• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Showing posts with label sundarban. Show all posts
Showing posts with label sundarban. Show all posts

Sunday, November 22, 2020

সুন্দরবন এর সৌন্দর্য - Beauties of Sundarban

 আপনারা অনেকেই দেখছি এই pandemic এ ঘরবন্দী হয়ে বিরক্ত। আসুন একটু সুন্দরবন ঘুরে আসি ছবির মাধ্যমে। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে চিহ্নিত এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আজ না থাকলে আমরা থাকতাম না।আইলা, বুলবুল, আম্ফান এই সবের সাক্ষী এই ফরেস্ট। একাধিক বার বাঁচিয়েছে আমাদের বিপর্যয় থেকে। আমরা তার দেখাশোনা করলে ভবিষৎ এও বাঁচাবে।


সুন্দরবন এর পশু পাখির কথা ভাবলেই আমাদের প্রথম মনে দাগ কাটে বেঙ্গল টাইগার। এদের দেখতে পাওয়া যতটা কঠিন, এরাও কিন্তু খুব কষ্ট জীবন কাটায়।
                                                        Peregrine Falcon
                                                                Buffy Fish Owl

ম্যানগ্রোভ এ মানুষ সহ প্রত্যেক টা প্রাণী জীবন সংগ্রাম করে। প্রত্যেক টা দিন একটা লড়াই। পশু ও পাখী প্রেমিকদের জন্য এটি একটি কেন্দ্রস্থল। Buffy ফিশ owl একমাত্র ভাগ্যে থাকলে এখানে সহজেই দেখা যায়।
                                     Smooth- coated Otter family with Egret 
                                                                        Wild Boar family
                                                             Spotted Deer
                                                     Irrawaddy Dolphin 
                                                    Ruddy Kingfisher
                                                                    Fiddler Crab
                                                                    Black Capped Kingfisher 
                                                                Crested Serpent Eagle
                                                               Ornate Flying snake
                                                            
White- bellied sea Eagle
                                                     
Brown-Winged Kingfisher
                                                                    
Mudskipper 
                                                      
Water monitor Lizard 
                                                          
King Kobra
                                                          
Saltwater Crocodile
এছাড়া পরিযায়ী পাখী শীতকালে এখানে প্রচুর আসে। আসুন সুন্দরবন এর মানুষের পাশে দাড়াই। ঘুরে আসুন সুন্দরবন ২ রাতের জন্য, আপনার নিশ্চই খুব ভালো সময় কাটবে।
ধন্যবাদ।...


Himadri Mandal


Thursday, February 6, 2020

মৃত্যুর মুখে সুন্দরবনে - ( পর্ব.. দুই) - In the face of death in the Sundarbans (2nd Part)

 ঘুম ভাঙলো খুব সকালে, আলোর আভা পেলেও সূর্য এখনো ওঠেনি। নৌকা একটা নদীর একপাশে নোঙ্গর করা। 'সুদাম' চা বানিয়ে হাতে ধরালো, এক চুমুক মারতেই, ব্যাস, তৎক্ষণাৎ নিম্নচাপ এসে হাজির। নৌকোর পিছনে ছোট ঘেরা জায়গাও আছে, ক্রিয়াকর্ম করার। স্মার্টলি গামছা পরে ভিতরে মাথা নিচু করে ঢুকেই আত্মারাম খাঁচা। মধ্যিখানে ছোট গর্ত, আর দুদিকে পা রাখার জায়গা প্রায় নেই। গর্ত দিয়ে নদীর জল দেখতে পাচ্ছি। সাঁতার জানি না, ঘাবড়ে গিয়ে প্রেসার হাওয়া। ফেরত চলে এলাম। সুদামকে কাছে টেনে বললাম, হবে না, ভাই, কিছু কর। সঙ্গে সঙ্গে সুদাম

সমস্যার সমাধান করে দিলো। সমাধানটা হলো, কোমরে দড়ি বেঁধে নৌকার সাইডে পা এর সাপোর্ট রেখে নদীর দিকে পশ্চাৎদেশ রেখে ঝুলে পরা। এতো সহজে আমার সমস্যা মিটে যাবে, বুঝি নি।
গামছা ছেড়ে প্যান্ট পরে নিলাম। আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
আস্তে আস্তে চোখের সামনে নদী ফুঁড়ে সূর্য উঠছে। পুরো লাল। চট করে নৌকার ছাউনির মাথায় উঠে গেলাম। আমার দেখাদেখি মাঝিও এলো। সামনে আমাদের বিশাল নদী, নাম "ঠাকুরানী"। সুদাম আবার চা নিয়ে এসে আমার বিরোক্তিসূচক আওয়াজ শুনে দু পা পিছিয়ে গেল।
খেয়াল করেছেন তো ? সমস্যাটা কিন্তু এখনো আছে। পেট থেকে নানান শব্দ হচ্ছে, ও বেচারির কোনো দোষ ও নেই, ও তো এইসব ব্যাপারে অভ্যস্ত নয়। মাঝিকে বলেই ফেললাম, কিছু একটা করুন প্লিজ। মাঝি মুচকি হেসে বললো, নৌকো নিয়ে কোনো গ্রাম সংলগ্ন চড়ে দাঁড়াচ্ছি, কাদামাটিতে নেমে আড়াল দেখে সেরে ফেলুন। পাশ থেকে কে একজন বললো, হ্যা, হ্যা ঠিক আছে। মাথা ঘুরিয়ে দেখি, আরো দুজন কখন ছাউনিতে উঠে বসে আছে।
সে কি বলবো, আপনাদের। নৌকা পুরো চড়ে ঠেকলো না, শুধু গামছা পরে আমরা ঝাঁপ মারছি নৌকো থেকে, আর পড়েই হাঁটু অবধি গেঁথে যাচ্ছি। নিজেকে সামলে ছিলাম নাকি গামছা সামলে ছিলাম, ঠিক মনে নেই। সামনেই গ্রামের বাঁধ বাঁধানো রাস্তা। অনেক ছোট ছোট গাছ জন্মেছে বাঁধের গায়ে। খেয়াল করলাম গ্রামের অনেকেই কাজ সারে এখানে। একটা ছোট্ট গাছের আড়ালে গিয়ে বসে পড়লাম। হাতে গাছটা ধরে আছি, গড়িয়ে পড়লেই গড়াতে গড়াতে,মাখতে মাখতে কাদামাটিতে পরবো । গ্রামের লোকজন কিছুটা মাথার উপরের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে। হাসির আওয়াজও পাচ্ছি। আমি মাথা গুঁজে নিয়েছি , হটাৎ খেয়াল করলাম, ছোট্ট গাছের গুঁড়িটা আমার হাতে উপড়ে আসছে।
সুদাম জাল নিয়ে এসেছিল, জানতাম না। ঝুপঝুপ করে নদীতে জাল ফেলছে, আর কুচো চিংড়ি উঠে আসছে। বা রে, মুড়ি,আলু ভাজা, কুঁচো চিংড়ি ভাজা আর সঙ্গে চা। আহা, গোগ্রাসে গিলছি। আলো পুরোদমে ফুটে গেছে। নদীটা খেয়াল করলাম ভালো করে। ভাবলাম ওপারেই গভীর জঙ্গল। কিন্তু মাঝি নিরাশ করে বললো, আরো যেতে হবে, মাতলা হয়ে দেউলবাড়ি বা কলস দ্বীপের কাছাকাছি।
জঙ্গলের কিছু নিজস্ব নিয়ম আছে। যেমন, 1,কারুর নাম ধরে ডাকা যাবে না। তাতে সে "বড়ে মিয়াঁর" টার্গেট হয়ে যাবে। 2, জঙ্গলে সরাসরি হিসু করা যাবে না, প্রথমে কোনো গাছের পাতায়, তারপর সরাসরি। জঙ্গল কে সম্মান জানানোর জন্য 3, নদীতে এক নৌকা আরেক নৌকাকে সব share করবে, কিন্তু ইঞ্জিনের তেল দেবে না।(ডিজেল)। সব কটাই কুসংস্কার হলেও ওই পরিবেশে না বলার স্পর্ধা কারুর হবে না।
ঠিক মনে নেই, আমরা কুলতলি বা তার আশপাশ থেকে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের পারমিশন করলাম। অফিসার খুব সন্দেহের দৃষ্টি দিয়ে আমাকে দেখছিলেন। প্রত্যেকটা নিয়মকানুন ভালো করে মুখস্থ করালেন, পরীক্ষা নিলেন। পাস করলাম। তারমধ্যে দুটো শর্ত ছিল, কোর এরিয়া ছেড়ে বাফার জোনে ঘুরতে হবে আর দ্বিতীয়টি ছিল ভুলেও খাঁড়িতে ঢোকা যাবে না। আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম কিন্তু জানতাম কোর এরিয়া তেই আমরা যাচ্ছি। কেন ওনারা সাবধান করেন, আমার গল্পটাই সাক্ষী।
যাই হোক, নৌকা রওনা দিলো মাতলার দিকে। নদীর একটা ঠান্ডা হাওয়া হয়, আমরা সবাই রোদ পোয়াছি। গ্লাসে আবার আওয়াজ উঠেছে সঙ্গে গরম কুঁচো মাছ ভাজা। বেশ ঘন্টাখানেক গেছি, হটাৎ নৌকা ধা করে বাঁয়ে ঘুরে গেল। সামনেই জঙ্গল। মাঝির দিকে তাকালাম, উত্তর দিলো "বনবিবির" মন্দির, একটু ধুপ জ্বালিয়ে নেবো।
আমি বললাম, এই জঙ্গলে ? বললো, হ্যা, চলুন না, আমরা আছি তো, আপনার ভয় কি আর তাছাড়া জঙ্গলের মজা নিতেই তো এসেছেন। ভাবলাম,যুক্তি আছে...ঠিক ঠিক।
নৌকোটার সামনের অনেকটা অংশ গাছপালার মধ্যে ঢুকে গেল। যেই ইঞ্জিন বন্ধ হলো, অমনি হটাৎ নিস্তব্দ হয়ে গেল। ফিসফিসিয়ে কথা বলছি আমরা। জঙ্গলের একটা ছোট অঞ্চল পরিষ্কার করা। সেখানে কাদামাটির তৈরি একটা ঘেরা জায়গার মধ্যে বনবিবির মূর্তি বসানো। সবাই নামলাম। কোনো অপ্রয়োজনীয় আওয়াজ ছাড়াই ধুপ জ্বালিয়ে পুজো হলো। কিন্তু তারপরই যেটা হলো , সেটার জন্য মোটেই তৈরি ছিলাম না। বাবুরা হটাৎ "হেতাল" গাছের গুঁড়ি কাটতে উদ্যোগী হলো। কি সব ওষুধ তৈরি করবে। আমি ওদের যেতে দেব না, আর ওরা যাবেই। একপ্রকার তর্ক শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রায়। সিদ্ধান্ত হলো, ওরা সবাই যাবে আর আমি একা নৌকায় থাকবো। মাথা গরম হয়ে গেল। এই গভীর জঙ্গলে আমার সঙ্গে আসা চারজনের মধ্যে একজনেরও কিছু হয়ে গেলে আমি আর বাড়ি ফিরতে পারবো না। দু চারটে দু অক্ষর,চার অক্ষর মুখ দিয়ে বেরিয়েই গেল। মাঝি আমার খুব কাছে এসে বললো..বাবু, এই জঙ্গলে আমি রেগুলার আসি আর আমার হাতের এই চপার টা দেখুন, আমিও একটা বাঘ। আমি উত্তেজিত হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, ওরা সেটাকে ভ্রূক্ষেপ না করে গভীর জঙ্গলে ঢুকে গেল।
কিছুক্ষন ওদের গলার আওয়াজ পেলাম তারপর সব মিলিয়ে গেল। আমি একা, নদীর ঠান্ডা হাওয়াটা আরো ঠান্ডা লাগছে। সিরসিরিয়ে উঠছি।
চারিদিক নিস্তব্দ। পাতায় পাতায় একটা জঙ্গুলে আওয়াজ হচ্ছে, বুকের মধ্যে দ্রিম দ্রিম আওয়াজ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। বনবিবির মন্দিরের আশপাশে অনেক লাল, সাদা, বুনো ফুল ফুটে আছে। নদীর হওয়ায় সব গাছগুলো দোল খাচ্ছে, হটাৎ তারমধ্যে একটা ফুলগাছ একটু বেশিই নড়ে উঠলো। ঘাবড়ে গিয়ে নৌকোর মধ্যিখানে খোপ কেটে যেখানে ইঞ্জিন বসানো, ওর পাশটায় চলে গেলাম। কিছু এলে ইঞ্জিন ব্লকে ঢুকে যাবো। কানটা ভালো করে পেতে শুনতে পেলাম, খুব মৃদু একটা পায়ে চলা আওয়াজ আমার দিকে এগিয়ে আসছে....
ক্রমশ....



Personal Experience - Rajib Bashu

Monday, January 20, 2020

মৃত্যুর মুখে সুন্দরবনে - ( পর্ব.. এক) - In the face of death in the Sundarbans (1st Part)

 সাল 2007, কোম্পানির টার্গেট করতে পারার জন্য স্টাফদের( দুজন) নিয়ে সুন্দরবন যাবো, ওটাই শর্ত ছিল।

সঙ্গে ভিড়লো আমার পাড়ার দুই বন্ধু। মাস ছিল
সেপ্টেম্বর বা আগস্ট। আমার এক স্টাফ সঞ্জয়ের দিদির বাড়ি রায়দিঘিতে। ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দিলাম পাঁচজন। দুদিনের সুন্দরবন ট্যুর। বাড়িতে কোম্পানির ট্যুর বললাম, না হলে যেতে দিতো না।
ছোট অঞ্চল, কিন্তু বেশ জমজমাট ছিল তখন রায়দিঘি। ছোটখাটো গ্রাম থেকে লোকজন ভিড় করে এখানে পাইকারি ব্যবসা আছে বলে।
দিদির বাড়িটাএকটা শাখা নদীর পাশে। মাটির ঘর, খুব সুন্দর একটা উঠোন। গোবর লেপে আলপনা করা। জামাইবাবু রসিক মানুষ। দুপুরের খাওয়া সেরে আড্ডা মারতে মারতেই সন্ধে হবো হবো। আমরা বাইরে বেরোলাম নৌকার খোঁজে।
আমাদের যা চাহিদা , অনেক নৌকাই যেতে রাজি হবে না। সেটা হলো তিনরাত্রি নৌকায় থাকবো, গভীর জঙ্গলে ঢুকবো, একটা নামমাত্র পারমিশন করিয়ে। আপত্তি যতো না জঙ্গলের তার থেকেও
বেশি জলদস্যুর। যারা বাংলাদেশ থেকে
অবৈধভাবে আমাদের জঙ্গলে ঢোকে, মধু, কাঠ নিয়ে ফিরে যায় কিন্তু অন্য নৌকা দেখলে লুঠ করতেও ছাড়ে না। মেরে ফেলে রেখে নৌকা নিয়ে চলে যাবে, লাশ খুঁজেও পাওয়া যাবে না। তাই ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট টুরিস্ট allow করেও না।
খান দু কিমি হেঁটে মাঝির(নাম ভুলে গেছি) বাড়ি পৌঁছলাম। বাবু বাইরে বসে মুড়ি আর বাংলা খাচ্ছিল। জামাইবাবু যাই বলে সে দেখি শুধু মাথা দুদিকে নাড়ায়। কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। আরো যে
অপশন নেই তা নয়, কিন্তু ইনি বাইরের জঙ্গল সমন্ধে বেশি অভিজ্ঞতা রাখে। বলে রাখি, এই বাইরের জঙ্গল মানে হলো কোর এরিয়া। সবাই যায় না। (ইনি যান, কাঠ চুরি করতে, কেনে রায়দিঘির কাঠের ব্যবসায়ীরা)।
জামাইবাবু দেখি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দিলো। একথা সেকথা বলতে বলতে সময় নিলো, বাংলার নেশাটা
চড়তে দিলো। আমি বেশ মজা নিচ্ছি। আধঘন্টা বাদে আবার ওই একই প্রসঙ্গ, এবারও রাজি নয়, তবে কেমন নিস্তেজ। নিমরাজি হয়ে মাঝি সরাসরি
টাকার প্রসঙ্গে চলে গেলো। ভালো টাকার ডিমান্ড করলো। একটু কমিয়ে রফা করে যাত্রা নিশ্চিত করলাম। এবার সবাই মিলে বাজারের পথে। আজ রাতেই রওনা।
রাত আটটা নাগাদ একটা পশলা বৃষ্টি হলো। বেশ শীত শীত করছে। কিন্তু উদ্যম প্রচুর। গেলাসে আওয়াজ তুলে উদ্যম বাড়িয়ে নেওয়া হলো। ইতিমধ্যে মাঝির দুই স্যাঙাত ও এসে গেছে। নির্মেদ চেহারার দুজন, "সুদাম" আর "বাপ্পা"। তিনদিনের রেশন কম তুলি নি। চাল, সবজি, মাংস, ডিম , তেল অনেক মালপত্র। সত্যি বলতে কি, আমি কম কাজই করছি, নির্দেশ দিচ্ছি বেশি। মাঝি যা ডিজেল চেয়েছিল, তার চেয়ে বেশি তুলেছি। হটাৎ আমি খেয়াল করলাম, নৌকার পিছন দিক বড়ো সরো ফাঁক। ভয় পেয়ে গিয়ে মাঝিকে জিজ্ঞেস করতে, খুব গম্ভীর হয়ে বললো, সামনে ঠিক আছে, পিছন ফাঁকা হতেই পারে। বোঝো !!!
রাত এগারোটা নাগাদ, নৌকো স্টার্ট হলো। ছোট একটা শাখা নদী ধরে যাচ্ছি। আমার চোখ বারেবারে পিছন দিকে চলে যাচ্ছে, ফাঁক দিয়ে নদীর জল দেখা যাচ্ছে। আমি আবার সাঁতার জানি না। ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে, বেশ কাঁপুনি লাগছে। ইঞ্জিনের আওয়াজে কথা একটু জোরে বলতে হচ্ছে। ছাউনির মধ্যে একটা টুনি লাইট জ্বলছে, তাতেই আলোয় আলো। আমরা সব কটা
ছাউনির মধ্যে জড়ো হলাম। চোখ গেল মাঝির দিকে, যতই বাংলা খাক, নৌকার হাল ধরে চুপচাপ,সতর্ক, টানটান। নিশ্চিন্ত হয়ে শরীর টান করলাম, খুব ক্লান্তি শরীরে, শুয়ে পড়লাম। ভোরবেলা ওরা তুলে দেবে। চার, পাঁচ ঘন্টার টানা জার্নি। নেশার চোটে, ঘুমের ঘোরে হটাৎ কবি হয়ে উঠলাম, বিরবিড়িয়ে উঠলাম..
" টানা দু দিন ধরে মুক্ত আমি, দুনিয়া চুলোয় যাক
চিন্তা শুধু একটাই আমার,নৌকার পিছনে ফাঁক"



Personal Experience - Rajib Bashu

Saturday, January 11, 2020

সুন্দরবন - Sundarban

 গত ডিসেম্বর ঘুরে এলাম সুন্দরবন। আমাদের, যাদের 'বাহিরপানে চোখ মেলেছি ' মানসিকতা, তাদের ছটফটানি যেন আরও বেশি। অবশ্য ভিতরপানেও চেয়েছি। আমরা, যারা অফিসে কর্মরতা, তারা দশভুজা না হোক দ্বিভুজা হয়েই সমান দক্ষতায় অফিস ও বাড়ী সামলেছি। তেমনই একজন দক্ষ ও staminaওয়ালা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল সুমেলী টিনা।ওর সাথে এ বছর জানুয়ারিতে দারি়ংবাড়ী গিয়ে বড় ভালো লেগেছিল। তাই এবার সুন্দরবন ভ্রমণ এর কথা বলতেই এক পায়ে খাড়া !

                                                        বিস্তীর্ণ নদীতে সুন্দরবনের চরদ্বীপ

যাক, অনেক ভুমিকা হল। অথ সুন্দরবন কথা। 19শে ডিসেম্বর শনিবার সকাল 6.30মিনিটে বিরাটির মোড় থেকে লাক্সারি রিজার্ভ বাসে উঠে পড়লাম।

সায়েন্স সিটি ছাড়াতেই সুমেলীর pack d bag কোম্পানির ছোট ব্যাগ কেক বিস্কুট ফ্রুটি সহ দেওয়া হল। এরপর বাস গ্রাম গঞ্জ মাছের ভেড়ি পেরিয়ে ভোজের হাট , মালঞ্চ, বাসন্তী ওভারব্রিজ দিয়ে সোজা গদখালি লঞ্চ ঘাট। এখানে মিষ্টি ডাবের জল welcome drink হিসাবে খেলাম। নোনা জলমাটির জন্য সুন্দরবন এলাকায় প্রচুর নারকোল গাছ আছে। এখানকার সর্বত্র ডাব সস্তা আর অনেকটা মিষ্টি জল। একে একে উঠে পড়লাম আমাদের জন্য নির্দিষ্ট তরিনী লঞ্চে। যদিও লঞ্চের খোলে খাট বিছানা পাতা আমরা অধিকাংশ উপরে বসলাম ভাল করে দেখার জন্য।

আহা, আর কি হেরিলাম! লঞ্চ কিছুটা এগিয়ে যেতেই দেখি নদী আরও চওড়া হচ্ছে। সামনে বিস্তৃত জলরাশি,দু পাশে সুন্দরবনের দু একটা দ্বীপ আর ঘন ম্যানগ্রোভ এর জঙ্গল। সূর্যের রোদ জলে পড়ে রুপোর মত ঝকঝক করছে। এর মধ্যে সকালের খাবার চলে এল। গরম গরম লুচি, আলুর তরকারি, ডিম সেদ্ধ, কলা আর নলেন গুড়ের রসগোল্লা। বাসেও একটা করে ভালো কোয়ালিটির সন্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঠাণ্ডা হাওয়ার জন্য বার বার লিকার চা ও দেওয়া হয়েছে।
                                                                       ঝড়খালির প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ 

লঞ্চ ভিড়ল ঝড়খালির ঘাটে।সেখান থেকে হেটে গেলাম প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। এখানে আহত দুটি রয়াল বেঙ্গল টাইগারকে পরিচর্যা করে যত্নে রাখা হয়েছে। চারপাশে পরিখায় বেশ কয়েকটা কুমির দেখলাম। তারা আবার কেউ কেউ পাড়ে রোদ পোহাচ্ছে। পুরো এলাকাটা লম্বা লম্বা লোহার রড দিয়ে পাঁচিল দেওয়া। সবাই বোটে (স্থানীয় লোকেরা লঞ্চকে বোট বলে) ফিরে আসতে বেশ বেলা হয়ে গেল। এসেই গরম ভাত ডাল পাঁচমিশালী তরকারি, দই কাতলা, চিংড়ির মালাইকারি,চাটনি,ভালো পাতা দই দিয়ে লাঞ্চ করতে করতে বিকেল হয়ে গেল। এখানে লঞ্চে স্থানীয়রা রান্না করেন তাই সব খাবারই গরম, তাছাড়া এনাদের হাতের রান্না খুব ভালো। বিকেলে সূর্যাস্তের সোনালী আলো যেন নদীর জলে গুলে গেল। অপুর্ব সে দৃশ্য! যদিও মোবাইল ক্যামেরায় সে দৃশ্য ঠিক তোলা গেল না। আস্তে আস্তে চরাচরে অন্ধকার নামল। দুরে পাখিরালয় দ্বীপের আলো দেখা গেল। প্রচন্ড ঠান্ডা, তার উপর জলীয় ঠান্ডা হাওয়া বইছে। পাখিরালয় দ্বীপ এসে গেল। আমাদের নামতে হবে। আজ রাতে আমরা এখানে 'আপনজন' রিসর্টে থাকব।

Shikha Sengupta