• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Sunday, October 11, 2020

ঘাটশিলা পুরুলিয়া - Ghatshila Purulia

 পাহাড় , নদী , জঙ্গল , ঝর্ণা , লেক , ড্যাম এই সব যদি একসঙ্গে দেখতে চান , আর যদি চান কলকাতার খুব কাছে , তাহলে আছে একটি মাত্র জায়গা , ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার ঘাটশিলা। ছোটনাগপুর মালভূমির অংশবিশেষ আর খনিজ সম্পদেও পরিপূর্ণ। উইকএন্ড এর ছুটিতে এমনকি ১ দিনের ট্রিপেও এই স্পট গুলোর কিছু ঘুরে আসতে পারেন।

                   

**আমাদের প্ল্যান
গত ২৫ এ ডিসেম্বর ১১ জন বন্ধু মিলে ৩ দিনের জন্য ঘুরে এলাম ঘাটশিলা আর টাটানগর। ২৫ এ সকালের ট্রেনে ঘাটশিলা পৌছালাম , ৩ ঘন্টার যাত্রাপথ। আমাদের গাড়ি বুক ছিল , প্রথম দুদিন ঘাটশিলার বিভিন্ন স্পট ঘুরলাম আর তৃতীয় দিন সকালে ঘাটশিলা হোটেল থেকে চেকআউট করে টাটানগর ঘুরে , টাটানগর থেকে রাতের ট্রেনে বাড়ি ফিরলাম।

                                                                স্বর্ণরেখা ভিউ পয়েন্ট

->প্রথম দিন ঘুরলাম: ধারাগিরি ফলস , বুরুডি লেক বা ড্যাম , সুবর্ণরেখার সান সেট পয়েন্ট , চিত্রকূট টিলা (সঙ্গে সিদ্ধেশ্বর মন্দির) আর বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ি গৌরী কুঞ্জ।
                                                            ধারাগিরি ফলস

এছাড়াও এই রাস্তায় পড়বে ঘাটশিলা রাজবাড়ী (সান সেট পয়েন্ট এর কাছে) আর রামকৃষ্ণ মঠ , দেখে নিতে পারেন ।
মেন্ রোড থেকে ধারাগিরি যাবার রাস্তা লাল মাটির , শাল মহুয়ার জঙ্গল ও দেখতে পাবেন। রাস্তা সরু আর কিছুটা খারাপও। তাই অটোতে যেতে সময় লাগবে আর কষ্টও হবে। আর এই রাস্তায় প্রথমে পড়বে বুরুডি লেক আর তারপর ধারাগিরি।
                                                                বুরুডি লেক

->দ্বিতীয় দিন ঘুরলাম: ফুলডুঙরি টিলা , হিন্দুস্তান কপার লিমিটেড এর গেট , স্বর্ণরেখা ভিউ পয়েন্ট , সিদ্ধেশ্বর পাহাড় (পাহাড়ের ওপর একটা মন্দির আছে) , রঙ্কিনী দেবীর মন্দির।
সময় থাকলে narwa ফরেস্ট , গালুডিহি ড্যাম ঘুরতে পারেন। আমরা পরের দিন গালুডিহি ড্যাম ঘুরে টাটানগর গেছি।

->তৃতীয় দিন ঘুরলাম: গালুডিহি ড্যাম , আর টাটানগর এ ডিমনা লেক , চান্ডিলা ড্যাম
                                                                    সিদ্ধেশ্বর পাহাড়

                                                                রঙ্কিনী দেবীর মন্দির
সময় থাকলে দলমা বেস , জয়দা মন্দির , সাই বাবা মন্দির ঘুরতে পারেন।
**কিভাবে যাবেন?
হাওড়া থেকে ঘাটশিলার ট্রেন পেয়ে যাবেন , তবে সকালের ট্রেনে যাওয়া খুব সুবিধের। ৩ ঘন্টায় পৌঁছে , হোটেলে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়তে পারবেন।
                                                                    চিত্রকূট টিলা

যদি ঘাটশিলা শুধু ঘোরেন , গাড়ি বুক করতে পারেন বা স্টেশন এর বাইরে অটো আছে , বুক করুন। অটো এর রেট চার্টও দেয়া আছে।
                                                                    গালুডি ড্যাম
                                                                        ডিমনা লেক

যদি ঘাটশিলা থেকে টাটানগর আসতে চান , ট্রেনেও আসতে পারেন , এক ঘন্টা সময় লাগে। ফেরার দিন টাটানগর থেকে হাওড়া এর টিকিট কেটে রাখুন , অনেক ট্রেন আছে , তবে বিকালের টায় কাটা ভালো।

                                                                            ডিমনা লেক

সুতরাং ফেরার দিন সকালের ট্রেনে ঘাটশিলা থেকে টাটা আসুন বা আগের দিন রাতে আসতে পারেন , তবে তাতে আবার আপনাকে টাটা তে হোটেল বুক করতে হবে।


                                        গৌরী কুঞ্জ - বিভূতিভূষণ এর বসতবাটি
টাটানগর থেকে গাড়ি ভাড়া করে স্পট গুলো ঘুরে নিন।
**কোথায় থাকবেন?
আমরা ছিলাম হোটেল কৌশল্যা তে (ফুলডুঙরির সামনে)। সেটা হাই রোডের ওপর , আসে পাশে সেরকম কিছু নেই , তাই সাজেস্ট করবো না। আগে অন্য হোটেল বা গেস্ট হাউস দেখুন , যা পিক টাইম ছাড়া পাওয়া যায়। নয়তো কিছুদিন আগে থেকে বুক করে নিন।
                                                                ফুলডুঙরি টিলা
**কোথায় খাবেন?
আমরা প্রথম দিন খেয়েছিলাম হোটেল রেইন বার্সে তে , দ্বিতীয় দিন হোটেল রঙ্কিনী তে (ফুলডুঙরির উল্টো দিকে)। আর তৃতীয় দিন টাটানগর যাবার দিন হাই রোডের ওপর পাঞ্জাবি ধাবায়। তবে দ্বিতীয় দিনের হোটেল টা ভালো ছিল।
**কখন যাবেন?
শীতকালের সূর্যের আলোতেও গরম লাগে , তাই বলবো শুধু শীতকালেই যান , ঘুরতে পারবেন।
ফটো আমার আর আমার বন্ধুদের তোলা
সব স্পট ঘুরতে সময় লাগবে , তাই কিছু স্পট মিস ও হতে পারে। আর খরচ বেশি হবে না , তাই ছোট্ট ছুটিতে এই শীতকালেই ঘুরে আসতে পারেন ঘাটশিলা। আর যদি আমাদের এই ঘাটশিলা ভ্রমণ পর্ব দেখতে চান তাহলে আমাদের ইউটুবে এ দেখতে পারেন , লিংক দিলাম।


Kanchan Dutta

Saturday, September 26, 2020

লামাহাট্টা দার্জিলিং - Lamahatta Darjeeling

 ২০১২ সালের মার্চ মাসে এই গ্রামটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সৌন্দর্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের মোবাইলে ছবিও তুলে নেন বেশ কয়েকটি। ধুপি আর পাইনে ঘেরা লামাহাট্টা এমনই বহু প্রকৃতি প্রেমিকে আকর্ষণ করে আসছে তার সৌন্দর্যের মুগ্ধতায়। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় মানুষদের সহযোগিতায় আজ লামাহাট্টা বাংলার মানচিত্রে এক দূর্দান্ত টুরিস্ট ডেস্টিনেশন। লামা কথার অর্থ বুদ্ধিস্ট মঙ্ক আর হাট্টা কথার অর্থ হাট বা ঘর।

লামাহাট্টার উচ্চতা ৫৭০০ ফুট, দার্জিলিং শহর থেকে ২৩ কিমি দূরে দার্জিলিং-কালিম্পং হাইওয়ের এর নিকটে এই অপূর্ব জনপদটি অবস্থিত। এখানে মূলত ভুটিয়া, শেরপা, ইয়ালমোস, তামাং, দুকপা প্রজাতির মানুষদের বাস। চাষ-আবাদ এবং পশুচারণ এই মূলত তাদের জীবিকা যদিও বর্তমানে টুরিস্ট স্পট হিসাবে লামাহাট্টার পরিচিতি হওয়াতে গ্রামের মানুষরাই হোমস্টে তৈরী করে অতিথি সেবার মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করছেন। লামাহাট্টার এই ইকো হাউসের ঘরে বসেই দেখা মিলবে বাঙালী ট্রাভেলারদের অতি প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘার। তাছাড়া সামনের সুইমিং পুলে নেমে রিলাক্স করতে করতেও দেখতে পারেন কাঞ্চনকে। প্রকৃতির কাছাকাছি নিরিবিলিতে কাটানোর ঠিকানা খুঁজছেন যারা তাদের জন্য এই ছোট্ট পাহাড়ী জনপদটি আদর্শ হতে পারে।


প্রকৃতির ইকোলজিকাল ব্যালেন্স ও বায়োডাইভার্সিটি কে নষ্ট না করে এখানে বানিয়ে তোলা হয়েছে রোড সাইড গার্ডেন, বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড দেখতে পাবেন এখানে। চমৎকার সুন্দর এই গার্ডেনটিতে ঢুকতে লাগে ১০/- টাকা। পাইনের ছায়ায় কোনো প্রিয়জনের পাশে বসে পাহাড়ের মাঝে এমন সুন্দর বাগানটির সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে নিতে আপনি হারিয়ে যাবেন কোন অজানা আস্তানায়। বাগানের এক ধারে প্রেয়ার ফ্ল্যাগ এর সারিও মন কাড়বে আপনার। এই প্রেয়ার ফ্ল্যাগের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা বাতাসে আপনার মন হবে স্নিগ্ধ। এই বাগানটিতেই একটি 'মাচান' বা উডেন টাওয়ার রয়েছে, যা থেকে কোন পরিস্কার দিনে আপনি নামচি, দার্জিলিং, টাইগার হিল এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাবেন। সবমিলিয়ে লামাহাট্টাযর অনুভুতি বহুদিন অবধি আপনার মনে দাগ কেটে থাকবে।

কাছেপিঠে দর্শনীয়:
রোডসাইড গার্ডেন বা লামাহাট্টা পার্ক এর কথা আগেই বলেছি এছাড়া একটি ছোট পথ লামাহাট্টা থেকে হিলটপ এ চলে গেছে যেখানে আপনি দেখা পাবেন ছোট্ট একটি লেকের। স্থানীয়দের কাছে লেকটি পবিত্র। পাইনে ঘেরা আরেকটি পথ লামাহাট্টা থেকে ৮কিমি ট্রেক করে যাওয়া যায় তাকদা পর্যন্ত। এছাড়া তাকদা অর্কিড সেন্টার এবং গাড়িদন্ডা ফোর্ট ও ঘুরে আসতে পারেন দিনে দিনেই। এছাড়া লামাহাট্টার কাছেই গ্লেনবার্ণ টি এস্টেট, রোংলি রাংলিয়ট টি এস্টেট, তাকদা টি এস্টেট ইত্যাদি টি এস্টেট গুলিও দেখবার মতো। লামাহাট্টা থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে পেশক ভিউ পয়েন্ট যেখান থেকে তিস্তা এবং রংগীতের সঙ্গম দেখতে পাবেন যা ত্রিবেণী নামে পরিচিত। এককথায় এর সৌন্দর্য অসাধারণ। এছাড়া কেভ টেম্পল এবং লামাহাট্টার মনাস্ট্রী টিও পাঁয়ে হেঁটেই ঘুরে দেখে নিন। এক কথায় দুদিনের এক চমৎকার ডেস্টিনেশন লামাহাট্টা।


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দূরত্ব- ৭০ কিমি, যেতে সময় লাগে তিন ঘন্টা।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ী ভাড়া -৩৫০০/- টাকা
ইকো হাউসের খরচ-
ডাবল বেড- ৪,৫০০/- ( দুজনের সমস্ত মিল সহ)
টুইন রুম- ৫,৫০০/- ( দুজনের জন্য সমস্ত মিল সহ)
কটেজ- ৬,৫০০/- (দুজনের সমস্ত মিল সহ)
*একস্ট্রা পার্সন- ১৪০০/- জনপ্রতি।

Wednesday, September 9, 2020

টুমলিং(দার্জিলিং, নেপাল) - Tumling (Darjeeling, Nepal)

 গত শুক্রবার (09-11-18)আমি ও আমার এক ভাই দ্বীপ মিলে পরেরদিন অর্থাৎ শনিবার একদিনের জন্য Rishi khola ( Kalimpong ) এ গিয়ে তাঁবু করে থাকবো বলে ঠিক করলাম । রাতেই আরো দুই বন্ধু সোমনাথ, সজল ও এক ভাই অভিষেককে বললাম, আমাদের এই ছোট ভ্রমন এর সঙ্গী হতে, তারাও রাজি হলো আমাদের এই ভ্রমনে যোগদান করতে । 

সেইমত গতকাল শনিবার ( 10-11-2018 ) আমরা সকাল 10:00 টায় বাড়ি থেকে বেড় হলাম । চালকের আসনে আমি ।

সাথে নিলাম গরম কাপড় ও 2 টা তাঁবু ।


বাড়ি থেকে 6 km যেতেই সবাই বললো একটু বেশী ঠান্ডা জায়গায় গেলে ভালো হতো ।
সাথে সাথে পরিকল্পনা পাল্টে , Tumling যাবো বলে ঠিক হলো । 


মিরিক , পশুপতি , সুখীয়া পোখরি পার করে মানেভঞ্জন পৌছলাম দুপুর 1:30 টায় । সেখানে আমাদের গাড়ি রাখার ব্যাবস্থা করে , সেখানে প্রথমে entry করলাম অফিসে তারপর একটি land lover গাড়ি 1500 টাকায় ঠিক করে সোজা Tumling ।



Tumling এ পৌছে Pasang sherpar home stay তে একটি রুম নিলাম ,কারন তিনি বললেন রাতে তাপমাত্রা অনেক নেমে যাবে তাই রাতে tent এ না থাকাটাই ভালো , সাথে তিনি পাশের একটি ফাকা মাঠে tent করার ব্যাবস্থা করে দিলেন । tent লাগিয়ে গরমাগরম খিচুড়ি ও পাপড় । 

রাত 12 টা পর্যন্ত tent এ থেকে রুমে এসে ঘুমালাম ।
আজ 2 টা পর্যন্ত সেখানে এক অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে কাটিয়ে land lover গাড়ি করে মানেভঞ্জন , সেখান থেকে আমাদের গাড়ি নিয়ে রাত 8:00 টায় বাড়ি ফিরলাম ।


Sanjoy Biswas

Wednesday, August 26, 2020

সিটং কার্সিয়ং দার্জিলিং - Sittong, Kurseong, Darjeeling

 কমলালেবুর গ্রাম সিটং। শীতে কমলালেবুর মরশুমে যখন কমলালেবু হয়, গোটা গ্রামটি যেন কমলা রং ধারণ করে। পাহাড়ী পথের আঁকে-বাঁকে যারা পাঁয়ে হেঁটে ঘুরতে ভালোবাসেন তাদের জন্য অসাধারণ একটি গন্তব্য হতে পারে সিটং।

রিয়াং নদীর ধারে বসে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা উপলব্ধি করতে করতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন মনের কোনো অজানা আস্তানায়। পথের ধারে কমলালেবুর বাগান আর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রিয়াং নদীর সাথে পা মিলিয়ে আপনি চলতেই পারেন কোন নাম না জানা পথে।

সিটং এ করার তেমন কিছু নেই, প্রকৃতিকে উপভোগ করা ছাড়া। তবে নেচার ওয়াক, বার্ডিং, ফিসিং এবং জনকোলাহল থেকে লুকিয়ে প্রকৃতির খুব কাছে থাকা যায় সিটং এ। এছাড়া যারা পাখি ভালোবাসেন তাদের জন্য এক দারুণ আস্তানা এই সিটং। সিটং এ দেখা পেয়ে যাবেন হর্ণবিল বা ধনেশ পাখির।


সিটং লাটপাঞ্চার এইসব অঞ্চলে এদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। আর আপনি যদি কমলালেবু ভালোবাসেন তবে যত খুশি কমলালেবু খেতে পারেন। হিমালয়ান পাখি এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতির দেখা মিলবে সিটং এ। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে সিটং এ ভালোই লাগবে।

দর্শনীয় স্থান: মাত্র ২০ কিমি দূরেই মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ী ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া লাটপাঞ্চার, অহলডারা, নামথিং পোখরি লেক, শেল্ফু হিলস ও ঘুরে আসুন গাড়ী ভাড়া করে। নামথিং পোখরি লেকে দেখা মিলবে পৃথিবীর প্রাচীন জীবগুলির মধ্যে অন্যতম স্যালামেন্ডারের। দিলারাম, বাগোরা, চটকপুরের মতো গ্রাম গুলিও কাছেই। চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন।

সিটং এ কমলালেবু দেখার সেরা সময় নভেম্বর থেকে জানুয়ারী। গাছে গাছে কমলালেবু গোটা গ্রামটাকেই কমলা করে রাখে। মাত্র ৪০০০ ফুট উচ্চতায় হওয়ায় ঠান্ডার তীব্রতাও খুব বেশি নয়।

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে
লাটপাঞ্চার হয়ে গেলে দূরত্ব ৫৫ কিমি।
মংপু হয়ে গেলে দূরত্ব ৭৫ কিমি।
গাড়ী ভাড়া ৩০০০/- টাকা।
হোমস্টেতে খরচ-
*রুম ডল শেয়ারিং জনপ্রতি প্রতিদিন ১৫০০/-
* রুম ট্রিপল শেয়ারিং জনপ্রতি প্রতিদিন ১২৫০/-
*রুম ফোর শেয়ারিং জনপ্রতি প্রতিদিন ১২০০/-
টেন্টে থাকার খরচ ১২০০/- জনপ্রতি প্রতিদিন।
+91 6291538880
info@himalayanretreat.co.in

Monday, August 17, 2020

লেপচাখা, আলিপুরদুয়ার - Lepchakha, Alipurduar

 আজ আপনাদের পরিচয় করাবো আলিপুরদুয়ারের উওর দিকে এক পাহাড়ি গ্ৰাম "লেপচাখা"। এই নাম শোনেননি এমন ভ্রমনরসিক বাংঙ্গালি আজকের দিনে খুবই বিরল।বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তরগত সান্তালাবাড়ির থেকে মাত্র ৭ কি.মি দূরে অবস্থিত লেপচাখার পার্থিব সৌন্দর্যের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব।

লেপচাখা ভারত-ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী বক্সা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি ছোট গ্রাম তবে অত্যন্ত সুন্দর। বক্সা দুর্গ থেকে আরও 3 কিলোমিটার ট্র্যাক আপনাকে লেপচাখার মনোরম গ্রামে নিয়ে যাবে।লেপচাখার মূল আকর্ষণ হ'ল পাহাড়ের টেবিল এর মতো শীর্ষ অঞ্চল সেখান থেকে আপনি ডুয়ার্স অঞ্চলের সমস্ত নদী প্রবাহ দেখতে পাবেন। এটি একটি অসাধারণ সুন্দর দৃশ্য। এবং আমি মনে করি লেপচাখাকে বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত সমস্ত বিশেষণগুলি ন্যায়সঙ্গত। উপরের দিক থেকে, আপনি বক্সা টাইগার রিজার্ভ, ভুটান পাহাড় এবং সুন্দর পার্শ্ববর্তী একটি প্যানোরামিক ভিউ পাবেন। গ্রামে একটি সাদা বৌদ্ধ স্তূপও রয়েছে যা ছোট্ট গ্রামের বাড়ির মাঝে দর্শনীয় দেখায়।


লেপচাখা মূলত ডুকপা অধিবাসীদের একটি ছোট্ট গ্ৰাম।এক ঝলক দেখলে মনে হবে আপনি ভূটানের কোনো গ্ৰামে অবস্থান করছেন।প্রসঙ্গত বলে রাখি অতীতে লেপচাখা ভূটানের অধিনে ছিল।পরবর্তীতে ইংরেজ শাসন কালে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।বর্তমানে লেপচাখাতে প্রায় ৭০ টি ডুকপা পরিবার বসবাস করেন।এরা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।গ্ৰামে ঢুকতেই একটি মনাষ্ট্রি আপনাকে স্বাগত জানাবে আপনার কিছু ক্ষণের জন্মে মনে হতে পারে আপনি হয়ত ভুটানের কোনও গ্রামে এসে পড়েছেন। প্রায় ৩০০০ ফুট হওয়ার জন্য এখানকার আবহাওয়া সারা বছরই বেশ মনোরম থাকে। গ্রামবাসীরা খুব শান্তিপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ, বিশেষত বাচ্চারা। মানুষ দেখে তারা বেশ খুশি হয়। অনেকেই জয়ান্তী,বক্সাফোর্ট ঘুরতে এসে অনেকেই লেপচাখায় দু-এক দিনের জন্য ঢুঁ মেরে যায়।সৌন্দর্যের মাঝে লেপচাখায় একটি রাত কাটাতে এই জায়গায় পৌঁছানোর সমস্ত ঝামেলা পুরোপুরি মূল্যবান। লেপচাখায় সূর্যাস্ত নিঃসন্দেহে খুব সুন্দর।


লেপচাখা শান্ত ও নিরিবিলি গ্ৰামের জন্য পর্যাটকদের কাছে দিন দিন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।সন্ধ্যায় যদি আপনার আলিপুরদুয়ার ও হাসিমারার আলোর রোশনাই চোখে পড়ে তাহলে পরদিন সকালে পূর্বে সংকোশ নদী থেকে পশ্চিমে তোর্ষানদীর মাঝে বিস্তির্ন বক্সা বাঘবন চোখে পড়বে। কপাল ভালো থাকলে রাজ ধনেশের দেখা পেতে পারেন লেপচাখার আশেপাশে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক ভাবে বেশ রক্ষনশীল।তাই বছরের বিভিন্ন সময় পূজা পার্বন অনুষ্ঠিত হয়।বিশেষত, লোসার (নববর্ষ) ও চৈত্র সংক্রান্তিতে পূজার রীতিনীতি।কোন এক দুপুর বা বিকেলে হটাৎই শুনতে পারবেন "ওম মানি পদ্মে হুম" ।
লেপচাখা কে কেন্দ্র করে আপনি "ওছলুম, কাতলুং,রুপম ভ্যালি" ঘুরে আসতে পারেন।এছাড়াও উওরবঙ্গের উল্লেখযোগ্য শিব তীর্থস্থান "মহাকাল" দর্শন করে জয়ান্তী যেতে পারেন।


সবশেষে দকারি একটি কথা, আপনি ভাবছেন খুব সুন্দর জয়গা যেকোনো সময় যে কোনো বেক্তি পৌঁছে জেতে পারেন. তাহলে একটু ভুল হবে সান্তালাবাড়ির পর থেকে কোনো গাড়ি চলাচল করে না (গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত রাস্তা না থাকার জন্য)। তাই যারা নিজের পায়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে মায়ের মায়া ভরা কোলে যেতে চাইছেন, তাদের জন্য লেপচাখা তার সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে অপেক্ষা করছে।


Jajabor Deb

Friday, August 7, 2020

বক্সা টাইগার রিজার্ভ - Buxa Tiger Reserve - Alipurduar

 বক্সা টাইগার রিজার্ভ - পর্ব ২:

দুপুরে খেয়ে বেরিয়ে পরি পোখরি হ্রদের দিকে। প্রকৃতি আবার আমাকে অবাক করল যখন জানতে পারলাম ১৪০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদের জল ১২ মাস একই থাকে। অবুঝ মনুষ্য জাতি এখানেও ভগবানের দোহাই দিয়ে দুটো ছোটো মন্দির স্থাপন করেছে।

জানতে পারলাম ওই হ্রদে একসাথে ঘর করে মাগুর আর কচ্ছপের দল। কিন্তু এখানেও আমার মন কাড়লো জঙ্গল আর প্রকৃতির নির্ভেজাল সুন্দর্য্য। গাড়ি থেকে নেমে ১.৫ কিমি পাহাড়ের গা বেয়ে আর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রেক করে উঠতে হয়, সে রাস্তায় শুনেছিলাম শুকনো পাতার ওপর পরা পায়ের শব্দ, স্বাদ পেয়েছিলাম এক অসীম স্বাধীনতার, গন্ধ নিয়েছিলাম গন্ধহীন সেই জঙ্গলের , দেখেছিলাম ছোটো বড় অনেক সুন্দর সুন্দর কিট পতঙ্গের দল, অনুভব করেছিলাম নিজের অস্থিত্ব।

নিচে জয়ন্তীর কলকল শব্দ শুনতে শুনতে ওপরে ওঠার সময় গাছের ফাঁক দিয়ে একবার নিচের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত এক জঙ্গল যার রূপে রঙে এত ভিন্নতা তাকে একটি ছোটো অ্যামাজন করে তুলেছে। সবার মত আমিও মুড়ি খাওয়ালাম মাংসাশী সেই মাগুরদের।

বাবার ডাকে ফিরে আসলাম বর্তমান সময়, সেই মায়াবী রাতে। বাধ্য মেয়ের মত ঘরে ঢুকে ঘুম লাগলাম। পরের দিন সকালে উঠে কোকিলের ডাক শুনছি এমন সময় ফোন আসলো মোহন দার, বললো সকালে ভুটিয়া আর চুনিয়া বসতি ঘুরে আসা যেতে পারে। ৩০ মিনিটের মধ্যে বেরিয়েও পরলাম।

ভুটিয়া বসতি আরো নিস্তব্ধ। জঙ্গলের গায়ে মাথা রেখে খুব শান্ত ভাবে ঘুমাচ্ছে গ্রামটা। এই বসতি চারিদিক দিয়ে শুধু সবুজে ঘেরা। এখানেও একটা থাকার ব্যবস্থা আছে। রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে রাত কাটানোর মজাটা এখানে পুরো আলাদা। ভুটিয়া বসতি ছেড়ে আমরা চললাম চুনিয়া নদীর ওপর দিয়ে চুনিয়া ওয়াচ টাওয়ারের দিকে। চুনিয়ার শুকনো বুকের ওপর বেড়ে উঠেছে আরেক সুন্দর জঙ্গল। প্রত্যেক বর্ষায় সে জঙ্গল রূপ বদলায়। সাদা পাথরের পথ, আকাশে নিলের ছাউনী আর দুপাশে সবুজের ব্যারিকেড। যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি। সেই জঙ্গলে শুধু আমরা, চার পাশে অনেক দুর অবধি নজর রাখলেও দেখা যায় না কোনো মনুষ্য প্রাণ। এই যাত্রাও শেষ হলে ঘণ্টা দেড়েকের মাথায়।

আজ এই স্বর্গীয় আস্থানা ছেড়ে দেবো। তার আগে শেষ বারের মত জঙ্গলকে আলিঙ্গন করব জয়ন্তী বনের সাফারীতে গিয়ে। স্নান খাওয়ার পর বেরিয়ে পরলাম জয়ন্তী নদীকে বিদায় জানিয়ে। ম্লান হয়ে গেল সকল উত্তেজনা। শেষ বারের মত চিকন কালো পাকা রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের কার্পেটে পা রাখলো আমাদের জিপসি। এই বনের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার বেলা এসে গেছে।

বিদায় জানাতে হবে এই চারিপাশের অপরূপ সবুজকে, চারিপাশে উরে যাওয়া পাখি, প্রজাপতির দলকে, সেই ময়ূর মায়ুরীদের। হরিণের একদল হঠাৎ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে ছুটতে লাগলো আমাদের গাড়ির সামনে। প্রকৃতি শেষ বারের মত একটা উপহার দিয়ে জানো বলতে চাইল, "আবার আসিস"। আসবো তো নিশ্চই, এই জঙ্গল কি আর ভোলা যায়? নাড়ির টান তৈরি হয়ে গেছে জানো তার সাথে। বক্সা রিজার্ভের বন এখনও কুমারী, অনাবিষ্কৃত, অপরিচিত কিন্তু আমার মতে এ আমাজনের ছোটো জ্ঞাতি ভাই। দুয়ার্স আগে অনেক বার দেখেছি কিন্তু এরকম প্রকৃতির অস্থিত্ব আর কোথাও টের পাইনি।

বক্সা টাইগার রিজার্ভ ছেড়ে আমরা এবার পারি দিলাম সিকিয়াঝোরার দিকে। ওখানে যাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য সিকিয়াঝোরার নদীর সাফারি। সিকিয়াঝোরা নদীটিকে দুপাশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে বক্সা জঙ্গলের শাখা প্রশাখা। উচ্ছতায় নিম্ন হলেও ঘনত্ব কোনো অংশে কম না। মাঝি ভাইদের কাছে শোনা গেলো এই জঙ্গল থেকে হাতি নেমে মাঝে মাঝেই এই জলে স্নান করে, খেলা করে যায়।

নদী সাফারির শুরুতে একটু কেমন মরা মরা লাগছিল সব কিছু, বক্সার ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারিনি ঠিক। কিন্তু মানব সমাজের তৈরি কৃতিম নৌকার ঘাট পেরিয়ে একটু এগোতেই আবার সেই বক্সার কথা মনে পরে গেলো। কুমারী সেই জঙ্গলের নিস্তব্ধতার আওয়াজ শুনতে শুনতে হটাৎ রাঙিয়ে গেলাম চারিদিকের সবুজে। গাছের ছাউনির মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট একটু নিল আকাশ। জলের ওপর দিয়ে খুব ধীর গতিতে চলতে লাগলাম। চোখ বন্ধ করলেই অনুভব করা যাচ্ছিল প্রকৃতির শেষ আদর। নানান পাখির কোলাহল শুনতে শুনতে এই যাত্রা টাও শেষ হয়ে গেলো। চারিদিকের সেই নির্ভেজাল গাঢ় সবুজকে শেষ বারের মত মন ভরে দেখে বিদায় নিলাম প্রকৃতির এত যত্ন করে সাজানো এই ভূস্বর্গ থেকে।

এই বেড়ানোটির প্রতিটি অনুভূতি ব্যক্ত করতে গেলে গল্পো উপন্যাসের রূপ নেবে। একটা কথা বলতে পারি দৃঢ়তার সাথে যে আমাদের মত যারা সপ্তাহে দুটি দিন বাঁচার জন্য বাকি পাঁচটি দিন নিজের সাথে আর পৃথিবীর সাথে লড়াই করেন তাদের জন্য এই জয়গা আদর্শ। পরিণত লেখকদের মত না পারলেও চেষ্টা করলাম নিজের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা যথা সম্ভব লেখাই তুলে ধরতে। জানাবেন কেমন লাগলো।


Pritha Guha