• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Friday, March 19, 2021

বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির, হুগলী - Hangseshwari Temple, Bansberia, Hooghly

 আমাদের ধারে-কাছে অনেক সুন্দর সুন্দর বেড়ানোর জায়গা আছে যেখানে সকালে বেরিয়ে বিকালে ফিরে আসা যায়। এই রকমই একটা সুন্দর ঘোরার জায়গার সন্ধ্যান পেয়েছিলাম বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির। ব্যান্ডেল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন জনপদ বংশবাটী যার বর্তমান নাম বাঁশবেড়িয়া। সময় করে রবিবারের একটি ছুটির দিনে ক্যামেরাকে সঙ্গী করে একাই বেরিয়ে পড়লাম বাঁশবেড়িয়ার উদ্দেশ্যে। প্রথমেই প্রবেশ করলাম বাংলার টেরাকোটা সমৃদ্ধ প্রাচীন অনন্তবাসুদেব মন্দিরটিতে। পোড়ামাটির কাজে সজ্জিত এই মন্দিরের আদল অনেকটা বিষ্ণুপুরের মন্দিরের মতো। এই অনন্ত বাসুদেব মন্দির চত্বরেই রয়েছে এখানের বিখ্যাত হংসেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের চারপাশে রয়েছে বড় পরিখা বা চলতি ভাষায় গড় যা আজ নোংরায় ভরে আছে। প্রবেশের মুখে চারপাশে রয়েছে ফুল-মালা, পূজার ডালা, সিঁদুর- আলতা নানারকম পুজোর সরঞ্জাম নিয়ে অনেক দোকান। মন্দিরে ঢোকার মুখে রয়েছে জীর্ণ বিশাল নহবতখানা। নহবতখানা থেকে কয়েক পা হেঁটে এগোলেই হংসেশ্বরী মায়ের মন্দির পাশেই রয়েছে রাজবাড়ী। বর্তমানে এই রাজবাড়ীর বড়ই জীর্ণ দশা। তবে সেখানে এখনো রাজপরিবারের সদস্যরা থাকেন। নির্জন পরিবেশ, সুন্দর ও মনোরম। 

ঘুরতে যাওয়ার আগে মন্দিরের সামান্য ইতিহাস জেনে রাখা ভালো। ১৬৭৯ খ্রীষ্টাব্দে জমিদার তথা রাজা উপাধি ধারক রামেশ্বর রায় তথাকথিত বংশবাটী যা বর্তমানের বাঁশবেড়িয়ায় একটি টেরাকোটার কারুকার্যখচিত বিষ্ণু মন্দির নির্মাণ করান, যেটি এখন অনন্ত বাসুদেব মন্দির নামে পরিচিত। অনন্ত বাসুদেব মন্দিরের পূর্ব দিকে রয়েছে হংসেশ্বরী মন্দির। ১৭৯৯ খ্রীস্টাব্দে এই হংসেশ্বরী মন্দিরটির নির্মান শুরু করেন রাজা রামেশ্বর রায়ের প্রপৌত্র নৃসিংহদেব রায়। কিন্তু মন্দির নির্মাণ শুরুর বছর তিনেক পরে ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে নৃসিংহদেব পরলোকগমন করায় মন্দিরের কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। পরবর্তীকালে নৃসিংহদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী শঙ্করী ১৮১৪ খ্রীস্টাব্দে তাঁর এই অসমাপ্ত মন্দিরটির কার্য সম্পূর্ণ করেন।এই মন্দিরটিতে "হং" অর্থাৎ শিব এবং "সা" অর্থাৎ শক্তি এই দুটিকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে বলে মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে “হংসেশ্বরী”। এই মন্দিরটিতে মোট তেরোটি চূড়া রয়েছে। হংসেশ্বরী দেবীর মন্দিরে প্রতিদিন পূজাপাঠের ব্যবস্থা আছে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহের যেকোনো দিন ভোগ নিবেদন করা যায়। দুপুরে মূল মন্দিরে প্রবেশের কোন বাধা নাই কিন্তু গর্ভগৃহ বন্ধ থাকার কারনে তখন মায়ের বিগ্রহ দেখা যায় না।

প্রয়োজনীয় তথ্য :

মন্দির খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। রাত্রিতে বন্ধ হওয়ার পরে আর কোনো কারণেই খোলা হয় না। নিত্যপূজা সকাল ১০ টা, পুষ্পাঞ্জলি সকাল ১১ টা। ভোগের জন্য সকাল ১০টার মধ্যে কুপন সংগ্রহ করতে হবে, অগ্রিম কুপন দেওয়া হয় না। দুপুর সাড়ে ১২টায় ভোগ নিবেদনের পরে ভোগ দেওয়া হয় এবং দুপুর দেড়টার মধ্যে গ্রহণ করতে হবে।

মনে রাখবেন জুতো পরে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেয় না। এখানে ২ টাকার বিনিময়ে জুতো রাখার সুবন্দোবস্ত আছে এবং ৫ টাকার বিনিময়ে স্নানের ব্যবস্থাও আছে।


পথ নির্দেশ :

হাওড়া অথবা ব্যান্ডেল থেকে কাটোয়া লোকালে বাঁশবেড়িয়া স্টেশন। দিনের প্রায় সারাদিনই ট্রেন পরিষেবা আছে। শিয়ালদহ থেকেও সকালবেলায় সরাসরি একটি কাটোয়া লোকাল চলে। বাঁশবেড়িয়া স্টেশন থেকে বেরিয়েই পাওয়া যাবে টোটো। জনপ্রতি ১০ টাকায় পৌঁছে দেবে মন্দিরে। ব্যান্ডেল স্টেশন থেকেও হংসেশ্বরী মন্দির যাবার অটো পাওয়া যায়। এছাড়া নৈহাটী-ব্যান্ডেল ট্রেনের হুগলীঘাট স্টেশন নেমে অথবা চুঁচুড়া লঞ্চঘাট থেকে অটোস্ট্যান্ডে গিয়ে চুঁচুড়া-ত্রিবেণী অটোতে করেও যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। সড়কপথে যেতে হলে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু দিয়ে গঙ্গা পার হয়ে বাঁ দিকে পড়বে হংসেশ্বরী মন্দির যাবার ছোট রাস্তা। বালি থেকে দিল্লি রোড হয়েও যাওয়া যায়।_______________________________________________

ছবি ও তথ্য : নিজস্ব (মন্দিরের ইতিকথা গুগল থেকে সংগৃহিত)।


Nirmal Kumar Saha

Thursday, March 18, 2021

ভালকি মাচান, পূর্ব বর্ধমান - Valkimachan, East Burdwan

করোনা আবহে কোথাও না যেতে পেরে দমবন্ধ লাগছিল। তাই খানিকটা অক্সিজেনের সন্ধান পেতেই ঘুরে এলাম পূর্ব বর্ধমান জেলার ভালকি মাচান জঙ্গল থেকে। আমার অভিজ্ঞতা বলার আগে জায়গাটার সম্মন্ধে যা কিছু জানানোর জানিয়ে দিই।



কিভাবে যাবেন 

ট্রেনে করে - হাওড়া আসানসোল গামি ট্রেনে চেপে নামুন মানকার স্টেশন এ। স্টেশন থেকে ভালকি মাচানের রিক্সা করুন

রাস্তা ধরে - NH 2 (National Highway 2) ধরে দুর্গাপুরের দিকে এগোতে থাকুন। গালসি অবধি গিয়ে ডানদিকে ঘুরে যান।

#GoogleMap follow করতে পারেন। ঠিক রাস্তাই দেখায়। Google Map এ destination এ দিন "Aranyasundari Valkimachan"। যে রাস্তা দেখাবে ফলো করতে পারেন।

আমি রাস্তা ধরে গাড়ি করেই গিয়েছিলাম।



কোথায় থাকবেন 

এখানে থাকার একমাত্র জায়গা "অরণ্য সুন্দরী ভালকি মাচান"। এখানে থাকার ঘর ২-৩ বেডের ঘর আছে। দাম ৯৫০-১২০০ এর মধ্যে।

সব ডিটেইলস ওদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ পাবেন - http://www.valkimachan.com/  



কতদিন থাকবেন 

আমার মতে এখানে একবেলা থেকে একদিন থাকাই যথেষ্ট।

খাওয়া দাওয়া 

"অরণ্য সুন্দরী ভালকি মাচান" রিসর্ট এর নিজস্ব হোটেল আছে। এছাড়া কাছাকাছির মধ্যে কোনো খাবার জায়গা নেই। হোটেলের মেনুর একটা ছবি দিয়ে দিলাম দেখে নিয়ে পারেন।

আমরা নিয়েছিলাম কিছু veg থালি আর কিছু non-veg থালি। Veg থালিতে ছিল - ভাত, ডাল, বেগুন ভাজা, আলু পোস্ত, আমড়ার চাটনি আর পাঁপড়। non-veg থালিতে এর সাথে অতিরিক্ত সংযোজন মুরগীর ঝোল।

আমার অভিজ্ঞতা টা নিচে লিখছি।



কি কি দেখার আছে 

আপনার অরণ্য ভালো লাগলে ভালকি মাচান ভালো লাগবেই।

প্রধান আকর্ষণ - রিসর্টের চারপাশে শাল পিয়ালের ঘন জঙ্গল আর তার সাথে জঙ্গল থেকে ভেসে আসা নানা পাখির ডাক।

এছাড়াও আছে

১. "অরণ্য সুন্দরী ভালকি মাচান" রিসর্ট এর পিছনে একটি জলাশয় বা পুকুর, আর চারপাশে বাঁধানো রাস্তা

২. ভালকি রাজাদের শিকার করার জন্য বানানো ওয়াচ টাওয়ার এর ধ্বংসাবশেষ ( এই গল্প টা এর পরে আলাদা করে লিখছি)

৩. যাওয়ার পথে চোখে পড়া নিখাদ গ্রাম্য পরিবেশ। যেমন ধান চাষ, ছাগল পালন, ভেড়া পালন, গ্রামের পরিষ্কার পুকুর, মাটির দোতলা বাড়ি এইসব, যা আমাদের ইট কাঠ পাথরের জঙ্গলে থেকে দেখা বন্ধ হয়ে গেছে।



ভালকি মাচানের ইতিহাস আর গল্প

শোনা যায় এখানে আগে রাজত্ব করতেন গোপ রাজারা। তখন এই গোটা অঞ্চল ছিল জঙ্গলে ঘেরা। সেই জঙ্গলের এক শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে এক ব্রাহ্মণ তাকে লালনপালন করে মানুষ করেন। সেই শিশুর পা দুটি নাকি ভাল্লুকের মত ছিল তাই থেকে তার নাম রাখা হয় ভল্লুপদ। পরবর্তীকালে তার রাজধানী হয় ভালকি। এছাড়াও আরো অনেক মত প্রচলিত আছে।

সেই ভল্লুরাজা ইট দিয়ে মাচা তৈরি করেন। যা থেকে তিনি নিয়মিত শিকার করতে আসতেন। এখন তার ভগ্নাবশেষ পড়ে আছে।

সেই ভগ্নাবশেষ এর নিচে আছে একটি সুড়ঙ্গ পথ। অনেক গল্প আছে তাকে নিয়েও।

এখানে স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম যে এখানে এখনও মাঝে মাঝে রাতে বোন মোরগ, হায়না, শিয়াল নাকি বেরোয়। আগে নাকি ভাল্লুক ও ছিল এখন আর নেই।



আমার অভিজ্ঞতা আর মতামত

#জায়গা - যেতেই পারেন এক দিনের জন্য, এই কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুটা oxygen এর মত কাজ করবে। আমি একবেলা ছিলাম। সকালে পৌছে লাঞ্চ করে তারপর ফিরে এসেছি। আমি কোনো ঘর ভাড়া করিনি। Toilet ব্যাবহার করার দরকার যখন পড়েছে ওরা ওদের dormitory র টয়লেট ব্যবহার করতে দিয়েছে।

#খাবার - খাবার বেশ ভালোই। বেশ একটা গ্রামের খাবারের স্বাদ। আমার তো আলু পোস্ত আর চিকেন খুব ই ভালো লেগেছিল। এখানে সব খাবার এরা কাগজের প্লেটে দিচ্ছে। যেটা বর্তমান পরিস্থিতি হিসাবে বেশ সচেতন পদক্ষেপ।

#রাস্তা - যেহেতু যাবার অধিকাংশ রাস্তাটাই NH 2 ধরে, তাই বলাই যায় যে যাবার রাস্তা ভালো। NH 2 ছাড়ার পর বাকি রাস্তার খুব সামান্য অংশই সামান্য খারাপ, তবে ওইটুকু মানিয়ে নেওয়া যায়।

তাই সব মিলিয়ে আমার মত, এই শীতকালে একদিন বা একবেলার জন্য ঘুরে আসতেই পারেন। ভালো লাগবে।

Soumendu Ghosh


Friday, February 12, 2021

ইটাচুনা রাজবাড়ি, হুগলি - Itachuna Rajbari, Hooghly

 ইটাচুনা রাজবাড়ি পরিক্রমা

"খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো,বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেবো কিসে?"
এই ছড়া শুনে বড়ো হওয়া আমাদের।আর এই ছড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ইটাচুনা রাজবাড়ির ভিত্তির ইতিহাস।



কোনো বাঙ্গালি বনেদী পরিবারের সম্পত্তি না এই বাড়ি।বর্গী উত্তরসূরী "সাফল্য নারায়ণ কুন্ডু" এই বাড়িটি তৈরি করেন ১৭৬৬ সালে। রাজবাড়ির টানেই একদিন সকালে রওনা হয়ে পড়লাম গাড়ি নিয়ে।বুকিং যদিও অনেক আগেই করতে হয়,নাহলে ফাঁকা পাওয়া মুসকিল।কলকাতা থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে হাইওয়ে ও পরে গ্রামের কাঁচা পাকা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে গেলাম হুগলি জেলার খন্যান নিকটবর্তী এই বাড়িতে।আগে যা ছিল কাছাড়ি বাড়ি সেটাই বর্তমান ম্যানেজারের রুম।সেখানে প্রথমে দেখা দিয়ে ম্যানেজার সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করলো ঠাকুরদালান পেরিয়ে অন্দরমহলে।




পাথরের গ্লাসে গন্ধ রাজের সরবত দিয়ে অভিবাদন জানানো হলো রাজবাড়ির পক্ষ থেকে।পথের ক্লান্তির পর যেন অমৃতের স্বাদ পেলাম।তারপর দোতলায় নিজের ঘরে (' বড়ো বৌদির ঘর ') যাবার পালা।




প্রতিটি ঘরই সাবেকি পালঙ্ক ও আসবাব দিয়ে ভরপুর।যদিও শহুরে মানুষের কথা মাথায় রেখে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পরে লাগানো হয়েছে।পালঙ্কে শুয়ে এটাই মনে হবে "মেজাজ টাই তো আসল রাজা....."




বিশাল পরিধির এই বাড়িতে আছে বাহিরমহল, অন্দরমহল,কাছাড়ি বাড়ি, ঠাকুর দালান,নাচ ঘর,রান্না ঘর,অতিথিশালা,খিড়কি পুকুর ও পিছনে খামার বাড়ি।নাট মন্দিরে শ্রীধর জিহুর পুজো হয় দিনে তিনবার নিষ্ঠা সহকারে কুলোপুরহিত দ্বারা।সাথে রয়েছে রাজকীয় খাওয়া দাওয়া।


বাড়িতে বসেই জানা অজানা গল্পের সাথে রাজবাড়ির অনাচকানাচ ঘুরে দেখতে,পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস,পথ নির্দেশ,কিভাবে বুকিং করবেন,থাকা খাওয়ার খরচ সম্পর্কে জানতে নিচের ভিডিও লিঙ্কটি দেখার অনুরোধ রইল


Ananya Bhattacharya

Tuesday, February 9, 2021

জুলুক, পূর্ব সিকিম - Zuluk, East Sikkim

 ঐতিহাসিক রেশম পথের অন্যতম ট্রান্সিট পয়েন্ট জুলুক আজকের দিনে এক পরিচিত ট্রাভেল ডেস্টিনেশন। কয়েক দশক আগেও যে পথে রেশমের বাণিজ্য চলতো ভারত ও তিব্বতের মাঝে, সে পথ ধরেই আজ অসংখ্য ট্রাভেলর প্রতি বছর পূর্ব হিমালয়ের ছোট্ট এই জনপদে আসেন এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে। ৯,৪০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত জুলুকে মূলতঃ ৭০০-৮০০ মানুষের বাস।


সিল্করুটের অন্যতম আকর্ষণ এই গ্রামে আর্মির ক্যাম্প‌ও রয়েছে। এখান থেকে চীন সীমান্ত বেশি দূরে নয়, শীতে জুলুকের সাদা বরফাবৃ রাস্তাতেও অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেখা মিলবে ইন্ডিয়ান আর্মির। এখানে বেশ কয়েকটি হোমস্টে গড়ে উঠেছে। একদম বেসিক এ্যামেনিটিস সমৃদ্ধ ছোট ছোট হোমস্টে গুলিতে জুলুকের প্রবল ঠান্ডাতেও মিলবে আতিথিয়তার উষ্ণ আঁচ।

শীতে এই অঞ্চল যেন বরফের চাদরে মুড়ে যায়, যারা বরফ দেখতে ভালোবাসেন বা স্নোফল দেখতে চান, শীতে আসতেই পারেন। তবে প্রবল ঠান্ডা থাকে এই সময়, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে চলে যায়। মূলতঃ এপ্রিল-মে মাসে এখানে টুরিস্টের ঢল নামে‌।

জুলুক সম্পর্কে নতুন করে লিখবার সত্যিই কিছু নেই। চীন তিব্বত অধিগ্রহণ করার আগেও, ভারত ও তিব্বতের মাঝে জেলেপ-লা- পাস হয়ে এই পথেই চলতো রেশমের আনাগোনা। বিখ্যাত সেই 'জিগজ্যাগ রোড' আজ টুরিস্টদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া বার্ড ওয়াচার বা ওয়াইল্ড লাইফ যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য‌ও জুলুক বা প্যাঙ্গোলাখা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঙ্কচুয়ারী এই আদর্শ ডেস্টিনেশন।


হিমালয়ান ডগ, কস্তুরী মৃগ, ফ্লাইং স্কুইরেল, খালিজ পিজেন্ট, স্নো পিজেন্ট, হিমালয়ান মোনালের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র পূর্ব হিমালয়ের এই অংশ। জুলুকের আশেপাশের কোন ভার্জিন জঙ্গলে এদের দেখা মিললে অবাক হবেন না। এছাড়া পদমচেন থেকে জুলুকের মাঝে বিস্মৃত রয়েছে রডোড্রেনডনের সারি, এপ্রিল-মে মাসে ফুলের রঙে যেন রং লেগে যায় পাহাড়ে।


জুলুক থেকে নাথাং ২২ কিমি, কুপুপ লেক ৩৫ কিমি। ফলে দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায়। ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত থাম্বি ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরমিক ভিউ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। জুলুক থেকে কুপুপ হয়ে, সংমো লেক, ওল্ড বাবা মন্দির হয়ে রাস্তা চলে গেছে গ্যাংটকে। জুলুকে থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করবার কোন কমতি হবে না। মনে রাখবেন,
সিল্করুট মানেই প্যাকেজ টুর নয়, নিজেরা ইচ্ছেমতো কাস্টমাইজ করেই ঘোরা যায়।


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জুলুকের দূরত্ব- ১৩৭ কিমি। গাড়ীতে সময় লাগে ৪.৩০-৫.০০ ঘন্টা। বড় গাড়ীর ভাড়া ৪৫০০-৫০০০/-। মনে রাখবেন, জুলুক আসার জন্য রংলি থেকে পারমিশন করাতে হয়। এই পারমিশন করার জন্য দুপুর ১২ টার মধ্য রংলি পৌঁছানো আবশ্যক। রংলি থেকে পদমচেন ব্যাক কাটিং এর জন্য রাস্তায় বেশ রাফ। রংলি থেকে জুলুকের রিজার্ভ গাড়ী ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা।
হোমস্টে খরচ- ১১০০/- জনপ্রতি প্রতিদিন (সব মিল)(নূন্যতম দুজন)


Pyaaro Sikkim- Nature Smiles
📞 +91 6291538880
info@himalayanretreat.co.in
Himalayan Retreat is on Instagram as @retreathimalayan
https://instagram.com/retreathimalayan?igshid=1qgq93ix3tsb8
Follow this link to view our catalogue on WhatsApp: https://wa.me/c/919830511411


Friday, January 15, 2021

রিশপ ট্রিপ - Trip to Rishop

 বাইকে করে রিশপ ট্রিপ। নতুন নয়। এর আগে অনেকে করেছে। কিন্তু হিমালয়ে দু'চাকা নিয়ে যাওয়া আমার প্রথম। এর আগে টুকটাক বীরভূম, পুরুলিয়া হয়েছে। সে যাই হোক। ডিসেম্বরের শেষে হাড়কাঁপুনি ঠান্ডায় গিয়ে উপস্থিত হলাম রিশপ। গেছিলাম বছরের শেষদিন। এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি আর তারপর শিলিগুড়ি থেকে fz250 বুক করে সোজা কালিম্পং।

রাস্তায় দেখেছিলাম পাইন ভিউ নার্সারি। বলব কি মশাই! রাস্তার হাল যা, তাতে বাইক নিয়ে যে শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি এই ঢের। নার্সারি যাওয়ার রাস্তা বেশ ঘাঁটা। তার উপর গুগলও সঙ্গ দিচ্ছে না। মোবাইলের টাওয়ারই নেই তো নেট কানেকশন। অগত্যা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করে পাইন ভিউ নার্সারি পৌঁছলাম। ক্যাকটাস আর কাঞ্চনজঙ্ঘার মেলবন্ধনে জায়গাটা মোটের উপর অপূর্ব।

সেখান থেকে রওনা দিলাম রিশপের উদ্দেশ্যে। মাঝে পড়েছিল মর্গান হাউস। তবে বুকিং না থাকায় ঢুকতে পারিনি। বাইরে থেকে দেখেই শান্ত থাকতে হল আমাদের। তারপর সেখান থেকে গেলাম ডেলো হয়ে পৌঁছলাম রিশপ। মাঝ রাস্তায় ডেলোর কাছে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মোমো খেলাম। সঙ্গে দু'কাপ ভর্তি কপি। ধড়ে যেন প্রাণ এল। অক্সিজেন নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। কারণ এরপর আর হল্ট দেব না।

সোজা রিশপ। কিন্তু যাব বললেই কি যাওয়া যায়? রাস্তার জন্য রিশপ পৌঁছতে বেজে গেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা। যদিও তখন সন্ধে নামার কথা নয়। কিন্তু পাহাড়ে ঝুপ করে কখন অন্ধকার নেমে যায় বোঝাই যায় না। এর ফলে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল আমাদের। কারণ রিশপ যাওয়ার রাস্তা বেশ খাড়াই। তার উপর দুপাশে পাইনের জঙ্গল। অন্ধকার তখন আমাদের এমনভাবে গ্রাস করেছে গাড়ির হেডলাইটে তা দূর হচ্ছে নামমাত্র। বাইকে আমরা মাত্র দুজন। সঙ্গে কেউ নেই। গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলেছি। প্রাণপাখিটা তখন গলার কাছে ঠেলা মারছে। যদি জঙ্গল থেকে কোনও বন্যজন্তু বেরিয়ে আসে বেঘোরে পৈত্রিক প্রাণটা খোয়াতে হবে। কিন্তু তা আর হয়নি। হোমস্টে পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম।

তবে এখানে বলে রাখি পাইনের ওই জঙ্গল কিন্তু সকালে অসম্ভব সুন্দর। পরের দিন লাভা, কোলাখাম আর ছাংগে ফলস যাওয়ার পথে দেখেছিলাম। ওই দৃশ্য ভোলবার নয়। পরের দিন চারটে থেকে উঠে প্রতীক্ষা করছিলাম সূর্যোদয়ের। বরফ ঠান্ডা জলে প্রাতঃকৃত্য সেরে হোমস্টের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের হোমস্টের পাশ দিয়েই টিফিনদারার রাস্তা। কিন্তু স্লিপিং বুদ্ধের উপর সূর্যের প্রথম কিরণ দেখতে গেলে অন্ধকার থাকতে রওনা দিতে হত। দুজন মিলে অন্ধকারে অজানা রাস্তায় পাড়ি দেওয়ার সাহস হয়নি। অগত্যা ব্যালকনিই ভরসা। জানতাম এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। দেখা গেলও।

সূর্যের আলো বরফস্নাত কাঞ্চনজঙ্ঘায় পড়ার দৃশ্য যেন সব মন খারাপ, সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। এমন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে হাজার কষ্ট করা যায়। তবে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্য আমরা দেখিনি। সূর্য একটু উঠতেই টিফিনদারার রাস্তায় রওনা দিয়েছিলাম। সম্পূর্ণটা য়াইনি। কারণ তার আগেই স্লিপিং বুদ্ধ আমাদের দর্শন দিয়েছে। মনে হচ্ছিল যেন উজ্জ্বল লাল-সোনালি চাদর চাপা দিয়ে নিশ্চিন্তে নিদ্রা যাচ্ছেন বুদ্ধদেব। এই দৃশ্য দেখার পর ইচ্ছা করেই আর টিফিনদারা যাইনি। কারণ আমরা বাইকে এসেছি। আলো থাকতে হোমস্টেতে ফিরতে হবে। আগের দিন খুব ভোগান্তি হয়েছে। তাই সেখান থেকে নেমে লাভা হয়ে গেলাম কোলাখাম। সেখান থেকে ছাংগে ফলস।


লাভা থেকে কোলাখাম যাওয়ার রাস্তা নেওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে দিয়ে। রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। অন্নপ্রাশন নয়, ঝাঁকুনির চোটে গত জন্মের অন্ন উঠে আসতে পারে। আর যে কোনও মুহূর্তে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সেসব ফাঁড়া কাটিয়ে পৌঁছলাম কোলাখাম। পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রাম। এখান থেকে ঘুমন্ত বুদ্ধ আরও স্পষ্ট। কোলাখাম হয়ে পৌঁছলাম ছাংগে ফলস। জলপ্রপাতের তেজ কম। কিন্তু মনোরম। জায়গাটাকে ঢেলে সাজিয়েছে প্রকৃতি। অল্প জলের উপর দিয়ে দৃশ্যমান পাথর। তার উপর পা দিয়ে টুকটাক এপাশওপাশ যেতে পারবেন। এখানেই কেটে যাবে অনেকটা সময়। এরপর আমরা আর কোথাও যাইনি। ব্যাক টু হোমস্টে।


তারপরের দিন রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। লাভা-গরুবাথান রুটে শিলিগুড়ি ফেরা। এই রাস্তা প্রথমদিনের চেয়ে অনেকটাই ভাল। কিন্তু এখানে একটা কথা বলে রাখি, রোমাঞ্চ ভালবাসলে অবশ্যই রিশপ বাইকট্রিপ করতে পারেন। এখানকার সৌন্দর্য আর রাস্তা আপনাকে প্রতি পদক্ষেপে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ দেবে। কিন্তু বাইক যদি আপনি ভাল চালান তবেই সাহস দেখান। নাহলে দুর্ঘটনা বসে আছে আপনাকে খপ করে ধরবে বলে।


বি.দ্র. বাইক কিরায়া (sujit da-9735912211)থেকে আমরা বাইক ভাড়া করেছিলাম। সিকিউরিটি বাবদ 2000 টাকা জমা রাখতে হয় (with any original ID PROOF)। এছাড়া বাইক ভাড়া নিয়েছিল (yamaha fz25 1300/day excluding fuel) টাকা প্রতিদিন। রিশপ যাওয়ার পথে রাস্তা বহু জায়গায় বেশ খাড়াই। কোথাও কোথাও রাস্তা ভাঙা। ফলে বাইক খুব ভাল চালাতে জানলে তবেই যান। আমরা ছিলাম গ্রিন পিক রিসর্টে। খাওয়া মোটের উপর ভালই। উত্তর ও পূর্বের ঘর (একতলা 105 ও দোতলা ROOM NO.206) থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। সম্ভব হলে এই 2টি ঘরের একটি বেছে নিন। ভাড়া সিজন হিসেবে ভ্যারি করে। হোটেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বুক করতে পারেন(manager pallab-8170077624) আমরা হোটেলটা ট্রাভেল এজেন্ট মারফৎ বুক করেছিলাম। দু'টদিনের ৪২০০ টাকা পড়েছিল।


Sourav Ghosh

Saturday, January 9, 2021

সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 2 - Sandakphu Trek, Part 2

 সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 2

16th ডিসেম্বর 2020 টংলু
====================
সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই বাইরে বেরিয়ে দেখি রোদের আলোতে ঝলমলে কাঞ্চনজঙ্ঘা... আমি যদিও একটা পিক এর নাম জানিনা.. কিন্তু ওই যে তুষার শুভ্র পর্বত ওটাই যেন আমার কাছে সব কিছু, শুধু আমার কাছে কেন আপামর বাঙালি র কাছে একমাত্র আকর্ষন...

চা খেয়েই ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পাশেই একটা উঁচু জায়গা আছে যেখান থেকে পুরো জায়গা টা 360 ডিগ্রি তে দেখা যায়.. সব ভালো শুধু মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা আর হাওয়ার দাপট টুকু ছাড়া
এই প্রসংগে বলে রাখি টংলু তে GTA এর ট্রেকার Hut এ ছিলাম... বুকিং হবে কলকাতা র গোর্খাভবন থেকে.. ওখানে গিয়েই বুক করতে হবে.. অনলাইন বা ফোন এ হবেনা..তবে আপনি যদি টুমলিং এ থাকেন সেখানে থাকার অনেক Home Stay পেয়ে যাবেন... তবে সুযোগ পেলে টংলু তে থাকুন কারণ ওখান থেকে দেখা সূর্যাস্ত কোনোদিন ভুলতে পারবেন না


সকাল 9.00 AM
============
প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছে গেলাম টুমলিং... এবার ট্রেকিং রাস্তা আর গাড়ি চলাচল এর রাস্তা একইসাথে... কিছুটা গিয়ে সিংগালিলা ন্যাশনাল ফরেস্ট এর অফিস এ পারমিশন মানে Entry পাস নিতে হবে.. রেজিস্টার এ Signe করবেন গ্রুপের হেড.. আধার কার্ড থাকলেই হবে একজনের.. আর লাগবে 120 টাকা প্রতিদিন প্রতিজনের সান্দাকুফু ট্রেক করার জন্য...


আবারো পথ চলা শুরু... প্রায় তিন কিলোমিটার চলে বিরতি নিলাম নেপালের ছোট্ট একটা গ্রাম জৌবারী.... এখানে বেশ কিছু Home স্টে আছে... জায়গা টা খুব সুন্দর ।।চাইলে এখানেও রাত্রিবাস করতে পারেন...
জৌবারী থেকে আরো 3 কিলোমিটার পথ চলে গৈরিবাস, খুব ইন্টারেস্টিং জায়গা.. ভারত আর নেপালের মাঝে এমন একটা গ্রাম... যেখানে হাঁটার সময় ডান পা পড়বে ভারতের মাটিতে... বাম পা পড়বে নেপালের মাটিতে ।।।


পৌঁছে একটু বিরতি নিলাম... এবার আমার স্যাক টা পাঠিয়ে দিলাম কালিপোখরী.. ট্যুরিস্ট গাড়ি ছিলো একটা তাতেই উপায় হলো, তবে এর জন্য 100 টাকা দিতে হলো
গৈরিবাস এও চাইলে রাত্রি বাস করা যায়.. আমরা Momo খেলাম স্থানীয় দোকান থেকে... অপূর্ব স্বাদ
এরপর পথ উঠে গিয়েছে ওপরের দিকে.. গাইড বললো দুই কিলোমিটার এই ভাবেই উঠতে হবে.. আমরা সেই ভাবেই এগিয়ে গেলাম..তবে এক্ষেত্রে সুবিধা হলো মাঝে মাঝে শর্ট কাট গুলো... এই ব্যপারটা শিখেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে কেদারনাথ ট্রেক করার সময়


আমরা দুজন অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি... সামনে এগোবো কিনা ভাবছি কারণ রাস্তা না ভুল হয়ে যায় ওটাই ভয়... এমন সময় কোথা থেকে হাজির এক পাহাড়ি কুকুর... নিজেই আগে আগে চললো পথ দেখিয়ে.. যদিও আমাদের দেওয়া বিস্কুট সে ভদ্র ভাবেই নাকচ করলো... অভিমান কিনা বুঝতে পারলাম না..
চলতে চলতে নির্জন রাস্তায় হটাৎ মেঘ এসে সব যেন অন্ধকার করে দিলো. দাঁড়িয়ে পড়লাম. তারপর মেঘ কেটে গেলে চলা শুরু.. পৌঁছে গেলাম আরো একটা পাহাড়ি গ্রাম কাইয়াকাটা..


মানুষ দার্জিলিং সিকিম এ যায় বেড়াতে.. কিন্তু এই পর্বে আমার একটা কথা বার বার মনে হচ্ছিলো যারা এই সান্দাকুফু ট্রেক করবে... তাদের কাছে আর কোন কিছুই ভালো লাগবেনা কারণ প্রকৃতি এখানে অনবদ্য অতুলনীয়
।কাইয়াকাটা পৌঁছে স্থানীয় একটা সরাইখানা থেকে কফি নিলাম.. ক্লান্ত শরীরে যেন নতুন উৎসাহের সঞ্চার হলো.. কিছু সময় পরে টিম এর বাকি মেম্বার রা চলে এলো আবারো পথ চলা..
তবে এবার একটু দ্রুত কারণ বেলা পরে আসছে সন্ধ্যার আগে কালিপোখরী পৌঁছাতে হবেই
কিন্তু পথের যেন শেষ নেই.. যদি ও রাস্তা প্রায় সমান... কিন্তু এই শেষ চার কিলোমিটার এর যেন শেষ নেই.. অনেকটা চলার পরে নির্জন রাস্তায় গাড়ির আওয়াজ এ চমক কাটলো, একটা যাত্রী হীন ল্যান্ডরোভার যাচ্ছে... নেহাত মজার ছলে লিফ্ট এর ঈশারা করতেই ড্রাইভার মুচকি হেসে ইঙ্গিত দিলো উঠে বসতে, ব্যাস আর কি চাই.. এই অভিজ্ঞতাও হয়ে যাবে, তবে গাড়ি চলতে যখন শুরু করলো.. বাপরে বাপ... সে ই যে ঝাঁকুনি
ভাগ্যিস রাস্তা খুব সামান্যই ছিলো নাহলে ড্রাইভার কে অনুরোধ করতাম নামিয়ে দিতে


গাড়ি থেকে কালিপোখরী তে নেমেই দেখি চারিদিক রাঙা করে সূর্য অস্তাচলে, আরো এক মহেন্দ্রক্ষনের সাক্ষী হতে যাচ্ছি আমরা. ঠিক গতকাল বিকেলে টংলু তে এই রকমই একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে
সেই মুহূর্তে র সাক্ষী থাকলাম আমি সৌরভ আর কালিপোখরী র পুকুর
এরপর ঠান্ডা আর ক্লান্তি কে কোন কস্টে সহ্য করে শরীর টা প্রায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চললাম একটু কাছেই আজকের আশ্রয় CHEWANG LODGE


এটা বুক করেছিলো আমাদের গাইড.. সত্যি অসাধারণ... ভাড়া বেড পিছু 300 টাকা.. আর ওপরে দুটো রুম এর বেড 800 টাকা.. ওটাই নিলাম.. তারপর আন্টির তৈরি লাল চা. পড়ে দুধ চা খেয়ে শরীর পুরো জুড়িয়ে গেলো... 13 কিলোমিটার পথ চলার জার্নি কোথাও হারিয়ে গেলো
রাতের আহার ছিলো 200 টাকা মিল সিস্টেম সব্জি ভাত ডাল আলুভাজা, চিকেন 4 পিস 100 টাকা
এরপর ঘুমের দেশে


17th ডিসেম্বর..
============
সকালে ঘুম যখন ভাঙল তখন সকাল 8 টা.. উঠে চা খেয়ে পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়লাম কালিপোখরী লেক টা দিনের আলোতে ভালো করে দেখব বলে
এখানে মোবাইল এ কোন নেটওয়ার্ক নেই.. এই হোম স্টে থেকে বাড়িতে একটা ফোন করেছি. ISD কল 10 টাকা নিয়েছে এক মিনিটে
যাইহোক একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম সব জায়গার জল জমে গেলেও কালিপোখরী র জল কিন্তু জমেনি, স্থানীয় মানুষের কাছে এই পুকুর খুব পবিত্র তারা মনে করে এই পুকুরে বাস করে কালনাগ তাই এই জল কোনোদিন জমেনা
একটু পরেই দেখি মোবাইল এ নেটওয়ার্ক এসেছে
দরকারী ফোন গুলো করে নিলাম... ফিরে এসে ব্যাগ গুলো গুছিয়ে তৈরী হয়ে নিলাম সান্দাকুফু ট্রেক এর জন্য.. এর জন্যই তো এতো কষ্ট সহ্য করা.. রাস্তা যদিও 6 কিলোমিটার কিন্তু শুনেছি অনেকে হাঁটতে না পেরে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো অবস্থা হয়
কথাটা যে কতোটা সত্যি সেটা চলার পথে বুঝেছিলাম
যাইহোক আগামী পর্বে সেটা নিয়েই লিখব আর ওটাই হবে সান্দাকুফু অভিযানের শেষ পর্ব
বলে রাখি গাড়ি করে যেতেই পারবেন তবে একবার যদি সম্ভব হয় এই ট্রেক টা করে নিয়েন.. অনেকেই বলবে খুব কঠিন অনেকে বলবে খুব সহজ, কিন্তু আপনি কি বলবেন সেটা ই সব থেকে বড়ো কথা
আমিও করেছি প্রতিটা মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দী তৈরি করেছি অভিযানের পর্ব গুলো গল্পের মতো করে.. কেন জানেন? বৃদ্ধ বয়সে স্মৃতিচারণের জন্য

জীবনে কিছু থাকবে না. থাকবে এই অভিজ্ঞতা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার অনুভূতি
এই পর্বের ভিডিও গুলো দেখতে পারেন নিচের লিঙ্ক গিয়ে...তৈরি হতে পারেন আগামী দিনে অভিযানের জন্য
https://youtube.com/c/TravelWithKoushik
ভালো থাকুন সবাই....


Koushik Paul