• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Tuesday, January 5, 2021

উত্তর সিকিম - North Sikkim

 সিকিম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেকের আছে, তাই একটু ছোট করে আমার জীবনের প্রথম উত্তর/উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণের বর্ণনা করলাম।

(বর্তমান সিকিমের তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলের বীভৎসতা সত্যি মনকে পীড়া দিচ্ছে। আশা করছি সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা সুস্থ এবং ভালো আছেন)
কর্মসূত্রে বাইরে থেকেছি কিছু বছর। তখন থেকেই ঘুরে বেরানোর সূত্রপাত। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা আর দাক্ষিনাত্য মালভূমির পর্বতশ্রেণীগুলো ছাড়া শিবালিক হিমালয়ের শুভ্র তুষার ছড়ানো চূড়া আগে কোনোদিন দেখিনি বা সুযোগও হয়ে ওঠেনি। তাই ঠিক করলাম যাই হোক, হনিমুনটা উত্তর বা উত্তর পূর্ব ভারতের কোনো এক শৈল শহরেই করবো।
                                                গ্যাংটকে হোটেলের জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য

2019 এর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শিয়ালদা থেকে রাতের ট্রেন এ পৌঁছে গেলাম নিউ জলপাইগুড়ি জংশন। একজন অনভিজ্ঞ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয় কোথায় কিভাবে সবকিছু ঠিকঠাক করবো। তাই সময় নষ্ট না করে একটা এজেন্টের সহায়তায় চলে এলাম তাদের অফিসে। সব কিছু ঠিকঠাক করে শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়িতে চেপে পড়লাম।
                                                                M G Marg এ রাত্রি বেলা

প্রথমবার উত্তরবঙ্গে পা রাখলাম, বেশ আলাদাই অনুভূতি ছিল, যখন শহর, জঙ্গল, তিস্তার পাড় পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিম এর সীমান্তে। এরপর সন্ধে নামার আগেই পৌছালাম গ্যাংটক। হোটেলটি বুক ছিল আগেই, M G Marg এর কাছেই। সেখানে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম মার্গ দর্শনে। ডিনার সেরে ফিরে এলাম, আর সেই যে বৃষ্টি শুরু হলো, ভাবলাম পরের দিনের ঘোরাটা বুঝি বাতিল হলো।
উত্তরের আবহাওয়ার সাথে আগে পরিচয় হয়নি, সকালে উঠে দেখলাম ঝলমলে রোদ। এখানে এরকমই হয়, সকালে রোদ আর দুপুরের পর থেকে আকাশের মুখ ভার। হোটেলেই ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়লাম। আগের দিন রূপেন হোটেলে এসে ছবি আর আইডি প্রুফ এর জেরক্স নিয়ে গিয়েছিল।
টিবেত রোডের অফিসে পৌঁছে গেলাম 8টার মধ্যে, ট্যুরের কিছু টাকা পে করে শেয়ার গাড়ির সামনের সিটদুটোতে আমি আর ও বসে পড়তে গাড়ি ছেড়ে দিলো। মাঝে দাঁড়ালো পারমিট নেয়ার জন্য। তারপর আবার পথ চলা। একে বেঁকে আমরা ছানগু লেক পেরিয়ে দাঁড়ালাম একটা দোকানে। বরফে নামার জিনিসপত্র ভাড়া পাওয়া যায় সেখানে। বাবা মন্দির যাবার পথে বরফ দেখতে পেয়ে, নামতে চাইলে অনেকে ভাড়া করে আর কি। এসব করতে করতে পৌঁছে গেলাম বাবা মন্দির। ভাষায় সব কিছু প্রকাশ কি করবো, তাই কিছু ফটো আর ভিডিও দিচ্ছি। এবার সেখান থেকে বেরিয়ে চলে এলাম ছানগু তে। সেখানেও কিছু সময় কাটিয়ে আবার ফিরে আসা গ্যাংটকে।

পরদিন আমাদের 2 রাত 3 দিনের উত্তর সিকিম যাত্রা শুরু হবে, তাই একটু মনের মধ্যে জোস নিয়ে রাত্রি টা কাটিয়ে দিলাম হোটেলে। পাহাড়ি রাস্তায় বেশি খেলে কষ্ট হয়, তাই সেদিন সকালে অল্প করে খেয়ে 10টা নাগাদ হোটেলে চেক আউট করে চলে এলাম উত্তর সিকিম যাওয়ার স্ট্যান্ডে। একটু দেরিতে গাড়ি ছাড়ে যাতে লাচেন পৌঁছাতে বিকাল গড়িয়ে সন্ধে হয়ে যায়। প্রথমে একজায়গায় লাঞ্চ করলাম তারপর একে একে কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট, নাগা ফলস, চুংথ্যাং দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম লাচেন। আর পথের শোভা তো আছেই। রাত্রিবাসটা লাচেনেই করলাম, খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম।
                                                                চানগু লেক, বাবা মন্দির যাবার পথে 
                                                                বাবা মন্দিরের প্রবেশ দ্বার

                                                                বাবা মন্দিরের পাশের সিঁড়ি
বৃষ্টি আর সঙ্গে জাঁকিয়ে ঠান্ডা, কাঁপতে কাঁপতে উঠে পড়লাম। তখন বাজে ভোর 4টে। ফ্রেশ হয়ে চা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম গুরুদনগমার এর উদ্দেশ্যে। পথে ব্রেক ফাস্ট করে ঠিক হলো, কালা পাথর দেখে যাওয়া হবে। সেই মতো আমরা চেক পয়েন্ট পেরোতে পেরোতে পৌঁছলাম বরফের রাজ্যে। আগে ভাই এত বরফ দেখিনি, তাই একটু গড়িয়ে নিলাম বরফে। সময় নষ্ট করলে চলবেনা, তাই গাড়িতে উঠে পড়লাম। সুউচ্চ চেক পোস্ট গাইগাঁও পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম গুরুদনগমার। সেখানে পথের কষ্ট আর সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার। 17000 ফুট উঠে এসেছি ভাবা যায়, স্বাস নিতে পারছিনা এমন অবস্থা। এরপর ফিরে চলা, ততক্ষনে শরীরের অবস্থা কাহিল। পৌঁছলাম লাচেন, লঞ্চ সেরে আবার চলতে থাকা।
                                                                ছানগু লেক
চুংথ্যাং পৌঁছতে হয়ে গেল প্রায় বিকাল, গাড়িটাও সেখানে হয়ে গেল বিকল। প্রায় 1 ঘন্টা ওখানে ঘুরে আবার ডাক পড়লো গাড়ি ছাড়ার। একটা রাস্তা চলে যাচ্ছে লাচুং। রাস্তায় অমিতাভ বচ্চন ফলস দেখে সোজা এসে গেলাম লাচুঙ্গের হোটেলে।

এখানেও সেই বৃষ্টি পিছু ছাড়ে না, যেন সন্ধে নামলেই তার দেখা। রাত্রহারটা সেরে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম আমরা। পরের দিনটা আমাদের উত্তর সিকিমের শেষ দিন।
                                                      কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট, তবে মেঘে ঢেকে গেছে।
                                                                    নাগা ফলস
                                                                     লাচেন চু

সকাল সকাল বেরিয়ে চলে এলাম য়ুমথ্যাং ভ্যালি। প্রায় অনেকটা সময় এখানেই কাটিয়ে দিলাম, কারণ আর জিরো পয়েন্ট যাবার মতো শক্তি সঞ্চয় করতে পারিনি। আবার ফিরে চললাম গ্যাংটকের পথে। সন্ধে হয়ে গেল পৌঁছাতে। পরের দিন রাতে হাওড়া যাবার ট্রেন ছিল আমাদের, সেই মতো পর দিন দুপুর দুপুর নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়া।


এই ফিরে চলা তো আবার নতুনের সন্ধানের জন্য। পরবর্তী কালে আরো অনেক নতুন জায়গায় যাবো, তার ফটো ভিডিও নিয়ে চলে আসবো আবার তোমাদের কাছে। সেটুকু সময়ের জন্য বিদায় বন্ধুরা।
ভিডিও তুলেছিলাম সেগুলোকে যতটা পেরেছি সাজিয়ে গুছিয়ে আপনাদের সামনে ধরতে চেষ্টা করেছি। কেমন লাগলো লিখে জানাবেন প্লিস।
Sikkim Full Playlist: https://www.youtube.com/playlist...
North Sikkim: https://youtu.be/-513Xqoo19M
#north_sikkim #lachen #lachung #baba_mandir #changu_lake #know_your_planet



Kanchan Dutta

Sunday, January 3, 2021

সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 1 - Sandakphu Trek, Part 1

সান্দাকুফু ট্রেক পর্ব 1 

13th ডিসেম্বর 2020

===============
খাগড়া ঘাট স্টেশন এর 3 নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে আপ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস.. প্ল্যাটফর্ম এ অন্ধকার.. লাইট গুলো কোন কারনে অফ.. বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে কপালের কোনা টা কেটে গিয়েছে... জানিনা কেন আজকে সময় বার বার কোন অশুভ সংকেত দিয়ে আগামী সঙ্কট থেকে আমাকে আটকে দিতে চাইছে.. এতো জায়গায় বেড়াতে গেলাম কিন্তু এই প্রথমবার বাড়ির লোক খুব আপত্তি করেছিলো.. অজানা অচেনা মানুষ সব.. ভরসা বলতে কেদারনাথ আর আমার সিউড়ি র বন্ধু সৌরভ.. আর একজনের প্রবল টান.. আর সেই টান নিয়ে আজকের গল্প শিখরে বাঙালি সান্দাকুফু ট্রেক


অনেকেই বলবেন ও তো বহুবার গিয়েছি, খুব সহজ, সাধারন লেভেল এর ট্রেক.. কিন্তু আমার কাছে হয়তো অন্যকিছু
14th December 2020
==================
ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই রাত 2.30 এ NJP নামিয়ে দিলো.. মোবাইল এর ফ্ল্যাশ লাইট দিয়েও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলাম না.
অপেক্ষা র পরে গাড়ি করে রওনা দিলাম ধোতরে র পথে সুকনার পথ ধরে কার্শিয়াং কে পাশে ফেলে ঘুম স্টেশন পেরিয়ে লেপচা জগতের থেকে দেশ থেকে 5 কিলোমিটার পরে রাস্তার ডান দিকের মোড় ধরে এগিয়ে গিয়ে মানেভঞ্জন থেকে আরো 18 কিলোমিটার পরে পৌঁছে গেলাম ধোতরে..
👉8500 ফুট ওপরে উঠে ঠান্ডা বেশ ভালো ভাবেই জানান দিলো তার অস্তিত্ব.. আশ্রয় হলো গাইড নীমার হোম স্টে কাম ট্রেকার হাট
বেড পিছু 200 টাকা..


👉জানলা খুলে দিলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা র সাথে গল্প করা যায়.. এরপর হাজির হলো গরম গরম চিকেন Momo.. আট পিস করে জন প্রতি...
একটু ধাতস্হ হয়ে গাইড এর সাথে বেরিয়ে পরলাম ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম টা ময়না করতে, ভিউ পয়েন্ট গুলো দেখতে...
🍜দুপুরে আহার মিললো ভাত, ডাল, সব্জি চার পিস করে চিকেন পেঁয়াজ লঙ্কা আর পাপর ভাজা
সন্ধ্যা বেলা চা খেয়ে টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পাহাড়ি গ্রাম টা কে নিশাচর এর মতো ঘুরে দেখতে..রাতের আহার ছিলো রুটি আর ডিমের কারী...
😊এরপর তলিয়ে গেলাম ঘুমের দেশে.. ঠাণ্ডা এতো ইচ্ছে করছিলো কালকেই ঘুম থেকে উঠে বাড়ি ফিরে যাই কিন্তু সময় হয়তো আমার জন্য অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলো


15th December 2020
=================
ঘুম ভাঙল কিসের যেন আওয়াজে.. দেখি রুমের ভেতরে ধুপ ধাপ শব্দ.. তারপর ওরা সবাই জানলা দিয়ে এক এক করে.. ওই গানের লাইন টা ঘুম থেকে উঠেই দেখি বউ পালালো জানলা দিয়ে..
👉আসলে ভোরের আলোতে কাঞ্চনজঙ্ঘা তখন অপরূপ.. সেই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করতেই সবাই... বাইরের দরজা বন্ধ কিনা..
👉এরপর সকাল হলো.. বাইরে তখন অদ্ভূত এক দৃশ্য.. রাতের শিশির মিহি তুষার কনা তে জলে রয়েছে পুরো উপত্যকা জুড়ে.. বাড়ির ছাদ থেকে মাঠের ঘাস সর্বত্র একই চিত্র..


👉চা পর্ব শেষ করে বাথরুমে গেলাম.. ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই প্রকৃতির ডাকে যেতেই হবে.. তবে কাজ শেষ এ প্রথম বার ধোয়ার পরিবর্তে মুছে নিতে হলো সৌজন্যে টিস্যু পেপার
এরপর Maggi ব্রেক ফাস্ট সেরে প্রস্তুত হলাম টংলু অব্দি ট্রেক এর জন্য.. সকাল 9:30 এ যাত্রা শুরু.. পিঠে ব্যাগ হাতে বাঁশের লাঠি যেটা খুব সাপোর্ট দিয়েছে...


👉এরপর বন জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম এক অদ্ভূত দেশে.. যেখানে মেঘ গুলো খুব দ্রুত চলাচল করছে.. দূরে গরু গুলো মনের সুখে ঘাস খাচ্ছে.. তাদের গলায় বাঁধা ঘন্টা অদ্ভূত শব্দ সৃষ্টি করছে...
👉একটু ওপরে একটা রাস্তা গাইড বলল ওটাই টংলু শুরু হলো হাঁটা.. কিসের যেন আকর্ষন.. অবশেষে ট্রেকিং রাস্তা মিশে গেলো গাড়ি চলার রাস্তায়... কাঞ্চনজঙ্ঘা বার বার মেঘ এর আড়ালে কিংবা সামনে..
চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ.. যেন কোন যুদ্ধ জয়ের পরের দৃশ্য... ঘড়ির কাঁটা বলছে বিকেল 4 Pm..
টংলুর ট্রেকার হাট এ পৌঁছে সামান্য বিশ্রাম এর পরই ছুটে গেলাম.. কারণ ওই যে মেঘের দেশে সূর্য অস্ত যাচ্ছে.. আবারো রাত নামছে পাহাড়ে র বুকে.. ওই যে দূরে টুমলিং...
👉ফিরব পরের পর্বে এর পরের গল্প নিয়ে..
আজকের এই পর্বের ভিডিও শেয়ার করলাম যারা ট্রেক করেছেন বা করবেন তাদের আশাকরি মন ছুঁয়ে যাবে....
👉 https://youtu.be/sWa2vPalM8c 👈

🙏তবে আপনারা ভাবছেন সব তো ভালো খারাপ টা কি তবে? সেদিন আমিও জানতাম না খারাপ টা কি আজকে জেনেছি.. তাই আপনাদের একটা জিনিস বলে রাখি কোন গ্রুপ বা ফেসবুক এ বিভিন্ন নিত্য গ্রুপ নানা রকম ট্যুর এর আয়োজন করে...আমি বলছি না সবাই খারাপ.. শুধু যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন.. যে ভুল টা আমার হয়েছে সেটা যেন আপনাদের না হয়... পঁচা শামুকে পা কেটে বসে আছি... জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর অব্দি দিপুদা থেকে চারধাম যাত্রা সম্পূর্ন.. কিন্তু শেষ অব্দি... যাক পরে বলবো সে কথা... গ্রুপ এর সদস্য দের নতুন বছরের শুভেচ্ছা.. এডমিন সাহেব সাহেবা দের ও.. আর নতুন বছর থেকে অনেক অনেক নতুন জায়গার সন্ধান গল্প ছবি নিয়ে ফিরব এই ভাবেই.... ভালো থাকুন সবাই.. সতর্ক থাকুন..

Koushik Pal

Wednesday, December 30, 2020

চমৎকার চিলাপাতা ফরেস্টে(আলিপুরদুয়ার)- Splendid Chilapata Forest,(Alipurduar)

 ডুয়ার্স এর ঘোরার জায়গাগুলোর মধ্যে আমার কাছে চিলাপাতা অনেকটাই নীচের দিকে ছিল। কিন্তু বর্ষশেষে যখন থাকার জায়গা পাওয়া গেছে তখন খানিক নিমরাজি হয়েই যেতে হল। অর্কিড হোমস্টে পৌঁছে সবথেকে আগে চোখ টেনে নিল সামনে বিশাল মাঠ, আরে তারপরেই জঙ্গল শুরু। বাঙ্গালীর দুর্বলতা আমার মতে গরম এক কাপ চা। ঢুকতে না ঢুকতেই অসাধারণ চা পাওয়া গেল। আতিথেয়তা আর রান্না দুটোই দারুন। পরদিন সকালের সাফারিতে গেলাম। জঙ্গলের গন্ধ মাখা আর কুয়াশা ঘেরা পথের আনন্দ মেখে ফিরে আবার বেরলাম ওই মাঠ ধরে জঙ্গলের সীমানায়। এই মাঠে নাকি সন্ধ্যেবেলায় হাতির দল আসে। ভাগ্যক্রমে তাদের দেখা পাইনি, তবে পেলাম বেশ কিছু ময়ূর আর একটা মিষ্টি হরিণ।

কিছু ছবি রইল আপনাদের জন্য।










Samrat Banerjee

Friday, December 25, 2020

তাকদা তিনচুলে লামাহাটা - Takdah Tinchuley Lamahatta

তাকদা, তিনচুলে, লামাহাটা দার্জিলিং শহরের ছোট্ট ছোট্ট এই গ্রামগুলি কে প্রকৃতি নিজের হাতে সাজিয়েছে, এখানকার পাহাড়ি সৌন্দর্য যেকোনো হিল এরিয়ার সৌন্দর্যের থেকে কোন অংশে কম নয়..

                                                            দার্জিলিং থেকে তাকদা যাওয়ার পথে

                                                   গুম্ফাদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে তোলা ছবি
দার্জিলিং থেকে ঘুম পেরিয়ে বাঁ হাতে ঘুরলেই পেশক রোড। দু’পাশে পাইন, আকাশের গায়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে ৫,৫০০ ফুটের মতো উচ্চতায় এক অদ্ভুত মায়া জুড়ানো জায়গার নাম তাকদা।
                                                গুম্ফাদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে লামাহাটা যাওয়ার পথে

লেপচা ভাষায় ‘তাকদা’-র মানে মেঘে বা কুয়াশায় ঘেরা। দার্জিলিং থেকে উচ্চতা কম, কিন্তু বেশ ঠাণ্ডা চারপাশ। লোকজনের হৈ-হুল্লোড় নেই, বাজারের মেলা ভিড় নেই। থাকার মধ্যে আছে পাহাড়ি স্নিগ্ধ নির্জনতা। আর আছে ঢেউ খেলানো চা-বাগান, অর্কিড।
                                 লামাহাটা যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে এলাচ গাছ

তাকদা থেকে তিনচুলে মাত্র ৩ কিমি। গাড়িতে মিনিট ৩০-এর রাস্তা। অসাধারন জায়গা। চারিদিকে পাহাড়ের মধ্যে একটুকরো জনপদ।
                                     লামাহাটা ইকো পার্কের ওয়াচ টাওয়ার থেকে তোলা ছবি

তিনচুলে থেকে সামান্য দূরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অফুরন্ত পাইন বন, জায়গাটির নাম লামাহাটা।

এর উচ্চতা ৬৫০০ ফুট ।লামাহাটা মানেই পাহাড়ের পর পাহাড়। প্রকৃতি এখানে প্রতি মূহূর্তে রঙ বদলায়। খোলা পাহাড়ি পরিবেশে রয়েছে মন মাতানো চা বাগান। চারদিক নিঃশব্দ।
    
                         লামাহাটা থেকে দার্জিলিং ফেরার পথে

প্রকৃতি খুব যত্ন করে ধীরে ধীরে সাজিয়ে তুলেছে লামাহাটাকে। খুব সুন্দর সাজানো গোছানো জায়গাটা। পাহাড়ের পাদদেশ একটা পার্ক। রঙবেরঙের ফুল, গাছ। সুন্দরভাবে বাঁধানো একটা রাস্তা চলে গেছে পাহাড়ের ওপর। ওপরে ছোট্টো একটা লেক আছে। ২.৫–৩ কিমির ছোটো একটা ট্রেকিং এর স্বাদ পাওয়া যায়। পুরো জায়গাটা প্রকৃতিপ্রেমিকদের স্বর্গরাজ্য।
দার্জিলিং থেকে একদিনের ট্যুর এ তাগদা, তিনচুলে, লামাহাটা ঘুরে আবার দার্জিলিং ফিরে আসা.... এই ছোট্ট ট্যুরের কয়েকটি ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম....

Subrata Dey


Tuesday, December 15, 2020

তিনচুলে, দার্জিলিং- Tinchuley, Darjeeling

 4 দিনের tour এ ঘুরে এলাম সিটং,তিনচুলে, দার্জিলিং.প্রায় দেড় মাস আগে টিকিট কেটে শুধু যাওয়ার দিনের অপেক্ষায় দিনগুনছিলাম, শুধুমাত্র আমিই নই আমার 5 বছরের ছেলেও..কারণ সেও বাড়িতে থেকে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছিল. সেই March e গিয়েছিলাম দারিংবাডি, মান্দাসরু, গোপালপুর, পুরী. ফিরে এসে থেকে ঘর বন্দী. তাই একটা trip এর বড়োই প্রয়োজন ছিলো. ফিরে এলাম অনেক বিশুদ্ধ অক্সিজেন আর মনের মনিকোঠায় প্রকৃতির অপরূপ রূপ এর ছবি নিয়ে.

                                                           Lover's Meet Point

Njp থেকে আমাদের আগের থেকে ঠিক করা গাড়িতে করে পৌঁছে গেলাম সিটং এর Himalayan Home stay তে.ছবির মতো সুন্দর জায়গায় homestay টি. জানলা খুলেই সামনে সবুজ ঘেরা পাহাড়. ওখানে পৌঁছে স্নান, খাওয়া সেরে চলে গেলাম sight seeing করতে. নামথিং পোখরি লেক, অহলদারা view point, orange garden.
                                                     Aholdara view point

পরের দিন break fast খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম তিনচুলের উদ্দেশ্যে. পথে যেতে যেতে সারা রাস্তা কাঞ্চনজঙ্ঘা তার সুবিস্তৃত পাহাড়চূড়ার রূপ আমাদের সামনে মেলে ধরেছিলো. এতো পরিষ্কার ভাবে যেন মনে হচ্ছিলো একদম সামনেই বুঝি আছে. লোভ সামলাতে না পেরে বার বার গাড়ি দার করিয়ে ফটো তুলে যাচ্ছিলাম.
                                                লামাহাটা Eco Park.

পথে যেতে যেতে অনেক tea garden, নাম না জানা পাহাড়ি ঝর্ণা, Hanging bridge, যোগী ঘাট, Lover's meet point, বড়ো মাঙয়া দেখতে দেখতে দুপুরে তিনচুলের অভিরাজ homestay তে পৌঁছে গেলাম.আমরা ছিলাম কাঠের ঘরে. Room টি অনেক বড়ো ছিলো. সূর্য ডোবার পরে ভীষণ ঠান্ডায় লেপের তলায় জড়োসরো হয়ে গেছিলাম. কিন্তু হটাৎ কর্তা বাইরে বের হতে গিয়ে এমন কিছু দেখতে পেলো যে আমাদের সারাদিনের ধকল, ঠান্ডা সব এক নিমেষে উধাও হয়ে গিয়ে আমরা belcony তে চেয়ার নিয়ে বসে পরে তখন শুধু প্রকৃতির আকণ্ঠ রূপ পান করে চলেছি,,, অবাক বিস্ময়ে আমরা শুধু সামনে চেয়ে রয়েছি,,উফফফ,, আগের দিন ছিলো রাস পূর্ণিমা, একটা গোল রুপোর থালার মতন চাঁদ আর আমাদের সামনে শুধু দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়, একদম পরিষ্কার আকাশ, আর পাহাড়ের গায়ে সব আলোকবিন্দু যেন মনে হচ্ছিলো হীরের নেকলেস পরে রয়েছে,,, সেই সৌন্দর্য কোনোদিনও ভোলার নয়.এতো পরিষ্কার আকাশ ছিলো যে নেপাল বর্ডার এর আলোও পযন্ত দেখা যাচ্ছিলো.
                                            সিটং এর রাস্তার পাশে orange garden.

সন্ধ্যাবেলায় মোমো আর কফি খেয়ে আর রাতে কিছু খেতে পারিনি. পরের দিন সকালে দারুন ছোলে ভাটুরে খেয়ে হেটে হেটে gumbadara view point দেখে গাড়িতে করে দার্জিলিং.সেখান থেকে নামচি চারধামের সাদা প্রস্তর শিব মূর্তি দেখা যাচ্ছিলো. পথে তাকদা অর্কিড গার্ডেন,বাতাসিয়া লুপ, zoo দেখে আগে থেকে ঠিক করে রাখা হোটেল এ পৌঁছে খাওয়া দাওয়া করে একটু marketing সেরে নিলাম.

পরের দিন ভোরে উঠে স্নান সেরে ম্যাল ঘুরে মহাকাল মন্দিরে পূজো দিয়ে Glenarys e breakfast সেরে ফেরার জন্য গাড়িতে উঠে পড়লাম. যদিও আমাদের খাবার হোটেল থেকেই দিয়েছিলো কিন্তু দার্জিলিং এ যাবো অথচ glenarys e খাবো না তা কি হয়, তাই হোটেল এর breakfast pack করে নিলাম, train e সন্ধ্যাবেলার টিফিন হিসাবে খেয়ে নিয়েছি.
ফিরে আসার সময় আবার পরের বছর যাওয়ার plan বানিয়ে নিলাম. যাওয়া আসার সারা রাস্তায় পাহাড়ী জঙ্গল, বড়ো পাইন, ওক, ফার আরও সমস্ত গাছের সৌন্দর্য আমাকে বরাবর মোহিত করে. তাই বারে বারে পাহাড়ের টানে ফিরে ফিরে যাই.

***নিচে ছবিগুলো দিলাম শুধু আমার মোবাইল এ তোলা কোনোরকম এডিটিং ছাড়া.
Darjeeling hotel Peak to peak. -9023121977.
সিটং Himalayan homestay -9382485004
অভিরাজ -9749370965.
Driver খুব বাজে ছিলো, কিছুই রাস্তা চেনে না, driver er জন্য আমাদের দুটো /তিনটে sightseeing দেখা হয় নি, তাই driver er কোনো contact number দিলাম না.

Bidisha Das

Wednesday, November 25, 2020

কানকেব‌ঙ (কালিম্পং) - kankebong (kalimpong)

 অনেকেই হয়তো এই জায়গাটির নাম শোনেননি, কিন্তু হিমালয়ের আঁকাবাঁকে, আনাচে-কানাচে কত অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে যে প্রকৃতি সেজে আছে তা এই গ্রামে এলেই বুঝবেন। কালিম্পং ডিভিশনের এক ছোট্ট গ্রাম কানকেবং আপনাকে অবাক করবে, তার রূপ-লাবণ্যে।

যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং শুধু এবং শুধুই অবসর কাটানোর ঠিকানা খুঁজছেন এবং পাহাড়ের সেই পরিচিত কাঠপোড়া গন্ধ, সবুজের নিস্তব্ধতা চান তাদের জন্য‌ই এই লোকেশন। পাহাড়ী জীবনের মাটির স্বাদ নিতে ঘুরে আসুন কানকেবং থেকে।

যারা একবার এখানে গেছেন তারা যে সহজেই এই জায়গার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছেন, বলাই বাহুল্য। কালিম্পং থেকে ঘন্টাখানেকের রাস্তা পেরিয়ে ডাউনহিলে মূলত এই গ্রাম। এছাড়াও বিভিন্ন হিমালয়ান পাখির আস্তানা এই ছোট্ট জনপদ। স্বভাবতই পাখি প্রেমীদের ক্রমেই প্রিয় ডেস্টিনেশন হয়ে উঠবে।

শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে সবুজের মাঝে দুদিন ঘুরে যেতেই পারেন এই পাহাড়ী গ্রামটিতে। আপনি যদি প্রকৃতি কে ভালোবাসেন তবে আবার ফিরে আসতে হবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে পৌঁছতে সময় লাগে ঘন্টা চারেক। হোমস্টেটিও চমৎকার।


বাঁশ দিয়ে তৈরী চমৎকার তিনটি কটেজ। খাওয়াদাওয়া, আতিথিয়তাও বেশ ভালো। রাতের বেলা ওপরের পাহাড়ে লোলেগাও, কাফেরগাও এর আলো জ্বলে উঠলে দেখতে বেশ লাগে। তবে এখানে বিশেষ করার কিছু নেই শুধুই অবসর যাপন ছাড়া। হোমস্টে লাগোয়া একটি ছোট্ট সুইমিং পুল‌ও আছে।

এখান থেকে দেখার জায়গার মধ্যে , কালিম্পং, দূরপীন, ডেলো সব‌ই ঘুরে আসা যায়। এছাড়া কাফেরগাঁও, লোলেগাঁও, সামথার প্রভৃতি জায়গা গুলিও ঘুরে আসতে পারেন দিনে দিনেই। ওখানে পৌঁছেই ঠিক করুন, শুধু‌ই অবসর যাপন নাকি সাইটসিংয়ে বেড়িয়ে পড়বেন কিনা গাড়ী নিয়ে।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দূরত্ব- ৮২ কি.মি
গাড়ী ভাড়া- ৩৫০০-৪০০০/- টাকা।
কালিম্পং থেকে দূরত্ব ১৫ কিমি, গাড়ী ভাড়া আনুমানিক ৮০০-১০০০ টাকা।
হোমস্টেতে থাকা খাওয়ার খরচ ১৫০০/- জনপ্রতি প্রতিদিন সমস্ত মিল সহ।
+916291538880


Himalayan Retreat