জন্য গাড়িতে উঠে পড়লাম. যদিও আমাদের খাবার হোটেল থেকেই দিয়েছিলো কিন্তু দার্জিলিং এ যাবো অথচ glenarys e খাবো না তা কি হয়, তাই হোটেল এর breakfast pack করে নিলাম, train e সন্ধ্যাবেলার টিফিন হিসাবে খেয়ে নিয়েছি.
ফিরে আসার সময় আবার পরের বছর যাওয়ার plan বানিয়ে নিলাম. যাওয়া আসার সারা রাস্তায় পাহাড়ী জঙ্গল, বড়ো পাইন, ওক, ফার আরও সমস্ত গাছের সৌন্দর্য আমাকে বরাবর মোহিত করে. তাই বারে বারে পাহাড়ের টানে ফিরে ফিরে যাই.

***নিচে ছবিগুলো দিলাম শুধু আমার মোবাইল এ তোলা কোনোরকম এডিটিং ছাড়া.
Darjeeling hotel Peak to peak. -9023121977.
সিটং Himalayan homestay -9382485004
অভিরাজ -9749370965.
Driver খুব বাজে ছিলো, কিছুই রাস্তা চেনে না, driver er জন্য আমাদের দুটো /তিনটে sightseeing দেখা হয় নি, তাই driver er কোনো contact number দিলাম না.

Bidisha Das

Monday, November 23, 2020

টংলু, দার্জিলিং - Tonglu, Darjeeling

 তাজপুরে ঘুরতে গিয়েছিলাম এই আগস্ট মাসের সময়, 6জন বন্ধুমিলে। কিন্তু কয়েকজন বন্ধু যেতে পারেনি, তাদের কথা ভেবেই খারাপ লাগছিল, ঠিক করি সামনের নভেম্বরের ৮ তারিখে বেড়াতে যাব সবাই মিলে টংলু, ১রাত থাকব, বাকি যাওয়া আসা মিলিয়ে যে ছুটি দরকার তাতে আর কাওকে অতিরিক্ত ছুটি নিতে হবে না কারন শুক্রবার বিকেলে বেরিয়ে রবিবার ফেরা । ২০মিনিট কি ৩০ মিনিটের মধ্যে সবার জন্য টিকিট কেটে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই ১রাত থাকার বদলে দুই রাত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।



সেই দিন এল, অপেক্ষার শেষ, 9জন বন্ধু বান্ধবী ব্যাগ গুছিয়ে খাগড়াঘাট রেল স্টেশন থেকে সন্ধ্যে 6 টার সময় গাড়ি ধরি, দুই বন্ধু আগেই থেকে উঠেছে দুপুরেই এই এক এ গাড়িতে শিয়ালদা থেকে , আর যাদের জন্য এই ট্রিপ টা করেছিলাম তারাও আগের বারের মত এবার যেতে পারেনি বিশেষ জরুরি কারনে। গল্প আড্ডা সেরে, আগেই নিয়ে আসা খাওয়ার খেয়ে ঘুম দিলাম সবাই কারন মাঝরাতে (২ঃ৪০) ট্রেন থেকে নামতে হবে। তবুও বদ অভ্যাস মাঝ রাতে ঘুমনো তাই শেষে 1ঘন্টা ঘুমের পর পৌছলাম NJP Station । ফ্রেশ হয়ে বেরলাম তখন সকাল 5টা প্রায়। লেপচা-জাগাত এর দুটো গাড়ি বলাছিল। তাদের সাথেই মানেভঞ্জনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। মাঝ পথে লেপচা জাগাতে রবিন ভাইয়ার সাথে দেখা করে নিলাম। উনি একটি হোম স্টে এর মালিক, নাম Pakhrin homestay , যেখান থেকে রাতের ঝলমলে দার্জিলিং শহরটা অপুর্ব লাগে দেখতে। 4বার থেকেছি ওখানে। যাই হোক,



মানেভাঞ্জান পৌছে আনিল ভাইয়ার সাথে কথা বলে দুটি 70বছরের পুরনো land rover গাড়ি নিয়ে রউনা। প্রথম গন্তব্ব টংলু, এখানে এই নিয় 7-8 বার থাকা হলো। এখানে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার যে দৃশ্য দেখা যাই তার তুলনা হয়না। তো টংলু তে একটাই সরকারি ট্রেকার্স হাট , আর একটা homestay আছে রাজিবের, আর সদ্দ্য বানানো একটা homestay যেটা সরকারি ট্রেকার্স হাট থেকেই সামলানো হয়। আগেই বলে রাখা ছিল সেই রুম গুলই পৌছে ব্যাগ গুলো রেখেই বাইরে এসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য



একটু সময় নিয়েই দুপুরের খাওয়ার খেয়ে একটু রেস্ট । তার পর বিকেলে উঠে চললাম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য, বিকেলের পরন্ত দদ্দুর সেই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে রাঙ্গিয়ে দিতে দিতে এক সময় টক টকে লাল রং এ পরিনত করেছিল। সেটা দেখানোর জন্য সকল কে হাক মারলাম কিন্তু এলো ৫-৬জন। তাদের সাথে সেই দৃশ্য উপভোগ করে ও কিছু ছবি তুলে রুমের মধ্যে আসলাম। সন্ধে টা একটু আড্ডা দিয়ে গান শুনে কাটিয়ে রাতের খাওয়ার খেয়ে ঘুম দিলাম রাত তখন ৯ঃ৩০ , তার মাঝে ভূতের গল্প বেশ জমে উঠেছিল। সকালে ৪ঃ৩০ থেকে সবাই রেডি সানরাইস দেখবে বলে, তখন খুব অন্ধকার। অনেক বলে ওদের আটকে শেষে সকাল ৫ঃ১৫ নাগাদ বেরলাম সবাই। ৫ঃ৩০ এর পর দেখলাম সেই অপূর্ব সোনালি রঙের কাঞ্চনজঙ্ঘাকে।



এবার রউনা দিলাম চিত্রের উদ্দেশ্যে, একটাই homestay , মালিকের নাম phuntsok , মজা করে বলেন আমার নাম phuntsok , কিন্তু wangdu নই (হিন্দি তে) । সেখানে ২ টো রুম নিয়ে বেরলাম চিত্রের মাঠে । সেখানে ৩-৪ ঘণ্টা কাটালাম , দেখলাম কি ভাবে পরিস্কার আবহাওয়া থেকে ঘন মেঘে ঢেকে যাই চারপাশ। কত মেঘ যে গায়ে লেগে বেরিয়ে গেল। আর তার অসাধারন অনুভুতি । সন্ধ্যাই একটু ক্যাম্পফায়ার সেরে রাত্রি ভজন করে আবার বেরলাম বাইরের দৃশ্যটা দেখব বলে, কারন আজই এই ট্রিপের শেষ রাত্রি। ১ ঘণ্টা বাইরে কাটিয়ে রুমে এসে ঘুম, ভোরবেলাই সবার ঘুম ভাঙ্গিয়ে সানরাইস দেখালাম রুম এর ব্যাল্কনি থেকেই। এর পর বাড়ি ফেরার পালা......।

Sumit Das