• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Tuesday, July 16, 2019

সিলেরি গাঁও আর ইচ্ছে গাঁও, কালিম্পঙ - Sillery Gaon and Icche Gaon, Kalimpong

 আজ পাহাড় ঘেরা রূপকথার দু'ই গাঁ য়ের গল্প বলবো।গ্রাম দুটির নাম- সিলেরি গাঁও আর ইচ্ছে গাঁও।যেখানে নিশ্চুপ- নিস্তব্ধতার সঙ্গীত বেজে যায় সর্বত্র! পাহাড় এখানে ফিসফিসিয়ে মেঘেদের সাথে কথা বলে, সূর্যের নরম স্পর্শে ঘুম ভেঙ্গে এই গাঁ বলে, চলো বেড়িয়ে পড়ি! শিশির যেন পা ভিজিয়ে নরম মাটির পথে চলতে সাহায্য করে!ভোরের মোরগের ঘুম ভাঙ্গানিয়া ডাক বলে,"উঠে পড় সব্বাই"!

গ্রাম দু'টির অবস্থান কালিম্পঙ এ।প্রথমে বলি সিলেরি গাঁ এর কথা।এর উচ্চতা প্রায় 6000ft.পাইনে ঢাকা এই গ্রামটি কালিম্পঙ থেকে প্রায় 23 km দূরে।পেডং- ঋষি রোড দিয়ে গিয়ে পাহাড়ি পথে প্রায় 7 কিমি আঁকা-বাঁকা পথ পেড়িয়ে এই ছোট্ট গাঁও।এই সাত কিমি পথটি যেন 'মাইকেল জ্যাকসন সরণি'....এই পথে নাচতে না জানা লোক ও নাচের কয়েকটি স্টেপ জেনে ফেলবে!....পেটের মধ্যে হতে থাকবে "মুন ওয়াক"।তবে দুপাশে পাইনের বন,সেদিকে মন দিলে পথের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে!আসলে বৃষ্টি ধারায় পথের পিচ দ্রুত উঠে গিয়ে পথ হয়েছে কন্টকময়।যাইহোক স্বতঃস্ফূর্তভাবে নাচতে নাচতে আমরা সিলেরি গাঁওতে প্রবেশ করলাম।

অতি ছোট্ট একটা গ্রাম, বড়জোর 50/60টি বাড়ি।প্রায় প্রতিটি বাড়ির সাথেই ছোট হোমস্টে।না,এগুলিতে সব সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবেনা,.....তবে পাওয়া যাবে সবার প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘা......চারিদিকের সবুজ গাছে ভরা প্রাকৃতিক দৃশ্যকে।ও হ্যা ফ্রি তে কিছু জোঁকের কামড়কেও।আমাদের বাচ্চা-বড় অনেককেই জোঁক বাবাজী ধরেছিলেন!শেষে বাচ্চাদের জোকাতঙ্ক ও হয়ে গিয়েছিল।

তবু অসাধারন এই গ্রাম! সিলেরি গাঁও থেকে ঘুরে নেওয়া যায় ঋষিখোলা নদী, আর পেডং।প্রথমে বলি ঋষি খোলার('খোলা'মানে হল নদী) কথা।

নামটা মুনি-ঋষির মত গম্ভীর শোনালেও নদীটি এখানে উচ্ছল তরুণীর মত বয়ে চলেছে।তিস্তার শাখানদী সে। তিস্তা হয়তো কোথাও ধীর স্থির শান্ত,- কিন্ত এ নদী বড়ই চঞ্চলা।আমরাও বা চুপ থাকি কেন, সদলবলে খাড়া পাড় পেড়িয়ে নদীতে নেমে পড়লাম।

নদীর ঠান্ডা জলে পা ভিজিয়ে মনে মনে বললাম --
"নদীর শব্দ শুনি আমি
নদী তুমি কোন কথা কও"!!
এবার নিয়ে যাব পেডং এ।কালিম্পং থেকে আলগারা হয়ে যেতে হয় পেডং এ।উচ্চতা 4000ft.পেডং এ রয়েছে পেডং মনাষ্ট্রী।

                                                                  
পেডং মনাষ্ট্রী

বড় প্রশান্তি আসে এই মনাষ্ট্রীতে.....!সুন্দর গাছ-গাছালিতে ঢাকা এই মনাষ্ট্রী ছাড়িয়ে আমরা যখন পাইনে ঢাকা পথ পেড়িয়ে রামধূরাতে এলাম তখন আবার দেখা হল তিস্তার সাথে।যদিও সারাটা পথে সে ছিল, পাহাড়ের বাঁকে লুকোচুরি খেলছিল!!সিলারি গাঁও আসার আগেই আমরা তিস্তা -রঙ্গিতের মিলনস্থল (Lover's Point)দেখে ফেলেছি।

তাই হয়তো লজ্জায় সব জায়গায় দেখা দিচ্ছিল না তবু বলবো....
"তিস্তা কোথায় জানতে চায় কেউ কখনো যদি
বলবো আমার মনের ভিতর এখন তিস্তা নদী"।
এবার আমরা নিয়ে যাব ইচ্ছে গাঁওতে।কি মিষ্টি নাম না ইচ্ছে গাঁও।

" ইচ্ছে করে পাহাড় তোকে একটুখানি ছুঁই
ইচ্ছে করে পাহাড় তোকে মনের কথা ক ই!"
ইচ্ছে গাঁওতে এসে এরকমই মনে হবে সবার!হাত বাড়ালেই ইচ্ছেমত পাহাড় ছোঁ ওয়া যায়।
সিলেরি গাঁও থেকে দূরত্ব মাত্র 3 কিমি। এর উচ্চতা5800ft. পাহাড়ি পথে ট্রেক করে যাওয়া যায় এইপথ। আমরা সে চেষ্টা আর করিনি কারন সেই জোঁক!


ছোট্ট গাঁ টার কথা বলি,এলাচ ক্ষেত আর ভূট্টা ক্ষেতের পাশ দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ।সিঁড়িও উঠে গেছে, কিছুটা পথ উঠে মনে হল আরে ঐ পাহাড়ের ঐ দিকটা কাশ্মীরের মত লাগছে না!(নিশ্চয় ই ভাবছো পাহাড় পাহাড় করে মেয়েটার বেশি আদিখ্যেতা!)কিন্তু পাইনের সারি আর সবুজাভ সৌন্দর্য্য কাশ্মীর কে মনে করিয়ে দিচ্ছিল।ছোট্ট বাড়ি দিয়ে সাজানো পাহাড়ি এই গাঁ।অনেক উচুঁতে উঠলে তিস্তার সাথেও দেখা মেলে।তাইতো "-পাহাড়ের প্রেমে ডুবে আছি
পাহাড়ের মাঝে হারিয়েছি আমি".........!

Sampa Basu Das

Monday, July 1, 2019

বর্ধমানের 108টি শিব মন্দির - 108 Shiv Mandir Burdwan, Kalna

 সক্কালবেলায় হাওড়া কাটোয়া লোকাল ট্রেনে কালনা পৌঁছে দেখে নেওয়া যেতে আশেপাশের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান।তার মধ্যে প্রথমেই দেখা যেতে পারে 108 শিব মন্দির।

বর্ধমানের মহারাজা তেজ চন্দ্র বাহাদুরের বানানো 108টি শিব মন্দির। সব মন্দির গুলো একই দেখতে।
তবে বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য এই মন্দিরকে অন্য সব মন্দির থেকে একে আলাদা করে রেখেছে। তাই হল মন্দির গুলো 20টি বৃত্তে বিভক্ত। বাইরের বৃত্তে রয়েছে 74টি মন্দিরে রয়েছে একটি কৃষ্ন ও একটি শুভ্র বর্ণের শিবলিঙ্গ।আর ভিতরের ছোটবৃত্তে রয়েছে 34টি মন্দির যেখানের প্রত্যেকটি শিব শুভ্র বর্ণের।
কিন্তু 112টি মোট মন্দির থাকলেও শিবলিঙ্গ যুক্ত মন্দির কিন্তু 108টি।
লকডাউনের পর এই সবে মন্দির দর্শন শুরু হয়েছে। অনেক আগাছা রয়েছে এখানে,নতুবা আরোও সুন্দর লাগতো জায়গাটি।






Poushali Bhattacherjee Palit

Tuesday, June 25, 2019

রিশপ, কালিম্পঙ - Rishop, Rishyap, Kalimpong

 রিশপ (৮৫০০ ফুট ) হলো কালিম্পঙ জেলার একটি ছোট লেপচা গ্রাম I বাংলার পর্যটন মানচিত্রে খুব পরিচিত নাম I বাঁধানো পাকা রাস্তায় লাভা (৭২০০ ফুট ) থেকে রিশপ এর দূরত্ব প্রায় ১১ কিমি I তবে লাভা থেকে রিশপ যাওয়ার দ্বিতীয় আর একটা রাস্তা আছে ৬ mile road ধরে, সে রাস্তায় এই দূরত্ব কমে আসে মাত্র ৫-৬ কিমি তে I যারা ট্রেকিং এ আগ্রহী তারা এই রাস্তায় লাভা থেকে রিশপ যাওয়ার চেষ্টা করতেই পারেন I হলপ করে বলতে পারি বনের মধ্যে দিয়ে পাথুরে অপ্রশস্ত এই রাস্তায় পথ চলা আপনার অনেক দিন মনে থাকবে I


                                                             রিশপ থেকে দেখা কোলাখাম 

রিশপ থেকে আপনি যেতে পারেন টিফিনদারা, গুম্বাদারা, পেডং, ইচ্ছেগাওঁ, রামধুরা, নকদারা, কোলাখাম ও আরো অনেক জায়গা I এই সব জায়গাগুলোয় আপনি একদিনেই গিয়ে রিশপ চলে আসতে পারবেন I তবে তার জন্য আপনাকে আলাদা করে গাড়ি নিতে হবে কারণ এসব জায়গায় যাওয়ার জন্য কোনো শেয়ার গাড়ি আপনি পাবেন না I আর এই সব জায়গায় যেতে আপনাকে গাড়ির জন্য কোনো দাম দর করতে হবে না , কারণ রিশপ ট্যাক্সি ড্রাইভার এসোসিয়েশন এর ফিক্সড চার্ট অনুযায়ী সব গাড়ির ভাড়া এক I
                                                    Green tailed Sunbird / সবুজল্যাজা মৌটুসি
                                                        Grey headed canary Flycatcher
                                                                    Rufers Sibia
                                                        Yellow-billed Blue Magpie/ লম পুছারি

এই জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ( 2019 ) ২-৩ দিন থেকে আসলাম রিশপ I সেই থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, লাভাতে থেকে রিশপ একদিনে ঘুরে যাওয়া আর রিশপে ২ রাত কাটানোর মধ্যে অনেক পার্থক্য I যারা birding / বার্ড ফোটোগ্রাফি করেন তাদের জন্য রিশপ স্বর্গরাজ্য I কত ধরণের সব পাখি দেখলাম I কি তাদের রং I কিন্তু পাখি নিয়ে আমার পড়াশোনা না থাকায় অনেক পাখিই চিনতে পারিনি I আর দেখলাম ফুল I
                                                     Fuchsia / ঘন্টা ফুল
                                                                               Pansy.


বিভিন্ন প্রজাতির ফুল I কিছু কিছু চোখে দেখা মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রেখেছি I আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম I

Abhijit Banerjee

Monday, June 24, 2019

রিংঘিম উত্তর সিকিম - Ringhim, North Sikkim

 উত্তর সিকিমের মাংগান সাব-ডিভিশনের এক ছোট্ট গ্রাম রিংঘিম। রিংঘিমের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গেলে হয়তো বলতে হয় এ যেন উত্তর সিকিমের এক ছোট্ট ঝুলন্ত বারান্দা। যে বারান্দায় বসে আপনি সারাদিন মন ভরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারেন, নানা নাম না জানা পাখির ডাক শুনতে পারেন, প্রিয় জনের সঙ্গে বা একাই হারিয়ে যেতে পারেন সবুজের মাঝে।

রিংঘিমে একবার এলে ইট-কাঠ এর জঙ্গলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেটাই হয়তো হারিয়ে ফেলতে পারেন। কখন আপনার জানলায় এসে মেঘেদের লুকোচুরি খেলা কখনও বা এক অচেনা পাখির গানের সুরে হারিয়ে যাওয়া। এ নিয়েই কেটে যায় সময়।

আর অন্যদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন আপনার আরও কাছে এসে তার রূপ-লাবণ্যে আপনাকে করে তোলে বুঁদ। এমনই এক মায়াবী রহস্যে মোড়া রিংঘিম আস্তে আস্তে পরিচিত হচ্ছে ভ্রমণপিপাসু ট্রাভেলারদের মনে। মাংগান থেকে খুব কাছে হওয়ায় যাতায়াতের ও সুবিধা।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দিনে দিনেই চলে আসা যায়। গাড়ীতে আসতে অনেকটা সময় লাগলেও নর্থ সিকিমের সৌন্দয্য আপনাকে ক্লান্ত হতে দেবে না। রিংঘিমে বেশ কয়েকটি হোমস্টে গড়ে উঠেছে। সারাবছরই কম বেশি মানুষ আসছেন। তবে পাহাড়ে এসে যারা ওয়াইফাই-টিভি, থ্রি স্টার সুবিধা, সাইটসিনের লম্বা তালিকা খোঁজেন এ জায়গা তাদের জন্য নয়। নিরিবিলিতে প্রকৃতিকে নীলকন্ঠের মত যারা পান করে নিতে চান তাদের জন্য আদর্শ। হোমস্টেতে ছবির মত সুন্দর সাজানো বাগান আর সুস্বাদু খাবার, আতিথিয়তা আপনার মন কাড়বে।


কাছে পিঠে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অপূর্ব কটি গ্রাম, জঙ্গু, সিংঘিক এবং টিংচিম। গ্রাম গুলি অবশ্যই ঘুরে আসবেন। আপনার ভ্রমণ স্মৃতির মনের গোপন ডাইরীতে সারাজীবন লেখা থাকবে। টিংচিম এর শতাব্দী প্রাচীন মনাস্ট্রী এবং পবিত্র এমারেল্ড লেক আপনাকে মুগ্ধ করবে। জঙ্গু একটি ছোট ছবির মত সাজানো লেপচা গ্রাম, মূলতঃ পাখিপ্রেমীদের স্বর্গ। নানারকম হিমালয়ান বার্ডের দেখা মেলে এই গ্রামে। প্রকৃতি যে কি অসম্ভব সৌন্দর্য্যে সেজে বসে আছে তা এই গ্রাম গুলিতে না এলে জানতেও পারবেন না। জঙ্গু থেকে ত্রিণভং এর দৃশ্য অসাধারণ। এছাড়া রিংঘিমের হেলিপ্যাড, হেলিপ্যাড থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দারুণ। রিংঘিমের মোনাস্টিক স্কুল ও এক দর্শনীয় স্কুলটিও অবশ্যই দেখে আসবেন। এছাড়া লাবরাং মনাস্ট্রী, ফোডোং গুম্ফা, রং লুংটেন লি মিউজিয়াম ইত্যাদি অবশ্যই দেখবেন।


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রিংঘিম এর দূরত্ব ১৪০ কিমি।
গাড়ী ভাড়ী- ৫,০০০- ৫,৫০০/- (আনুমানিক)
গ্যাংটক থেকে গাড়ী ভাড়া- ৩৫০০/- টাকা (আনুমানিক)
হোমস্টে খরচ - জন প্রতি/ প্রতিদিন- ১৫০০ (নূন্যতম দুজন)
06291538880

Wednesday, June 19, 2019

সিটং পর্যটন গাইড - Sittong Tourism Guide

 কমলালেবু গ্রাম সিটং, ৩৬০ ডিগ্রি ভিউওয়ালা আহালদাড়া, রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত মংপু, সাথে বাগোরা ফরেস্ট, মাহলদিরাম চা বাগান, শেলফু গ্রাম এবং নীচে শিবাখোলা এডভেঞ্চার ক্যাম্প এবং নদীকে কেন্দ্র ভ্রমন

উত্তরবঙ্গে সিটং এখন জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র । বিশেষ করে শীতকালে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি কমলালেবুর জন্য বিখ্যাত এই অরেঞ্জ ভ্যালি । সাথে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন । এছাড়া জলপ্রপাত (লেপচা), পাহাড়ি নদী (রিয়াং), মনাস্ট্রি এবং পাশেই আহালদাড়ায় ৩৬০ ডিগ্রি হিল ভিউ, কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং সূর্যোদয়, পারিপার্শ্বিক রবীন্দ্র মিউজিয়াম, চা বাগান, পাইন ফরেস্ট, শিবাখোলা নদী এডভেঞ্চার ক্যাম্প- সব মিলিয়ে তিনদিনের একটা জনপ্রিয় প্যাকেজ সিটং কে কেন্দ্র করে ।


সিটং পঞ্চায়েত অনেক বড়। তিনভাগে বিভক্ত । সিটং-১ নিচের রিয়াং নদী এবং যোগিঘাট ব্রীজ সংলগ্ন এরিয়া । কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন হয়না এখান থেকে। সিটং - ২ কমলালেবু বাগান, লেপচা ফলস এরিয়া নিয়ে অনেক গ্রাম নিয়ে আরো উপরে । এখান থেকে অসাধারণ হিলভিউ পাওয়া যায়। সবার উপরে সিটং -৩ । আহালদাড়া এই সিটং ৩ তেই। কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন এই এরিয়াতেই সবচেয়ে ভালো হয়।



◆◆◆ সিটং এ কি কি দেখবেন:
-----------------------------
★ ১) কমলালেবু বাগান:
শীতকালে নভেম্বর থেকে ফ্রেব্রুয়ারী সিটং এর প্রধান আকর্ষণ কমলালেবু গাছ । বাগানে হাতের নাগালেই কমলালেবু দেখতে অসাধারন লাগে । ক্ষেতমালিকরা অনুমতি দিলে দু একটা কমলালেবু পর্যটকরা সংগ্রহও করতে পারেন । কিন্তু অবশ্যই সেটা অনুমতি স্বাপেক্ষ । দার্জিলিংয়ের লেবু আকারে ছোটো এবং অনেকটাই টক । কিন্তু গাছে কমলা ফল দেখতে পাওয়া অসাধারণ অভিজ্ঞতা ।







★ ২) লেপচা জলপ্রপাত:
সিটং মানেই কমলালেবু জানি । অনেকেই এই জলপ্রপাতের কথা জানি না । বর্ষাকালে অপরূপ সুন্দর । শীতকালেও পর্যাপ্ত জল থাকে । সিটং ২ অঞ্চলে গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ি জঙ্গলে প্রায় ২ কিমি খাড়া চড়াই রাস্তা পেরিয়ে এই জলপ্রপাতে পৌঁছাতে হয় । শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই এই ছোটো ট্রেক টা করা যায়। কিন্তু ট্রেক শেষে অসাধারন একটা জলপ্রপাতের স্বাক্ষী হওয়া যায় ।


★৩) রিয়াং নদী এবং যোগিঘাট ব্রীজ:
সিটং ১ অঞ্চলে একদম নীচে রিয়াং নদী এবং তার পাশে যোগিঘাট ব্রীজ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ কেন্দ্র। বাবা রামদেব এই ব্রীজ টা উদ্বোধন করেছিলেন । পাহাড়ী রিয়াং নদীর ধারে এই অঞ্চলটি অবশ্যই একটি বনভোজনের স্পট। পাশেই আছে প্রায় শতবর্ষের পুরানো বাতিল ঝুলন্ত ব্রীজ।


★ ৪) টোরিয়ক মনাস্ট্রি:
সিটং ২ তে টোরিয়ক গ্রামে এই মনাস্ট্রি টা অপূর্ব সুন্দর । এখান থেকে সকালবেলা কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন পাওয়া যায়। পাশেই আছে নেপালি লালুপাতে ফুলের গাছ ।






★৫) লেপচা ঘর:
সিটং এ কাঠের গুঁড়ির উপর মাটির কাঠিবিহীন লেপচা ঘর বিশেষ আকর্ষণের জিনিস ।

◆◆◆ মংপুতে কি কি দেখবেন:
------------------------------
★১) রবীন্দ্র মিউজিয়াম:
মংপু প্রধান আকর্ষণ রবীন্দ্র মিউজিয়াম । এটি নতুন করে বছর দুই হলো চালু হয়েছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি, অনেক কবিতা, স্মৃতি নিয়ে এই মিউজিয়াম টা।



রবীন্দ্র মিউজিয়ামের পাশেই কুইননিন কারখানা ।
★ ২) মংপু মনাস্ট্রি
★ ৩) অর্কিড ফার্ম


◆◆◆ আহালদাড়া তে কি দেখবেন:
----------------------------------
সিটং ৩ তে আহালদাড়া গ্রাম নিজেই একটা ভিউ পয়েন্ট । পাহাড়ের উপর ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ নিয়ে অসাধারন সূর্যোদয় এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের জন্য আহালদাড়া বিখ্যাত। এখানে ভিউ পয়েন্টেই হোমস্টে গড়ে উঠেছে । রুম থেকে সূর্যোদয় দেখা যায় । দর্শন হয় কাঞ্চনজঙ্ঘার । পাহাড়ের ধাপে চা বাগান গড়ে উঠেছে । আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখের অববয়ে পাহাড়ী ঢালের দর্শন পাওয়া যায় ।


◆◆◆ নামথিংপোখড়ি লেক:
শেলফু অঞ্চলে এই লেকে বর্ষাকালে জল থাকে । বিলুপ্তপ্রায় সালামান্ডারের দেখা পাওয়া কখনো কখনো ।
◆◆◆ শেলফু কমলালেবু বাগান:
------------------------------
আহালদাড়ার পাশে শেলফু গ্রাম সম্পূর্ন একটা কমলালেবু বাগানে ভর্তি । এখানে কমলালেবু কিনতেও পাওয়া যায়। তবে এখানকার কমলালেবু বাগানে ঢুকতে অলিখিত টিকিট লাগে ।
◆◆◆ বাগোরা ফরেস্ট:
-----------------------
দিলারাম দিয়ে সিটং যাওয়ার পথে পড়ে পাইন ফরেস্ট । এটি বাগোরা ফরেস্ট নামে পরিচিত।
◆◆◆ মহালদিরাম চা বাগান:
-----------------------------
বাগোরা ফরেস্টের পর আহালদাড়া যাওয়ার পথে পড়ে মহালদিরাম চা বাগান । সমতলের শিবাখোলা দিয়ে আহালদাড়া যাওয়ার পথেও পাহাড়ের উপরে উঠতে হয় মহালদিরাম দিয়ে । চা বাগানের পাশেই এখন হোম স্টে গড়ে উঠেছে । অনেকে একরাত্রি এই চা বাগানের পাশে মহালদিরাম তে থাকেন ।
◆◆◆ শিবাখোলা তে কি দেখবেন:
--------------------------------
ছোটো একটা নদী শিবখোলা আর তার পাশে মহানন্দার জঙ্গল । তাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে শিবখোলা ট্যুরিস্ট এডভেঞ্চার ক্যাম্প । NJP থেকে টয় ট্রেন ছুটে চলেছে সুকনা, রংটং হয়ে দার্জিলিং । কেউ যদি হেরিটেজ কু ঝিকঝিকে যেতে চান, তাহলে গন্তব্য টয়ট্রেনে রংটং । সেখান থেকে গাড়ী নিয়ে শিবখোলা । আর NJP থেকে গাড়ী নিয়ে গেলে ওল্ড হিলকার্ট রোড ধরে (সুকনা মোড় থেকে) , রংটং, সিপাইঝোরা চা বাগান হয়ে শিবখোলা এডভেঞ্চার ক্যাম্প । শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ২৭ কিমি দূরে সবুজের মাঝে, শিবখোলা নদীর ধারে, নরবুং চা বাগানের মাঝে এক টুকরো স্বর্গ । এক কালে ২০ ঘরের বসতি ছিলো বলে নাম ছিলো বিশঘরের গ্রাম । এখন বসতি বেড়েছে । জনা পঞ্চাশেক ঘর নিয়ে শিবখোলা গ্রাম । শিবখোলা উচ্চ বিদ্যালয় টি কিন্তু গ্রামের মধ্যে নজরে পড়বে । বেশ বড়ো । নামকরণ হয়েছে নেতাজীর আই এন এ(ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি) এর নামে । এক কিমি দূরে নদীর ধারে শিবমন্দির । সাথে দুর্গা মাতাও আছেন । এরপর গন্তব্য পাশের নরবুং চা বাগান এবং চা ফ্যাক্টরি । চা বাগান টি খুবই আকর্ষণীয় ।
নদীর ধারে রাতের শিবখোলার টেন্ট লাইফ অসাধারন। এক দিকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, অন্য দিকে কুলকুল করে বয়ে যাওয়া শিবখোলা নদী । এই দুয়ের শব্দ শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমের আমেজ চলে আসবে বোঝায় যাবেনা ।
●●● ট্রিপ প্ল্যান:
----------------
★ প্রথমদিন : আগেরদিন নিউ জলপাইগুড়ি গামী ট্রেনে উঠে প্রথমদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামুন।
প্রথমদিন রাত্রিবাস সিটং তে । আজ দেখে নিন মংপু রবীন্দ্র মিউজিয়াম, মংপু মনাস্ট্রি, অর্কিড ফার্ম । তারপর পথেই পড়বে রিয়াং নদী এবং যোগিঘাট ব্রীজ ।
তারপর সিটং এ হোমস্টে পৌঁছান ।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে নিন সিটং এই লোকাল লেপচা জলপ্রপাত, কমলালেবু বাগান, লেপচা ঘর এবং টোরিয়ক মনাস্ট্রি।
★ দ্বিতীয়দিন : আজকের রাত্রিবাস আহালদাড়া তে ।
সিটং থেকে সকালে বিদায় নিয়ে প্রথমে আসুন বাগোরা পাইন ফরেস্ট । তারপর মহালদিরাম চা বাগান । সেখান থেকে নামথিংপোখড়ি লেক, শেলফু গ্রামে কমলালেবু বাগান। তারপর পৌঁছে যান আহালদাড়া। হোমস্টে তেই ভিউ পয়েন্ট। দ্বিতীয়ার্ধে পুরো আহালদাড়া পাহাড়, ভিউ পয়েন্ট ঘুরে নিন। রাতের আহালদাড়া অসাধারণ।
তৃতীয়দিন: আজ সকালে আহালদাড়া থেকে দর্শন করুন সূর্যোদয় এবং সকালে দেখুন কাঞ্চনজঙ্ঘা। তারপর আহালদাড়া থেকে বিদায় নিয়ে নেমে আসুন শিবাখোলা । অসাধারন শিবাখোলা নদীর ধারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন। হাতে সময় থাকলে তৃতীয়দিন শিবাখোলা এডভেঞ্চার ক্যাম্পে রাত্রিবাস করতে পারেন । সেটাই সবচেয়ে ভালো । আর সময় না থাকলে শিবাখোলা ঘুরে নেমে আসুন সমতলে। ফেরার ট্রেন ধরুন। উল্লেখ শিবাখোলা ছাড়াও আহালদাড়া থেকে লাটপাঞ্চার (হর্নবিলের জন্য বিখ্যাত) ঘুরে/রাত্রিবাস করে ফেরা যায়।
◆◆◆ কিভাবে যাবেন সিটং:
---------------------------
১) শেয়ার গাড়িতে সিটং যেতে চাইলে দার্জিলিং গামী শেয়ার গাড়িতে উঠে দিলারাম মোড়ে নামুন। সেখান থেকে সিটং যাওয়ার গাড়ি বুক করতে হবে। এটি বাগোরা হয়েই সিটং যাবে। বিকেলের দিকে দিলারাম থেকে সিটং শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়।
২) গাড়ি রিজার্ভ করলে উপরের রুটের চেয়ে সেভক হয়ে মংপু দিয়েই সিটং যাওয়া যায়। উল্লেখ NH ৩১ গ্যাংটক যাওয়ার রাস্তায় কালীঝোরা দিয়ে লাটপাঞ্চার, বিরিক দিয়ে শেলফু, আহালদাড়া এবং রাম্বিঝোরা দিয়ে মংপু হয়ে যোগীঘাট হয়ে সিটং যাওয়া যায় ।
এছাড়া রংটং দিয়ে শিবাখোলা ঘুরে মহালদিরাম চা বাগান দিয়ে উঠেও আহালদাড়া/সিটং যাওয়া যায় ।
◆◆◆ কোথায় থাকবেন:
------------------------
● সিটং:
-------
সিটং এ থাকার প্রচুর হোমস্টে। সবচেয়ে নাম করা সিটং ৩ এর বিশেষ হোমস্টে। এছাড়া সিটং ২ তে শেরপা হোমস্টে , টোরিয়ক রায়াং হোমস্টে, রাশিকা হোমস্টে, মেঘবিতান হোমস্টে খুবই ভালো অবস্থানে।
এছাড়া সিটং ১ এ যোগিঘাট ব্রীজের কাছে আছে মুখিয়া হোমস্টে ।
● আহালদাড়া:
--------------
ভিউ পয়েন্টেই গুরুং হোমস্টে, সানরাইজ হোমস্টে।
● মহালদিরাম চা বাগানে:
------------------------
সালামান্ডার হোমস্টে
● শিবাখোলা:
-------------
শিবাখোলা এডভেঞ্চার ক্যাম্প
● শেলফু:
----------
নেচার লাভার হোম স্টে
● লাটপাঞ্চার:
-------------
আহালদাড়ার গুরুং হোমস্টের ই হর্নবিল হোমস্টে ।
প্রতি হোমস্টের নাম্বার গুগলে পাওয়া যাবে।
★★★ খরচ:
-------------
হোমস্টে পারডে পার হেড খরচ ১০০০-১৩০০/- ।
গাড়ি খরচ পার ডে ৩০০০/- (তেলের দাম এবং দরদামের উপর নির্ভরশীল)

Subhojit Tokdar