ঝাড়খন্ড সীমান্ত লাগোয়া বাঁকুড়া জেলায় কংসাবতী ও কুমারী নদীর সঙ্গম স্থলে অবস্থিত অতি পরিচিত নাম মুকুট মনি পুর।আপনার ব্যস্তময় জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এখানে হারিয়ে যেতে পারেন দিন দুয়েকের জন্য।
ড্যাম এর একদিকে নীল জল , কোথাও ফুঁড়ে উঠেছে ছোট ছোট টিলাWednesday, February 27, 2019
মুকুটমনিপুর(বাঁকুড়া) - Mukutmonipur(Bankura)
Monday, February 11, 2019
Silk Route Travel
আমি চিরকাল যাঁরা tour conduct করেন তাঁদের হিংসে কোরে এসেছি, মনে হতো তাঁরা কি মজাতে সব জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারেন. কিন্তু এবারে সিল্ক রুট ঘুরতে গিয়ে বুঝলাম তাঁদের কাজটা আদপেই সহজ নয়.
সিলারিগাঁও হোমস্টেআমি গত ফেব্রুয়ারী মাসের 28 থেকে দোসরা মার্চ জুলুক, সিলারিগাঁও, রিশিখোলা ঘুরে এসেছিলাম. সেবার সেই গ্রুপের মধ্যে সবথেকে adventure প্রিয় ছিলাম আমি, ফলত আমার জন্য মাঝে মাঝেই tension তৈরী হতো.
Sunday, January 27, 2019
মৌসুনী দ্বীপ ভ্রমণ - Trip to Mousuni Island
◆ প্রকৃতির কোলে 2টো নির্বিগ্নে শান্তিতে শান্ত পরিবেশে কাটিয়ে ওঠার কথা গেথে যাবে আপনার মনের স্মৃতিতে।
সুসজ্জিত তাঁবু
ঘুরে এলাম ২০শে ডিসেম্বরে মৌসুনী দ্বীপ থেকে সকাল ৭.৩০ শিয়ালদা থেকে নামখানা লোকাল ধরে সকাল ১০টার কাছা কাছি পৌঁছা লাম নামখানাতে ওখান থেকে ভট ভটি করে পৌঁছালাম হুজুতির ঘাট ,খেয়া পার হয়ে আবার টোটো করে পৌঁছালাম মৌসুনি ওয়েভেষ।
করোনার জেরে জর্জরিত জীবন থেকে সাময়িক একটু মুক্তি।ঝাউবনের মধ্যে সুসজ্জিত টেন্ট , সামনেই সমুদ্র ২ রাত্রি কাটাবার জন্য উপযুক্ত ঠিকানা।আমাদের গন্তব্য ছিল মৌসুনি ওয়েভেষ।
আরাম কেদারাসকালে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে মিলল ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস হিসাবে ডাবের জল, দুপুরে ভর পেট খাবার ডাল, ভাত,ডিম ভুজিয়া, ফুলকপি আলুর তরকারি, ভেটকি মাছ ভাজা, মাছের কালিয়া চাটনি পাঁপড়।বিকালে গরম গরম চা মুড়ি, পাকোড়া। তারপর শুরু হলো বন ফায়ার গরম গরম চিকেন তন্দুরি। ওটা যদিও এক্সট্রা খরচ ১ কেজি চিকেন ৩৫০ টাকা।
ঝাউবন
রাতে জুটল চিকেন ,রুটি, স্যালাড, মিষ্টি, আলুভাজা। এই ভাবেই দুদিন ভালোই কাটলো।পরদিন উঠে গরম গরম লুচি,ঘুগনি,ডিম সেদ্ধ,রসগোল্লা।সমুদ্র উপভোগ করে সারাদিন পরদিন ফেরার পালা।
গঙ্গাবক্ষে কিছুক্ষন বোটিং করা পারলে ওখান থেকে জম্বু দীপ যাবেন।খুব কাছে গঙ্গাসাগর কিন্তু আমাদের ভাগ্যে না থাকায় যাওয়া হয়ে ওঠে নি।মৌসুনি থেকে সকাল ১১.২০ তে একটা লঞ্চ ছাড়ে গঙ্গাসাগর যায়।ওখান থেকে ভেসেল পার হয়ে গঙ্গাসাগর।
Sunday, January 13, 2019
সিকিম ভ্রমণ - East Sikkim Tour
কোনরকম বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রথমবার East Sikkim ভ্রমণ
বাবা মন্দির যাওয়ার পথে
গ্যাংটক যাওয়ার পথে । পাশে তিস্তা নদী
Do-drul Chorten (stupa)
দেখতে দেখতে এসে গেল নির্দিষ্ট দিন, আমরা ট্রেন টাইমের ঘন্টা খানেক আগেই পৌঁছে গেলাম হাওড়া স্টেশনে, ও বলল হাতে যখন টাইম আছে স্টেশন টা একটু ঘুরে দেখা যাক। তার আগে আমরা ঠিক করেছিলাম আমাদের সিকিম ভ্রমণটা vlog হিসেবে শ্যুট করবো দেখতে গেলে এটাই ছিল আমাদের ভ্লগের হাতে খড়ি,ওর উপর দায়িত্ব পড়ল vlog শুট করার, আগেই বলে রাখি আমি দুএকটা বেশী কথাই বলতে পারেনি কারন তখনও camera friendly ছিলাম না।
আগে জানতাম এ এই কাপড় গুলিতে আনেক কিছু লেখা থাকে
বাবা হরভজন সিং এর bedroom
Sunday, December 23, 2018
দু 'চাকায় বাংড়িপোসি : (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)
আজ 8 ই নভেম্বর, সকাল সকাল ঘুমটা ভেঙে গেল। রিসর্টের জানালা দিয়ে দেখলাম গরুমহিষানী পাহাড়ের শ্রেণীর ওপর সূর্যের আলো যেন ঝলমল করছে । বেরিয়ে এলাম বারান্দায়। সূর্যের আলোয় চারপাশের রূপ যেন ফেটে পড়ছে।
তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে চলে এলাম রিসর্টের রেস্টুরেন্টে । আলু পরোটা আর গরম গরম চা দিয়ে ব্রেকফাস্ট টা দারুন হলো। শুরু করে দিলাম দ্বিতীয় দিনের যাত্রা। চললাম ভ্রমণ কুণ্ড-এর দিকে। আবার সেই দুপাশে পর্বতের সারি আর জঙ্গলের পথ।
সন্ধ্যেবেলা যেটাকে খুব গ্লুমি মনে হচ্ছিল আজ তার রূপ অবর্ণনীয় হয়ে উঠেছে। এগিয়ে চললাম ভ্রমণ কুন্ডের দিকে। একটা ভাঙাচোরা ব্রিজ দিয়ে বুড়িবালাম পেরিয়ে আবার এক নতুন পথ ধরলাম। এখানে জঙ্গল যেন আরো ঘন। মাঝে মাঝে দু-একটা আদিবাসী বাড়ি ।
রাস্তায় দেখতে পেলাম আদিবাসী বাচ্চারা খেলা করছে আর মেয়েরা গৃহকর্মে নিযুক্ত। যেতে যেতে আমরা এটাই আলোচনা করছিলাম এরা সকাল-বিকেল কত সুন্দর সৌন্দর্যই না দেখতে পায়। কিন্তু পরমুহুর্তেই ভাবলাম শুধু সৌন্দর্য দিয়ে তো আর পেট ভরে না । এদের জীবন যাপনের পদ্ধতি এতটাই কঠিন যে আমরা তা কল্পনাও করতে পারি না।
ইলেকট্রিসিটি নেই, মোবাইলের টাওয়ার পর্যন্ত নেই। না আছে ভালো পানীয় জলের ব্যবস্থা । তার মধ্যেই চলেছে এদের জীবন সংগ্রাম । চলেছি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে । চারপাশ নাম-না-জানা পাখির কলকাকলিতে পরিপূর্ণ । একটা জায়গাতে নদীর একটা চমৎকার ভিউ পেলাম। একটু দাঁড়িয়ে আবার এগিয়ে চললাম। যদিও গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছিলো বাংড়িপোসি থেকে এটা 22 কিলোমিটার ,কিন্তু প্রায় 30 কিলোমিটার পর পৌঁছলাম ভ্রমণ কুন্ডে।
আর পৌছেই একরাশ মুগ্ধতা আমাদের ঘিরে ধরল। ছোট্ট একটা টিলার ওপর থেকে জল ঝাঁপিয়ে পড়ছে আর তাতেই সৃষ্টি হয়েছে এই কুন্ডের। জল এতটাই স্বচ্ছ, যে মাটি অব্দি পরিষ্কার দেখা যায় । চারপাশে পাথরের স্তুপ। সে এক চমৎকার দৃশ্য ।
আমরা নিজেদেরকে রেসিস্ট করতে পারলাম না । জুতো খুলে নেমে পড়লাম জলে। শুনেছিলাম ভ্রমণ কুন্ডের জলে স্নান করলে নাকি পাপ ক্ষয় হয় । পাপ ক্ষয় হল কিনা জানিনা, কিন্তু ওই জনে আমাদের মন প্রাণ জুড়িয়ে গেল ।
আর কুন্ডের জলে অসংখ্য বড় বড় মাছ । স্থানীয় লোকদের কাছে শুনলাম ,ওই মাছগুলি নাকি ভগবানের নামে উত্সর্গীকৃত । কুন্ডের চারপাশের পরিবেশ জাস্ট অসাধারণ। মনে মনে ভাবছিলাম, এখানে ক্যাম্পিং করতে পারলে দারুন হত ।
ওখানকার ওই সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে সূর্য উঠে এল মাথার ওপর। এবার ফেরার পালা। আবার সেই জঙ্গল ,আবার সেই পাহাড়, আবার সেই বুড়িবালামের তীর, চললাম রিসর্টের দিকে। স্নান সেরে, লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
গতকালের মত আজও লাঞ্চটা দারুন হলো। বিল মিটিয়ে, সিমিলিপাল রিসর্ট কে বিদায় জানিয়ে, ধরলাম বাড়ি ফেরার পথ। মনের মধ্যে রইল একরাশ মুগ্ধতা আর পরিপূর্ণ স্মৃতি। আসার পথে মুখ ঘুরিয়ে বলে এলাম, ভালো থেকো সুন্দরী বাংড়িপোসি, আবার আসিব ফিরে ।।!!
Abhishek Santra
Monday, December 3, 2018
দু' চাকায় বাংড়িপোসি : (প্রথম পর্ব)
লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকেই মনটা বেড়াতে যাওয়ার জন্য ছটফট করছিল । কিন্তু কিছুতেই পরিকল্পনাগুলো সফল হচ্ছিল না । অবশেষে 7 ই নভেম্বর শনিবার সকালবেলা বেরিয়ে পড়লাম মনে একরাশ উত্তেজনা আর বাইকের ট্যাংক ফুল করে।
এগিয়ে চললাম খড়্গপুরের উদ্দেশ্যে আমাদের ডেস্টিনেশন ছিল উড়িষ্যার বাংড়িপোসি । বেশ কয়েকদিন ধরেই যেন বাংড়িপোসি আমাদের টানছিল ।মোট তিনটি বাইক আর আমরা সাতজন। তো যাই হোক আটটা নাগাদ খড়গপুর থেকে NH6 ধরে এগিয়ে চললাম । বেশ কিছুটা এগোতেই দেখা হলো জঙ্গলের সঙ্গে ।
সাথে সাথেই আমাদের উত্তেজনা যেন আরো বেড়ে চলল । একটু পরেই পৌঁছে গেলাম লোধাশুলি জঙ্গলে । নাহ্, এবার একটু নামতেই হচ্ছে । তো আমরা সবাই নেমে পড়লাম এবং চললো আমাদের ম্যান্ডেটরি ফটো আর ভিডিও শুট। ওখানে ওই সবুজ জঙ্গলের মাঝে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে আবার এগিয়ে চললাম আমরা। সকাল থেকে চা ছাড়া কিছুই খাওয়া হয়নি তাই খিদে টাও যেন একটু চাগাড় দিয়ে উঠেছিল ।
অবশেষে বহড়াগোড়া'র একটু আগে একদম নতুন তৈরি নটরাজ ধাবাতে দাঁড়ালাম ব্রেকফাস্ট এর জন্য। হাতে গরম রুটি আর তড়কা দিয়ে সেরে নিলাম ব্রেকফাস্ট। সাথে ছিল স্টিলের কাপ ভরা গরম চা। নটরাজ ধাবা কে কে বিদায় জানিয়ে আবার এগিয়ে চললাম আমরা ।
পশ্চিমবঙ্গ বেরিয়ে পরলাম ঝাড়খন্ডে। এবার চললাম NH46 ধরে । আর কিছুটা এগোতেই জামশোল বর্ডার পেরিয়ে প্রবেশ করলাম উড়িষ্যায় । উড়িষ্যায় প্রবেশের একটু পর থেকেই সামনে দেখা যেতে লাগলো দিগন্তবিস্তৃত ধানক্ষেত আর ওই দূরে দূরে পাহাড়ের সারি । উফ অসাধারণ অনুভূতি ।
বাইকের স্পিডোমিটারের কাঁটা তখন বেড়েই চলেছে। যত এগোতে লাগলাম সামনের পাহাড়ের সারি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল আমাদের চোখের সামনে। একটু পরেই পৌছে গেলাম গেলাম আমাদের ডেস্টিনেশন বাংড়িপোসি তে । উঠলাম আগে থেকে বুক করে রাখা সিমিলিপাল রিসর্টে। এতটা বাইক রাইডিং এ একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম নিশ্চয়ই, কিন্তু স্নান সেরে নিতেই সবাই ঝরঝরে হয়ে উঠলাম। লাঞ্চের অর্ডার দিয়ে চললাম দুয়ারসিনি মাতার মন্দির দেখতে ।
রিসোর্ট থেকে একটু এগোতেই সামনে পড়ল বাংড়িপোসির সেই বিখ্যাত ঘাটি। একপাশে জঙ্গল আর একপাশে খাদ সাথে নিয়ে উঠতে লাগলাম আমরা । পৌঁছে গেলাম দুয়ারসিনি মাতার মন্দিরে । মাকে প্রণাম জানিয়ে এগিয়ে চললাম ঘাটি বরাবর । ডান পাশে পাহাড়ের সারি বারবার চোখ টানছিল আমাদের। কিন্তু অন্যমনস্ক হওয়ার জো নেই, তাই গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করতে লাগলাম দুপুরের সোনালী আলোয় পাহাড়ের সারি।
বর্ষা কদিন আগেই গিয়েছে, তাই জঙ্গল যেন এখন আরো সবুজ । সেই চিরহরিৎ পাহাড় বনানী'র দিকে তাকিয়ে দিকে তাকিয়ে মনের মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দের অনুভুতি হচ্ছিল । ফটোশুট তো সাথে সাথেই চলল। এবার ফিরে চললাম রিসর্টে। বাসমতি চালের ভাত আর চিকেন সহযোগে লাঞ্চটা ভরপেট হল । একটু বিশ্রাম নিতেই রিসর্টের জানালা দিয়ে দেখলাম বেলা পড়ে আসছে। আবার বেরিয়ে পড়লাম পড়ন্ত বিকেলে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
এবার ধরলাম সিমলিপাল এর জঙ্গলের দিকে যাওয়ার রাস্তাটা । একটু এগোতেই বামদিকে পরল সেই বিখ্যাত বুড়িবালাম নদী, যার তীরে বাঘা যতীনের সংগ্রাম অমর হয়ে আছে । এগিয়ে চললাম জঙ্গলের রাস্তা ধরে । পড়ন্ত বিকেলে সামনে গরুমহিষানী মাউন্টেন রেঞ্জ আমাদের সামনে এক অতুলনীয় সৌন্দর্য তুলে ধরেছিল বারবার ।
আমরা যত এগিয়ে চলেছি সূর্য ধীরে ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে পাহাড়ের একদম মাথায়। একটা জায়গাতে আমরা দাঁড়িয়ে পড়লাম। পাহাড়ের মাথায় সূর্যাস্ত, সে এক অবর্ণনীয় সৌন্দর্য। দেখা হল এক পাল গরু আর ভেড়ার সাথে । গোধূলি বেলায় সে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি। কিন্তু সূর্য পাঠে নামতেই ঝুপ করে অন্ধকার নামলো।
পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কখন যে প্রায় 35 কিলোমিটার চলে এসেছি বুঝতেই পারিনি । নাহ্, এবার ফেরার পথ ধরতেই হবে। জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে রাস্তা। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, মাঝে মাঝে দু একটা শিয়ালের ডাক ,ব্যাপারটা দুঃসাহসিক মনে হচ্ছিল কিন্তু আমরা খুব উপভোগ করছিলাম। মনটা একটু চা চা করতেই দাড়িয়ে গেলাম একটা বাজার দেখে।
এক পেয়ালা চা খেয়ে একটু চাঙ্গা বোধ করলাম । এগিয়ে চললাম রিসর্টের দিকে। রিসর্টে যখন পৌঁছলাম সন্ধে ঘন হয়েছে। সন্ধ্যেটা কাটলো স্নাক্স আর সারাদিনের স্মৃতি রোমন্থন করে। রাতে ডিনার করে শুয়ে পড়লাম সবাই। কাল আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো পরের পোস্টে।




















































