• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Friday, May 7, 2021

অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ, পুরুলিয়া - Ajodhya Hill Tour

 সত্যি বলতে কোনো রকম প্ল্যানিং ছাড়া বেরিয়ে পড়তে আমার খুউব ই ভালো লাগে ।এই করোনা এর চক্করে পড়ে আমার ট্রেক টাও হচ্ছে না ,তাই এই মুহুর্তে যখন আমি বাড়িতে তখন ছোট করে একটা লং ড্রাইভে এ বেরিয়ে পড়লে মন্দ হয় না।


রাত তখন ১০ টা বাজে।হেমা ( আমার স্ত্রী) কে বললাম চলো অযোধ্যা পাহাড় টা ঘুরে আসি ।তুমি অনলাইন এ হোটেল টা বুক করো।একটু নেট এ ঘাটাঘাটি করতে কুশল পল্লি রিসোর্ট টা মনে ধরলো। আর কি ,দুজনে দুটো বাগপ্যাক আর এক সেট জমা কাপড় ,আর পুচকুটার ( আমার পোলা অর্ণব- সাড়ে চার বছর) কে বগল দাবা করে ভর সাতটায় গাড়ি স্টার্ট দিলাম।বলতে ভুলে গেছি যে আমার বাড়ি বারাকপুর এ।বলি ব্রিজ টা পাস করতে করতে জয় মা করে ডান কুনি দিয়ে লেফট মারলাম । এই রোড টা বেশ ভালো।Dankuni মার্কেট এর ভিড় টা পেরোলে রাস্তা ভালই ।হেমা কয়েকটা স্যান্ডউইচ নিয়ে এসেছিল ,সেটা মেরে দিলাম। অর্ণব জাস্ট চোখ খুললো।আমি আরো কিছুটা গিয়ে বনলতা রিসোর্ট এর সামনে একটু চা খেয়ে নিলাম তারপর জয়পুর ফরেস্ট এর মধ্যে দিয়ে গাড়ি চললো।তখন সবে পলাশ ফুল ফোটা শুরু করেছে যদিও আমরা পথে সেরকম পলাশ দেখতে পেলাম না । ব্যারাকপুর থেকে অযোধ্যা পাহাড় মোটামুটি ২৯০ কিমি।পথের বিবরণ আর তেমন দিলাম না ।





যাই হোক দুপুর দুটো নাগাদ দুর থেকে পাহাড় দেখে মন টা নিচে উঠলো । কুশল পল্লী রিসোর্ট টা খুজে পেতে বেগ পেতে হলো না, বেশ সাজানো গোছানো, লোকে বেশ সময় কাটাতে ও আসে । সবুজ ঘাস এর খোলা প্রাঙ্গণ, শাল পিয়াল এ ঘেরা অনেক গুলো কটেজ আছে ,একটা প্রাকিতিক ছোট্ট ঝিল ও আছে এটায়।সব মিলিয়ে বেশ মনোরম। মুশকিল হলো মাত্র এক দিন এর প্ল্যান এ এসেছিলাম। জাস্ট একটু ফ্রেশ হয়েই গাড়ি টা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম আপার ডাম এন্ড লোয়ার ডাম দেখতে।তখন বিকেল, সন্ধে নামবে নামবে । আপার ডাম প্র্যায় ফাকা। তোবে সন্ধে বেলায় ওই নিস্তব্দ প্রকৃতি টা অনুভব করা টা বেশ লাগলো।যাই হোক পুরো অন্ধকার নামার আগে লোয়ার ডাম টা দেখার জন্য বেরিয়ে পরলাম।ভালো লাগলো পথ টা চলতে। সন্ধ্যায় গাড়ির হেড লাইট জ্বালিয়ে পাহাড় এর আকা বাঁকা পথে চলতে কার না ভালো লাগে ।উপড়ি পাওনা ঘরে ফেরা পাখি আর ঝিঝির ডাক।যাই হোক সেদিন আর কিছু দেখা হলো না ।তবে রাতের অন্ধকারে অযোধ্যা পাহাড় এর জঙ্গলে গাড়ি চালাবার আলাদা আনন্দ আছে বৈকি।



পরদিন সকালে গেলাম ময়ুর পাহাড়। মার্বেল রক ।এটা বেশ সুন্দর ।মার্বেল খাদান এ একটা লেক হয়ে গেছে।মন্দ নয় দেখতে ।তার পরে গেলাম বামনি ফলস এ।সকাল সকাল গেছিলাম বলে লোক বেশ কম ই ছিলো। তাই ঝর্নার ধরে একাকী বসবার সুযোগ পেয়েছিলাম। পুরুলিয়া আসবো আর মুখোশ তৈরি দেখবো না ! আবার গাড়ি ছুটলো চারীদা গ্রাম এর দিকে। দেখলাম কারিগর রা তাদের সুদক্ষ হাত এ মুর্তি গুলো জীবন্ত করে তুলছে । ফিরে এলাম রিসোর্ট এ। এবার ফেরার পালা। রিসোর্ট থেকে চেক আউট করে বেরিয়ে পরলাম।রাস্তায় বড় একটা গাছ এর নিচে গাড়ি টা দার করলাম।না বাড়ি যেতে একদম ই মন চাইছে না ।
হেমা অর্ণব দুই জন ই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। এত জলদি আমাদের সফর শেষ হয়ে যাবে এটা ওরা বিশ্বাস ই করতে চাইছিল না।
আমিও একটু হেসে বললাম হেমা দেখো তো বুদ্ধগয়া তে হোটেল ফাঁকা আছে কিনা।
হেমা চিৎকার করে বলে উঠলো হিপ হিপ হুররে।।।।

Timir Baran Biswas

Sunday, April 11, 2021

লাল কাঁকড়া বিচ, মন্দারমণি - Lal-Kakra Beach, Mandarmoni

 বছরে একবার #দীঘা নাহলে #পুরী আর মাঝে মধ্যে #মন্দারমণি.. এবার এর সঙ্গে লাল কাঁকড়া বিচ কে add করে নিন, মন্দারমণি থেকে মাত্র 3-4 km দূরে #শান্ত নিরিবিলি কোলাহল মুক্ত এক #নির্জন সমুদ্র সৈকত । ঝাঁও বন, বন্য লতা, উন্মুক্ত পরিষ্কার পরিছন্ন সাগর বেলাভূমি, বিচ লাগোয়া খেতবাড়ি আর..... মূল আকর্ষণ এর লাল কাঁকড়া । গোটা সৈকত জুড়ে অগণিত কাঁকড়া দৌড়ে বেড়ায়, তবে মনে হবে হাতের নাগালে কিন্তু না ধরতে যাবেন পারবেন না, সৈকতের উপর মাঝে মধ্যে নৌকা দাঁড় করানো,যা এর সৌন্দর্য্যকে বাড়িয়ে তোলে... অবশ্যই safety beach ... একা (অনেকেই পছন্দ করেন ) কিংবা প্রিয় জনের হাত ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে বেড়ান আর জীবনের সংজ্ঞা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন ।


এবার বলুন মন্দারমণি থেকে ঘুরে আবার রিটার্ন করবেন নাকি রাত কাটাবেন???????????????

Ok ধরে নিলাম ঘুরে ফিরবেন..... তবে 200 টাকায় অটো reserve কারুন যাওয়ার পথে অনেক শুটকি মাঝের আড়ৎ দেখবেন... ঝাঁও বন আর খেতের ফসল দেখতে দেখতে পৌঁছে যান.. বিচ ঘুরে আবার মন্দারমণি ।
রাত কাটাতে চাইছেন? Ok আব আয়েগা মজা
, কোথায় থাকতে হবে.........👉




👉1, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম.. থাকা এবং খাওয়া 500 টাকা perday, perhead........ Beach road এর উপরে ঘরোয়া পরিবেশে শান্ত ও নিরিবিলি, ফুল এবং গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ,,, ফোন 8116793234/8768435247
👉2, সাগর সঙ্গম home stay...ফোন 7001231132
বিচ রোড এর উপরেই কিন্তু সমুদ্রের কাছে,, পাঁকা বিল্ডিং সহ অনেক tent এর ব্যবস্থা আছে, অনেকটা area জুড়ে, ফুল গাছ দিয়ে সাজানো, রয়েছে বৈঠকখানা, natural swimming pool (পুকুর ) local food, সারিবদ্ধ ঝাঁও গাছের সরু রাস্তা ধরে সমুদ্রের নামুন । এক কথায় ভালো লাগার জন্য অনেক কিছু




👉3, নিরালা হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট (আসলে home stay.. (আমার ভিডিও দেখলেই বুঝতে পারবেন )
ফোন...9933064420 বিচ পাড়ে ঝাঁও বনের মধ্যে দোলনা, বসার জন্য বাঁশের মাচা, ac/non ac room, dormitory, খাওয়ার ও সুব্যস্থা, নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ




👉4'সাগরিকা হোমস্টে.. ফোন 9732723549
রামকৃষ্ণ আশ্রমের কাছে
👉5, বিচ লাগোয়া tent www.cliffline.in এ বুকিং করুন এর অভিজ্ঞতা দারুন adventurous, এর সঙ্গে cottage ও আছে ।


Bramhananda Tarafdar

Friday, March 19, 2021

বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির, হুগলী - Hangseshwari Temple, Bansberia, Hooghly

 আমাদের ধারে-কাছে অনেক সুন্দর সুন্দর বেড়ানোর জায়গা আছে যেখানে সকালে বেরিয়ে বিকালে ফিরে আসা যায়। এই রকমই একটা সুন্দর ঘোরার জায়গার সন্ধ্যান পেয়েছিলাম বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির। ব্যান্ডেল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন জনপদ বংশবাটী যার বর্তমান নাম বাঁশবেড়িয়া। সময় করে রবিবারের একটি ছুটির দিনে ক্যামেরাকে সঙ্গী করে একাই বেরিয়ে পড়লাম বাঁশবেড়িয়ার উদ্দেশ্যে। প্রথমেই প্রবেশ করলাম বাংলার টেরাকোটা সমৃদ্ধ প্রাচীন অনন্তবাসুদেব মন্দিরটিতে। পোড়ামাটির কাজে সজ্জিত এই মন্দিরের আদল অনেকটা বিষ্ণুপুরের মন্দিরের মতো। এই অনন্ত বাসুদেব মন্দির চত্বরেই রয়েছে এখানের বিখ্যাত হংসেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের চারপাশে রয়েছে বড় পরিখা বা চলতি ভাষায় গড় যা আজ নোংরায় ভরে আছে। প্রবেশের মুখে চারপাশে রয়েছে ফুল-মালা, পূজার ডালা, সিঁদুর- আলতা নানারকম পুজোর সরঞ্জাম নিয়ে অনেক দোকান। মন্দিরে ঢোকার মুখে রয়েছে জীর্ণ বিশাল নহবতখানা। নহবতখানা থেকে কয়েক পা হেঁটে এগোলেই হংসেশ্বরী মায়ের মন্দির পাশেই রয়েছে রাজবাড়ী। বর্তমানে এই রাজবাড়ীর বড়ই জীর্ণ দশা। তবে সেখানে এখনো রাজপরিবারের সদস্যরা থাকেন। নির্জন পরিবেশ, সুন্দর ও মনোরম। 

ঘুরতে যাওয়ার আগে মন্দিরের সামান্য ইতিহাস জেনে রাখা ভালো। ১৬৭৯ খ্রীষ্টাব্দে জমিদার তথা রাজা উপাধি ধারক রামেশ্বর রায় তথাকথিত বংশবাটী যা বর্তমানের বাঁশবেড়িয়ায় একটি টেরাকোটার কারুকার্যখচিত বিষ্ণু মন্দির নির্মাণ করান, যেটি এখন অনন্ত বাসুদেব মন্দির নামে পরিচিত। অনন্ত বাসুদেব মন্দিরের পূর্ব দিকে রয়েছে হংসেশ্বরী মন্দির। ১৭৯৯ খ্রীস্টাব্দে এই হংসেশ্বরী মন্দিরটির নির্মান শুরু করেন রাজা রামেশ্বর রায়ের প্রপৌত্র নৃসিংহদেব রায়। কিন্তু মন্দির নির্মাণ শুরুর বছর তিনেক পরে ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে নৃসিংহদেব পরলোকগমন করায় মন্দিরের কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। পরবর্তীকালে নৃসিংহদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী শঙ্করী ১৮১৪ খ্রীস্টাব্দে তাঁর এই অসমাপ্ত মন্দিরটির কার্য সম্পূর্ণ করেন।এই মন্দিরটিতে "হং" অর্থাৎ শিব এবং "সা" অর্থাৎ শক্তি এই দুটিকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে বলে মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে “হংসেশ্বরী”। এই মন্দিরটিতে মোট তেরোটি চূড়া রয়েছে। হংসেশ্বরী দেবীর মন্দিরে প্রতিদিন পূজাপাঠের ব্যবস্থা আছে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহের যেকোনো দিন ভোগ নিবেদন করা যায়। দুপুরে মূল মন্দিরে প্রবেশের কোন বাধা নাই কিন্তু গর্ভগৃহ বন্ধ থাকার কারনে তখন মায়ের বিগ্রহ দেখা যায় না।

প্রয়োজনীয় তথ্য :

মন্দির খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। রাত্রিতে বন্ধ হওয়ার পরে আর কোনো কারণেই খোলা হয় না। নিত্যপূজা সকাল ১০ টা, পুষ্পাঞ্জলি সকাল ১১ টা। ভোগের জন্য সকাল ১০টার মধ্যে কুপন সংগ্রহ করতে হবে, অগ্রিম কুপন দেওয়া হয় না। দুপুর সাড়ে ১২টায় ভোগ নিবেদনের পরে ভোগ দেওয়া হয় এবং দুপুর দেড়টার মধ্যে গ্রহণ করতে হবে।

মনে রাখবেন জুতো পরে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেয় না। এখানে ২ টাকার বিনিময়ে জুতো রাখার সুবন্দোবস্ত আছে এবং ৫ টাকার বিনিময়ে স্নানের ব্যবস্থাও আছে।


পথ নির্দেশ :

হাওড়া অথবা ব্যান্ডেল থেকে কাটোয়া লোকালে বাঁশবেড়িয়া স্টেশন। দিনের প্রায় সারাদিনই ট্রেন পরিষেবা আছে। শিয়ালদহ থেকেও সকালবেলায় সরাসরি একটি কাটোয়া লোকাল চলে। বাঁশবেড়িয়া স্টেশন থেকে বেরিয়েই পাওয়া যাবে টোটো। জনপ্রতি ১০ টাকায় পৌঁছে দেবে মন্দিরে। ব্যান্ডেল স্টেশন থেকেও হংসেশ্বরী মন্দির যাবার অটো পাওয়া যায়। এছাড়া নৈহাটী-ব্যান্ডেল ট্রেনের হুগলীঘাট স্টেশন নেমে অথবা চুঁচুড়া লঞ্চঘাট থেকে অটোস্ট্যান্ডে গিয়ে চুঁচুড়া-ত্রিবেণী অটোতে করেও যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। সড়কপথে যেতে হলে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু দিয়ে গঙ্গা পার হয়ে বাঁ দিকে পড়বে হংসেশ্বরী মন্দির যাবার ছোট রাস্তা। বালি থেকে দিল্লি রোড হয়েও যাওয়া যায়।_______________________________________________

ছবি ও তথ্য : নিজস্ব (মন্দিরের ইতিকথা গুগল থেকে সংগৃহিত)।


Nirmal Kumar Saha

Thursday, March 18, 2021

ভালকি মাচান, পূর্ব বর্ধমান - Valkimachan, East Burdwan

করোনা আবহে কোথাও না যেতে পেরে দমবন্ধ লাগছিল। তাই খানিকটা অক্সিজেনের সন্ধান পেতেই ঘুরে এলাম পূর্ব বর্ধমান জেলার ভালকি মাচান জঙ্গল থেকে। আমার অভিজ্ঞতা বলার আগে জায়গাটার সম্মন্ধে যা কিছু জানানোর জানিয়ে দিই।



কিভাবে যাবেন 

ট্রেনে করে - হাওড়া আসানসোল গামি ট্রেনে চেপে নামুন মানকার স্টেশন এ। স্টেশন থেকে ভালকি মাচানের রিক্সা করুন

রাস্তা ধরে - NH 2 (National Highway 2) ধরে দুর্গাপুরের দিকে এগোতে থাকুন। গালসি অবধি গিয়ে ডানদিকে ঘুরে যান।

#GoogleMap follow করতে পারেন। ঠিক রাস্তাই দেখায়। Google Map এ destination এ দিন "Aranyasundari Valkimachan"। যে রাস্তা দেখাবে ফলো করতে পারেন।

আমি রাস্তা ধরে গাড়ি করেই গিয়েছিলাম।



কোথায় থাকবেন 

এখানে থাকার একমাত্র জায়গা "অরণ্য সুন্দরী ভালকি মাচান"। এখানে থাকার ঘর ২-৩ বেডের ঘর আছে। দাম ৯৫০-১২০০ এর মধ্যে।

সব ডিটেইলস ওদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ পাবেন - http://www.valkimachan.com/  



কতদিন থাকবেন 

আমার মতে এখানে একবেলা থেকে একদিন থাকাই যথেষ্ট।

খাওয়া দাওয়া 

"অরণ্য সুন্দরী ভালকি মাচান" রিসর্ট এর নিজস্ব হোটেল আছে। এছাড়া কাছাকাছির মধ্যে কোনো খাবার জায়গা নেই। হোটেলের মেনুর একটা ছবি দিয়ে দিলাম দেখে নিয়ে পারেন।

আমরা নিয়েছিলাম কিছু veg থালি আর কিছু non-veg থালি। Veg থালিতে ছিল - ভাত, ডাল, বেগুন ভাজা, আলু পোস্ত, আমড়ার চাটনি আর পাঁপড়। non-veg থালিতে এর সাথে অতিরিক্ত সংযোজন মুরগীর ঝোল।

আমার অভিজ্ঞতা টা নিচে লিখছি।



কি কি দেখার আছে 

আপনার অরণ্য ভালো লাগলে ভালকি মাচান ভালো লাগবেই।

প্রধান আকর্ষণ - রিসর্টের চারপাশে শাল পিয়ালের ঘন জঙ্গল আর তার সাথে জঙ্গল থেকে ভেসে আসা নানা পাখির ডাক।

এছাড়াও আছে

১. "অরণ্য সুন্দরী ভালকি মাচান" রিসর্ট এর পিছনে একটি জলাশয় বা পুকুর, আর চারপাশে বাঁধানো রাস্তা

২. ভালকি রাজাদের শিকার করার জন্য বানানো ওয়াচ টাওয়ার এর ধ্বংসাবশেষ ( এই গল্প টা এর পরে আলাদা করে লিখছি)

৩. যাওয়ার পথে চোখে পড়া নিখাদ গ্রাম্য পরিবেশ। যেমন ধান চাষ, ছাগল পালন, ভেড়া পালন, গ্রামের পরিষ্কার পুকুর, মাটির দোতলা বাড়ি এইসব, যা আমাদের ইট কাঠ পাথরের জঙ্গলে থেকে দেখা বন্ধ হয়ে গেছে।



ভালকি মাচানের ইতিহাস আর গল্প

শোনা যায় এখানে আগে রাজত্ব করতেন গোপ রাজারা। তখন এই গোটা অঞ্চল ছিল জঙ্গলে ঘেরা। সেই জঙ্গলের এক শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে এক ব্রাহ্মণ তাকে লালনপালন করে মানুষ করেন। সেই শিশুর পা দুটি নাকি ভাল্লুকের মত ছিল তাই থেকে তার নাম রাখা হয় ভল্লুপদ। পরবর্তীকালে তার রাজধানী হয় ভালকি। এছাড়াও আরো অনেক মত প্রচলিত আছে।

সেই ভল্লুরাজা ইট দিয়ে মাচা তৈরি করেন। যা থেকে তিনি নিয়মিত শিকার করতে আসতেন। এখন তার ভগ্নাবশেষ পড়ে আছে।

সেই ভগ্নাবশেষ এর নিচে আছে একটি সুড়ঙ্গ পথ। অনেক গল্প আছে তাকে নিয়েও।

এখানে স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম যে এখানে এখনও মাঝে মাঝে রাতে বোন মোরগ, হায়না, শিয়াল নাকি বেরোয়। আগে নাকি ভাল্লুক ও ছিল এখন আর নেই।



আমার অভিজ্ঞতা আর মতামত

#জায়গা - যেতেই পারেন এক দিনের জন্য, এই কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুটা oxygen এর মত কাজ করবে। আমি একবেলা ছিলাম। সকালে পৌছে লাঞ্চ করে তারপর ফিরে এসেছি। আমি কোনো ঘর ভাড়া করিনি। Toilet ব্যাবহার করার দরকার যখন পড়েছে ওরা ওদের dormitory র টয়লেট ব্যবহার করতে দিয়েছে।

#খাবার - খাবার বেশ ভালোই। বেশ একটা গ্রামের খাবারের স্বাদ। আমার তো আলু পোস্ত আর চিকেন খুব ই ভালো লেগেছিল। এখানে সব খাবার এরা কাগজের প্লেটে দিচ্ছে। যেটা বর্তমান পরিস্থিতি হিসাবে বেশ সচেতন পদক্ষেপ।

#রাস্তা - যেহেতু যাবার অধিকাংশ রাস্তাটাই NH 2 ধরে, তাই বলাই যায় যে যাবার রাস্তা ভালো। NH 2 ছাড়ার পর বাকি রাস্তার খুব সামান্য অংশই সামান্য খারাপ, তবে ওইটুকু মানিয়ে নেওয়া যায়।

তাই সব মিলিয়ে আমার মত, এই শীতকালে একদিন বা একবেলার জন্য ঘুরে আসতেই পারেন। ভালো লাগবে।

Soumendu Ghosh


Friday, February 12, 2021

ইটাচুনা রাজবাড়ি, হুগলি - Itachuna Rajbari, Hooghly

 ইটাচুনা রাজবাড়ি পরিক্রমা

"খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো,বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেবো কিসে?"
এই ছড়া শুনে বড়ো হওয়া আমাদের।আর এই ছড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ইটাচুনা রাজবাড়ির ভিত্তির ইতিহাস।



কোনো বাঙ্গালি বনেদী পরিবারের সম্পত্তি না এই বাড়ি।বর্গী উত্তরসূরী "সাফল্য নারায়ণ কুন্ডু" এই বাড়িটি তৈরি করেন ১৭৬৬ সালে। রাজবাড়ির টানেই একদিন সকালে রওনা হয়ে পড়লাম গাড়ি নিয়ে।বুকিং যদিও অনেক আগেই করতে হয়,নাহলে ফাঁকা পাওয়া মুসকিল।কলকাতা থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে হাইওয়ে ও পরে গ্রামের কাঁচা পাকা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে গেলাম হুগলি জেলার খন্যান নিকটবর্তী এই বাড়িতে।আগে যা ছিল কাছাড়ি বাড়ি সেটাই বর্তমান ম্যানেজারের রুম।সেখানে প্রথমে দেখা দিয়ে ম্যানেজার সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করলো ঠাকুরদালান পেরিয়ে অন্দরমহলে।




পাথরের গ্লাসে গন্ধ রাজের সরবত দিয়ে অভিবাদন জানানো হলো রাজবাড়ির পক্ষ থেকে।পথের ক্লান্তির পর যেন অমৃতের স্বাদ পেলাম।তারপর দোতলায় নিজের ঘরে (' বড়ো বৌদির ঘর ') যাবার পালা।




প্রতিটি ঘরই সাবেকি পালঙ্ক ও আসবাব দিয়ে ভরপুর।যদিও শহুরে মানুষের কথা মাথায় রেখে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পরে লাগানো হয়েছে।পালঙ্কে শুয়ে এটাই মনে হবে "মেজাজ টাই তো আসল রাজা....."




বিশাল পরিধির এই বাড়িতে আছে বাহিরমহল, অন্দরমহল,কাছাড়ি বাড়ি, ঠাকুর দালান,নাচ ঘর,রান্না ঘর,অতিথিশালা,খিড়কি পুকুর ও পিছনে খামার বাড়ি।নাট মন্দিরে শ্রীধর জিহুর পুজো হয় দিনে তিনবার নিষ্ঠা সহকারে কুলোপুরহিত দ্বারা।সাথে রয়েছে রাজকীয় খাওয়া দাওয়া।


বাড়িতে বসেই জানা অজানা গল্পের সাথে রাজবাড়ির অনাচকানাচ ঘুরে দেখতে,পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস,পথ নির্দেশ,কিভাবে বুকিং করবেন,থাকা খাওয়ার খরচ সম্পর্কে জানতে নিচের ভিডিও লিঙ্কটি দেখার অনুরোধ রইল


Ananya Bhattacharya

Tuesday, February 9, 2021

জুলুক, পূর্ব সিকিম - Zuluk, East Sikkim

 ঐতিহাসিক রেশম পথের অন্যতম ট্রান্সিট পয়েন্ট জুলুক আজকের দিনে এক পরিচিত ট্রাভেল ডেস্টিনেশন। কয়েক দশক আগেও যে পথে রেশমের বাণিজ্য চলতো ভারত ও তিব্বতের মাঝে, সে পথ ধরেই আজ অসংখ্য ট্রাভেলর প্রতি বছর পূর্ব হিমালয়ের ছোট্ট এই জনপদে আসেন এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে। ৯,৪০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত জুলুকে মূলতঃ ৭০০-৮০০ মানুষের বাস।


সিল্করুটের অন্যতম আকর্ষণ এই গ্রামে আর্মির ক্যাম্প‌ও রয়েছে। এখান থেকে চীন সীমান্ত বেশি দূরে নয়, শীতে জুলুকের সাদা বরফাবৃ রাস্তাতেও অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেখা মিলবে ইন্ডিয়ান আর্মির। এখানে বেশ কয়েকটি হোমস্টে গড়ে উঠেছে। একদম বেসিক এ্যামেনিটিস সমৃদ্ধ ছোট ছোট হোমস্টে গুলিতে জুলুকের প্রবল ঠান্ডাতেও মিলবে আতিথিয়তার উষ্ণ আঁচ।

শীতে এই অঞ্চল যেন বরফের চাদরে মুড়ে যায়, যারা বরফ দেখতে ভালোবাসেন বা স্নোফল দেখতে চান, শীতে আসতেই পারেন। তবে প্রবল ঠান্ডা থাকে এই সময়, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে চলে যায়। মূলতঃ এপ্রিল-মে মাসে এখানে টুরিস্টের ঢল নামে‌।

জুলুক সম্পর্কে নতুন করে লিখবার সত্যিই কিছু নেই। চীন তিব্বত অধিগ্রহণ করার আগেও, ভারত ও তিব্বতের মাঝে জেলেপ-লা- পাস হয়ে এই পথেই চলতো রেশমের আনাগোনা। বিখ্যাত সেই 'জিগজ্যাগ রোড' আজ টুরিস্টদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া বার্ড ওয়াচার বা ওয়াইল্ড লাইফ যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য‌ও জুলুক বা প্যাঙ্গোলাখা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঙ্কচুয়ারী এই আদর্শ ডেস্টিনেশন।


হিমালয়ান ডগ, কস্তুরী মৃগ, ফ্লাইং স্কুইরেল, খালিজ পিজেন্ট, স্নো পিজেন্ট, হিমালয়ান মোনালের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র পূর্ব হিমালয়ের এই অংশ। জুলুকের আশেপাশের কোন ভার্জিন জঙ্গলে এদের দেখা মিললে অবাক হবেন না। এছাড়া পদমচেন থেকে জুলুকের মাঝে বিস্মৃত রয়েছে রডোড্রেনডনের সারি, এপ্রিল-মে মাসে ফুলের রঙে যেন রং লেগে যায় পাহাড়ে।


জুলুক থেকে নাথাং ২২ কিমি, কুপুপ লেক ৩৫ কিমি। ফলে দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায়। ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত থাম্বি ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরমিক ভিউ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। জুলুক থেকে কুপুপ হয়ে, সংমো লেক, ওল্ড বাবা মন্দির হয়ে রাস্তা চলে গেছে গ্যাংটকে। জুলুকে থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করবার কোন কমতি হবে না। মনে রাখবেন,
সিল্করুট মানেই প্যাকেজ টুর নয়, নিজেরা ইচ্ছেমতো কাস্টমাইজ করেই ঘোরা যায়।


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জুলুকের দূরত্ব- ১৩৭ কিমি। গাড়ীতে সময় লাগে ৪.৩০-৫.০০ ঘন্টা। বড় গাড়ীর ভাড়া ৪৫০০-৫০০০/-। মনে রাখবেন, জুলুক আসার জন্য রংলি থেকে পারমিশন করাতে হয়। এই পারমিশন করার জন্য দুপুর ১২ টার মধ্য রংলি পৌঁছানো আবশ্যক। রংলি থেকে পদমচেন ব্যাক কাটিং এর জন্য রাস্তায় বেশ রাফ। রংলি থেকে জুলুকের রিজার্ভ গাড়ী ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা।
হোমস্টে খরচ- ১১০০/- জনপ্রতি প্রতিদিন (সব মিল)(নূন্যতম দুজন)


Pyaaro Sikkim- Nature Smiles
📞 +91 6291538880
info@himalayanretreat.co.in
Himalayan Retreat is on Instagram as @retreathimalayan
https://instagram.com/retreathimalayan?igshid=1qgq93ix3tsb8
Follow this link to view our catalogue on WhatsApp: https://wa.me/c/919830511411