• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Sunday, June 7, 2020

মহলদিরাম দার্জিলিং - Mahaldiram Darjeeling

 ঘুরতে যাবার প্রস্তাব টা হঠাৎ করেই আসে আমার কাছে দিদি জামাই বাবুর কাছ থেকে...পরিকল্পনা মতোই আমাদের যাওয়ার দিন ঠিক হলো 16 ই মার্চ... ট্রেনের টিকিট পেয়ে গেলাম হাওড়া থেকে আগরতলা হামসাফার এক্সপ্রেস... হাতে ছুটি বলতে খুব বেশি দিন ছিল না.. কোন ভাবে অফিসে ম্যানেজ করে দু দিনের ছুটি মঞ্জুর করলাম.. এবং 16 ই মার্চ সন্ধ্যেবেলা পরিকল্পনা মতোই বেরিয়ে পড়লাম ট্রেন ধরতে..

ওহহ বলতে ভুলে গেছি আসল জিনিসটাই এবারের আমাদের গন্তব্য....
*#মহলদিরাম*
নামটা একদমই অজানা তাই না!!!!
জায়গাটাও একদমই অজানা!!!
দার্জিলিং জেলার একটি ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম নাম #মহলদিরাম*

17 ই মার্চ সকাল সাড়ে ছয়টায় ট্রেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছালো... আমাদের যে গাড়ি বলা ছিল সেই গাড়িতে করে মহলদিরাম পৌঁছতে মোটামুটি 3 ঘণ্টা লেগে গেল.. রাস্তার দুপারের পাইন জঙ্গল, খাদ, নদী এইসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ ভরিয়ে দিল... রাস্তাও ছিল অনেকটাই চড়াই..
অবশেষে আমরা পৌঁছালাম আমাদের গন্তব্য স্থান *#মহলদিরাম*|||

সিটং ও লাটপাঞ্চার পেরিয়ে এই গ্রাম.....জায়গাটির উচ্চতা সমতল ভূমি থেকে প্রায় সাড়ে 6 হাজার ফুট..
মূলত এখানে থাকার জায়গা হোমস্টে *"স্যালামান্ডার জঙ্গল ক্যাম্প"* কিন্তু আমরা আকস্মিক ভাবেই সাধারন
হোমস্টের থেকে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি... চা বাগান এর মধ্যেই তৈরি হোমস্টে..
পৌঁছানোর সাথে সাথেই হোমস্টের ম্যানেজার বাপি বাবু আমাদের গলায় উত্তরীয় জড়িয়ে আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন...
যেমন আতিথেয়তা তেমন ব্যবহার আর ঘরের ভেতর পৌঁছে আমরা অবাকই হলাম আমরা কল্পনাও করতে পারিনি যে এখানে এসে আমরা এত সুযোগ স্বাচ্ছন্দ পেতে পারি.. ঘর বাথরুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর করে সাজানো...

কিন্তু পৌঁছে থেকেই মনটা কেমন একটা খারাপ খারাপ লাগছিল কারন আকাশে মেঘ থাকার কারণে আমাদের কাঞ্চন মানে "কাঞ্চনজঙ্ঘা" কে একদমই দেখা যাচ্ছিল না... দুপুরের স্নান করে একদম বাঙালি খাবার পেট ভরে খেয়ে আপ্লুত হয়ে বেরিয়ে পড়লাম আশপাশে গ্রাম ঘুরতে... সন্ধ্যে এখানে নামে খুব তাড়াতাড়ি.. সন্ধ্যেবেলা ভেজ পকোড়া আর চায়ের সাথে আড্ডা টাও জমে গেল... রাতে আমাদের অনুরোধ মেনেই ম্যানেজার বাবু চাউমিন এবং চিলি চিকেন করে দিলেন খাবার জন্য...
রাতে ঘুমোতে গেলাম মনে এই আশা নিয়ে কাল সকালে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাবো...

কিন্তু পরদিন সকালে উঠে দেখলাম আবহাওয়া আরো খারাপ.. পুরো আকাশ মেঘে ঢেকে রয়েছে.... সকালে গাড়ি নিয়ে সাইটসিন এ বেরোনো হল গন্তব্য ছিল 'ডাওহিল' আর কার্শিয়াং "ফরেস্ট মিউজিয়াম"...
ফিরে লাঞ্চ কমপ্লিট করে বিকেলে গেলাম কাছের একটি "মনস্ট্রি"তে... মানুষজনের ব্যবহার এতই ভালো মন ভালো হয়ে গেলো...
সন্ধ্যাবেলা আকস্মিকভাবেই প্রবল ঝড় বৃষ্টি শুরু হল... সাথে পেলাম শিলাবৃষ্টিও...

রাতের খাবার খেয়ে ছাদে উঠতেই মনটা হঠাৎ আনন্দে ভরে গেল.. দেখলাম আকাশ একদম পরিষ্কার... সাথে দেখতে পেলাম দূরে প্রচুর গ্রাম এবং গ্রামগুলিতে ঝকমক করে আলো জ্বলছে... যেন পূর্ণিমার আকাশে অসংখ্য তারা একসাথে জ্বলছে... ফ্রেমবন্দি করলাম ওই রাত 11.30 tar সময়...এক মনোরম আলো-আঁধারি পরিবেশে সম্মুখীন হলাম... মনের তীব্র আশা জাগলো কাল সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাবো...
অবিশ্বাস্য ভাবে হতাশ হতে হলো না কিছুটা হলেও আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলাম... চলে আসতে হবে ভেবে মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল জায়গাটি ছেড়ে আসতে একদমই ইচ্ছা করছিল না...

কিছু জায়গা থাকে যেখানে একা বসে থাকলেই মন ভালো হয়ে যায় মহলদিরাম জায়গাটি তাদের জন্যই... এক অপূর্ব নিস্তব্ধতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সামনে চা বাগান, সন্ধের আলো-আঁধারি পরিবেশ এবং ছাদ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার মজাই আলাদা...
হোমস্টের কেয়ারটেকার মঙ্গলের হাতের রান্না এবং ব্যবহার আলাদা কৃতিত্বের দাবি রাখে...
19 তারিখ সকালে মহলদিরাম কে বিদায় জানিয়ে আমরা এগোলাম.... গন্তব্য দার্জিলিং.. এখান থেকে 3 ঘন্টা দার্জিলিং... বাতাসিয়া লুপ ঘোরা, টয়ট্রেন আর গ্লেনারিস এ লাঞ্চ যেন আলাদা নস্টালজিয়া খুব বেশি সময় না থাকায় এতেই সন্তুষ্ট থাকলাম... দুপুর 3 টা নাগাদ রওনা দিলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এর উদ্দেশ্যে.. ঠিক সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় পদাতিক এক্সপ্রেস এ উঠে পড়লাম এবং পরদিন সকালে চলে গেলাম শিয়ালদা স্টেশন...

***শুধু এটাই বলব *#মহলদিরাম* তুমি এ রকমই থেকো ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যেও না....
অপরিচিত জায়গা গুলো সব সময় হয়তো এতটা ভালোই হয় আর তাই জায়গাগুলো অপরিচিত থাকাই ভালো....

Ayan Bishayee

Friday, June 5, 2020

লাভা, কালিম্পঙ - Lava, Kalimpong

 ছবিটি লাভা তে তুলেছিলাম । কয়দিন থেকেই লাভা নিয়ে লেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল । বন্ধু সুমি বলছিল ও লাভা খুব ভালবাসে । অথচ লাভা যায় নি । ব্যাপারটা খুব আশ্চর্য । আশ্চর্য নয় কি ? আসলে লাভা কথাটির অর্থই এক সুন্দর কবিতার মত । লা - ঈশ্বর , ভা - উপস্থিতি ।

                                                            Just after leaving Garubathan

আমার ভ্রমণ যাওয়া আর ফিরে আসা । এই পথ দেখতে দেখতে যাওয়া আর আসাই আমার ভ্রমণ ।সুমি , তুমি যেমন কোনদিন লাভা না গিয়েও লাভাকে নিয়ে কবিতা লিখতে পার , আশ্চর্য সুন্দর করে গান গাইতে পার , ওমনি আমিও মাত্র দু ঘন্টা ঘুরেছিলাম । ঠিক করেছিলাম আবার আসব লাভা । সেবার বুড়ো মামাকে নিয়ে খুব অসুবিধায় পড়েছি । মামা শুধু বলে আমি বসি , তুমি ঘোর । আরে তা কি করে হবে । আমি হাঁটতে থাকব , তারপর রাস্তায় গাড়ি পেলে উঠে পড়ব । তোমাকে কোথায় বসিয়ে রাখব । বছর সাত হয়ে গেছ জান , লাভা ঘুরেছিলাম । এখন আমিও বুড়োর খাতায় । তুমি এবার হাত ধরে থেকো । বাস্তবে না পার , তুমি স্বপ্নতেই আমার হাত ধর । আবার আমি লাভা যাব । সুমি এবার তোমার হাত ধরে । নতুন করে ছবি আঁকব ।

                                                            Looks so Dangerous

বেশী জন লাভার দিকে যায় , এন জি পি থেকে তিস্তা বাজার , কালিম্পং হয়ে লাভা । আমি নিয়ে যাব তোমায় ডামডিম হয়ে । সে এক আশ্চর্য সফর করেছিলাম আমরা । খুলে বলি । এত দিন পরও একটু চোখ বুজলেই আমার সব ছবি আর পথের কথা মনে পড়ে যায় । সকাল বেলাতেই সেদিন আমরা চালসার হোটেল ছেড়েছি । হোটেল মালিক বলেছিল বেলা ৮-৩০ একটা ট্রেকার আসবে । ওটা কালিম্পং নিয়ে যাবে । আমি উঠি ভোর পাঁচটার আগে । এত সময় নষ্ট করব ? চালসা মোড়ে এক পথচারী পরামর্শ দিল , এখনই (৬) একটা গাড়ি পাবে মালবাজার যাবে । ওখান থেকে আবার গাড়ি পাবে শিলিগুড়ি যাবার । পথে ডামডিম নেমে যাবে । ওখান থেকে আবার গাড়ি । আমার তো এমন পথের নিশানা পেয়ে মন নেচে উঠল । ডামডিম নেমে এক দোকান এ নাস্তা ।
                                                                    After Landslide
ভাগ্যিস ভাল ভাবে নাস্তা করেছিলাম । তারপর সারাদিন মামাকে আধপেটা করে রেখেছিলাম গো । যাক গল্পটা করি । দোকানদারকে এবার ধরলাম লাভা কি ভাবে যাব । দোকানদার সেই গাড়িটার কথাই বলল । যেটা আমরা চালসা থেকেই ধরতে পারতাম । আমি জানতে চাইলাম আর কোন উপায় নাই । এতক্ষন এভাবে বসে থাকব ? তখন দোকানদার বলল , এখান থেকে সব ম্যাজিক্ গাড়ি যাবে । ওটাই উঠে গরুবাথান যেতে পার । ওখান থেকে লাভার গাড়ি পাবে । শুনে ভালই লাগল । অল্প সময় হলেও গরুবাথানও ঘোরা হবে । গরুবাথান যাবার পথটাও কি সুন্দর । দু ধারে চা বাগান । গাড়ি মাঝে মাঝে দাঁড়াচ্ছে । লোকাল লোকজন উঠছে । মন্দ লাগছিল না জানো । লোকাল লোকজনদের সাথে গাড়িতে দু একটা করে কথা বার্তাও শুরু হল । জানতে পারলাম আজ গরুবাথানে হাট বসবে । এখন আর মনে নেই । সেদিন কি বার ছিল । খুব সম্ভব রবিবার । আমার হিসাব তাই বলছে । যাই হোক ডুর্য়াসে হাট দেখা নিয়ে আমি খুব উত্তেজিত হয়ে গেলাম । সেই সব দিনকাল হয়ত এখন আর নেই । তবু হাটে কত রকম মানুষ জন । নিশ্চয় ভাল কিছু ছবি তোলার আশায় রইলাম ।
                                                                        At Lava

গরুবাথানে একটা লাভা যাবার গাড়ি এখুনি ছাড়বে । হাতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট । টিকিট কেটে মামাকে গাড়িতে রেখে আমি হাটে এলাম । হাট এত সকালে তেমন জমে নি । আর গরুবাথানের এই শহর অঞ্চলটি একবারে ঘিঞ্জি । একটু হতাশই হলাম । একটা দুটো পর্টেট তুললাম । আমাদের গাড়িও ছেড়ে দিল । একবারে টাইমের গাড়ি । আর আমার ভাগ্য আজ গাড়িতে লোকজন কম । আর আমি একটা জানালার ধারে ।
ঘিঞ্জি শহরটা শেষ হতেই গাড়ি পাহাড়ী রাস্তা ধরল । আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ এর মত পুরো পৃথিবী ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পাল্টিয়ে গেল ।
                                                                Father and son

যাবার পথে এই রাস্তায় ( চলন্ত) গাড়ি থেকে এত এত ছবি তুলেছি বলার নই । তবু একটা ছবি গাড়ি থেকে নেমে কাছে গিয়ে না তোলার আফশোষ এখনও আছে । সুমি এই ছবিটা দেখো । ওদের ছোট পৃথিবী । মহিলার পিঠে একটা বাচ্চা । ওরা স্বামী স্ত্রী লাঙ্গল করছে । পাহাড় থেকে মেঘ নেমে এসেছে । কি অসাধারণ ল্যান্ড স্কেপ ছিল । এই সাত বছরে আমার প্রায় মনে পড়েছে এখানে একবার যাব । ভাবতাম আবার যেদিন যাব , সেদিন যদি মেঘ না নেমে আসে ? ওরা দুজন যদি সেদিন লাঙ্গল না দেয় । আর ভয় নেই সুমি । তুমি সাথে থাকবে এবার । এবার ওখানে নামব । গাড়ি চলে যায় যাবে । ওখানে রাত থাকব । মেঘ নামবে । বৃষ্টি হবে । মাঝ রাতে মেঘ ভেঙে চাঁদ দেখা দেবে । জান্নাত নেমে আসবে মাটির পৃথিবীতে ।
                                                                At Lava

আসুন এর এই সকালে ক্যামেরাটাকে আর খারাপ না করে লাভার বাকি গল্পটুকু করে নিই । আজকের মত সেদিন ডামডিম থেকে লাভা ওঠার শেষ ধাপগুলিও ছিল ভয়ংকর । সামনে থেকে এক গাড়ি দেখে মনে মনে ভাবছিলাম যে কোন সময় পাহাড়ে ধস নামতে পারে । আর গাড়ি সমেত -
                                                            Beautiful Lava

ভাবনাটা ভাবার কিছু সময়ের মধ্যেই দেখি গাড়ির জ্যাম । ড্রাইভার বলে দিলেন রাস্তায় ধস নেমেছে । গাড়ি থেকে নামলাম । রাস্তার ধস পরিষ্কার শুরু হয়েছে । কিছু পর রাস্তা কিছু পরিষ্কার করে গাড়ির যাতায়াত শুরু হল । ড্রাইভার জানালো এবার এই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে । পুরো বর্ষাকাল বন্ধ থাকে । আমরা লাভা ঢুকলাম মেঘ কুয়াশার মধ্যে । অনেক গুলি কুয়াশার ছবি নিলাম চলন্ত গাড়ি থেকে । চলন্ত গাড়ি থেকে অল্প আলোয় ছবিগুলি খুব একটা ভাল হয় নি ।
                                                                    Beautiful Lava

লাভা আমরা ঘন্টা দেড় -দুই ছিলাম । আমাদের তাড়া ছিল কাল্মিপং যাওয়ার । ফের ওখান থেকে শিলিগুড়ি ফেরার । সন্ধ্যা সাতটায় কলকাতা ফেরার ট্রেন । একটা দিনের মধ্যে চালসা থেকে লাভা হয়ে শিলিগুড়ি ভায়া লোকাল গাড়ি , খুব সহজ ব্যাপার নই । সবটাই সম্ভব হয়েছিল সময়ে সময়ে গাড়ি পেয়ে যাওয়া ।

লাভা নিয়ে একটু বলে লেখা শেষ করব । লাভা খুব বড় জায়গা নই । কিন্ত অন্তত এক রাত দু দিন না থাকলে লাভার সৌন্দর্যকে উপভোগ করা যাবে না । লাভা থেকে চারিদিকে অনেক গুলি পয়েন্ট ঘোরার আছে । কিছু ছবি দিয়ে লেখা শেষ করছি । ছবিগুলি দেখে বুঝতে পারছি , আজ ভাঙা ক্যামেরা দিয়েও আরও ভাল ছবি তুলতে পারতাম । অনেক ছবি শুধু অভিজ্ঞতার অভাবে নষ্ট হয়েছে ।

Sk Munna

Wednesday, May 20, 2020

অফবিট ডেস্টিনেশন চটকপুর - Offbeat Destination Chatakpur, Darjeeling

 এখন বাঙালির নতুন অফবিট ডেস্টিনেশন চটকপুর।ঘুরে এলাম এই ক্রিস্টমাসেই। তারই কিছু অভিজ্ঞতা ও একরাশ ভালোলাগা শেয়ার করে নিচ্ছি আপনাদের সাথে ।

শিলিগুড়ি থেকে দূরত্ব 54km.(প্রায় ), গাড়িতে যেতে মোটামুটি তিন থেকে সাড়ে-তিন ঘন্টা লাগে।

যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে তোলা কার্শিয়াং
                                                          যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে তোলা কার্শিয়াং
                    আমাদের হোমস্টে, মেঘেদের ভিড় জমে উঠছে তখন । কাঞ্চনজঙ্ঘা পিছনে আড়াল পড়েছে ।

হোমস্টে বুকিং করাই ছিল আগে থেকে এবং যাওয়ার গাড়িও হোমস্টে থেকেই arrange করে দিয়েছিল । সকাল সাড়ে ন'টায় শিলিগুড়ি পৌঁছে চটকপুর ঢুকতে ঢুকতে বেলা একটা বেজে গেল (ব্রেকফাস্টের সময় ধরে )।
                                                        কালিপোখরী যাওয়ার রাস্তা তে

যাওয়ার পাকদন্ডী পথে একই সাথে পাশাপাশি চলেছে টয় ট্রেনের লাইন, আপাতত ট্রেন বন্ধ, লাইনেও দেখলাম কাজ চলছে টুকটাক, হয়তো আবার চালু হবে শিগগির । নেপালি গানের(গাড়িতে বাজছিল ) সুর ধরে কার্শিয়াং পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম সোনাদা ।
                                        কালিপোখরী, জলের রঙ বারোমাস এই একইরকম । বেশ গা ছমছমে

সোনাদা থেকে ডানদিকে উঠে গেছে খাড়া পথ,আরও ঘন্টা খানেকের রাস্তা । রাস্তার প্রথম কিছুটা অংশ খাড়াই হলেও খারাপ না তবে Senchal ফরেস্টের চেকপোষ্ট থেকে জঙ্গলের রাস্তা শুরু হয়েছে । পাথুরে রাস্তা, গাড়িতে বেশ ভালো রকমের জার্কিং হয় । এইবেলা বলে রাখি চটকপুর এই Senchal ফরেস্টের ভেতরেই, মাঝে মাঝেই জন্তু জানোয়ারও দেখা যায়(হরিণ,লেপর্ড , ব্ল্যাক বিয়ার ) । আমরাও যাওয়ার পথে একটা jungle cat দেখতে পাই ।


জঙ্গলের ভেতরে থাকার জন্য মাথাপিছু 120 টাকা/দিন করে লাগে, গাড়ি রাখলে 400 টাকা /দিন । হোমস্টে পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া যায়নি, গাড়িতে যাওয়ার রাস্তাও নয়, পাথুরে পথ, সিঁড়ি রয়েছে এবড়ো খেবড়ো। মোটামুটি 500/600 মিটার মতো হেঁটে উঠতে হয়। তবে আমাদের হোমস্টে'র লোকেশনটা ওই এলাকার সব থেকে উঁচুতে হওয়ায় একটু বেশি হাঁটতে হয়েছিল । হোমস্টে থেকে হেল্পিং হ্যান্ড পাওয়া যায় এবং ড্রাইভার দাজুও অনেকটা সাহায্য করেছিল ।


আমরা যখন রুমে ঢুকলাম ওয়েদার বেশ মেঘলা ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘাও মেঘের পেছনে। মনে একটা সন্দেহ ছিল পরের দিন সকালটা কিরকম হবে সেই নিয়ে । যাই হোক হোমস্টে'তে লাঞ্চ'টা সেরে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম একটু । জঙ্গলের ভেতর একটা পোখরি (জলাশয় ) আছে। শুনলাম সেখানে নাকি আবার নেকড়ে'রা রাতের বেলায় জল খেতে আসে । লোকাল গাইড নিয়েই গেলাম । বেশ ইন্টিরিওর লোকেশনে, গা ছমছমে একটা ব্যাপার আছে । জলের রঙ কালো, মাঝে একটা মস্ত পাথর, অদ্ভুত রকম দেখতে । গাইডের মুখে শুনলাম এখানে নাকি জঙ্গলের পুজো হয়, পবিত্র স্থান। কিছুক্ষণ থেকেই ফিরে আসি রাত হওয়ার আগেই । যাওয়ার রাস্তাটাও চমৎকার । দুপাশে পাইন, মাঝে পথ ।

সন্ধে হতেই মেঘ কাটতে শুরু করে, পূর্ণিমার কিছুটা আগের সময় হওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘাও হাল্কা দেখা যাচ্ছিল ওই চাঁদের আলোয় । রাতের আকাশে এত তারা'ও এভাবে আমাদের শহরে দেখা যায় না । তবে রাত বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডাটাও বাড়তে থাকে। বলে রাখা ভালো ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারীর মাঝামাঝি বেশ ভালো ঠান্ডা থাকে এখানে । রাতে তো টেম্পারেচার মাইনাস এও নেমে গিয়েছিল । দুটো কম্বল নিয়েও শান্তি হচ্ছিলো না, অবশ্য সেরকম অসুবিধা হলে রুম হিটার এর ব্যবস্থা আছে, 300 টাকা /রাত ।

সকালে ঘুম ভাঙলো তখন ঘড়িতে পাঁচটা । অ্যালার্ম দেওয়াই ছিল । রুমের দরজা খুলে বারান্দা'তে এসে দেখলাম চারিদিক বেশ অন্ধকার তখনও, ঠান্ডাও তুমুল । মোটামুটি একটু ফ্রেশ হয়ে চাদর টুপি সোয়েটার মাফলার জড়িয়ে বাইরে এলাম, তখন অন্ধকার কাটছে ধীরে ধীরে । কাঞ্চনজঙ্ঘাও আবছা দেখা যাচ্ছে দূরে, তবে বেশ বুঝলাম আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না, কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বমহিমায় তিনি প্রকাশ পাবেন । লনে পা দিয়েই দেখি ভোরের শিশির জমে বরফ, মাটিতে যেদিকেই চোখ যায় সাদা বরফ জমে রয়েছে ।


পুলকের আর সীমা রইলো না। ঠান্ডায় জমতে জমতে আর উত্তেজনার পারদে লাগাম দিয়ে ভিউপয়েন্টে পৌঁছে দেখলাম আরও কয়েকজন আপাদমস্তক ঢেকে ক্যামেরা আর ফোন নিয়ে রেডি হচ্ছে ।


এই জায়গাটা থেকে পুরো 360° ভিউ পাওয়া যায় । একপাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরেকপাশে সূর্যোদয়ের অপেক্ষা । বেশ সুন্দর একটা লাল ফ্লুরোসেন্ট স্ট্রিং লাইট এর রেখা সমস্ত পূর্ব দিকটা জুড়ে । আরেকপাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা ধীরে ধীরে রঙ বদলাচ্ছে । কখনও হাল্কা সাদা, তারপর একটু হলুদ, তারপর হাল্কা লাল । বেশ ওপাশে দেখি একটা আস্ত লাল বল ধীরে ধীরে উঁকি মারছে, অর্ধেক অংশ বেশ টকটকে লাল, নীচের অংশ তখনও কালচে । ধীরে ধীরে পুরো গোলটাই বেরিয়ে এল লাল রঙ নিয়ে, ধীরে ধীরে বেশ একটা গোল্ডেন রেডে। সত্যিই মুহূর্তটা স্বর্গীয়(একটুও বাড়িয়ে বলছি না)। ফোটোগ্রাফি সেরে এক বুক আনন্দ নিয়ে রুমে ফিরলাম যখন দেখি হাত বাড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘা । রুমের জানালা দিয়েও তার অনবদ্য উঁকিঝুকি । নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হবেন । এখানে থেকে স্লিপিং বুদ্ধার পুরো রেঞ্জটাই দেখতে পাওয়া যায়, তাছাড়াও আরও অনেক পিক এখানে থেকে দেখতে পাবেন ।

বেলা বাড়তে ঘাসের গায়ের বরফ গলতে শুরু করলো । ব্রেকফাস্ট সেরেই আমাদেরও বেরিয়ে পড়া । তবে মনে আর বিন্দুমাত্রও আফসোস নেই । জীবনের এক অন্যতম মুহূর্তের সাক্ষ্মী হলাম, এ স্মৃতি অক্ষয় থাকবে চিরকাল ।
কয়েকটা কথা :


যেহেতু জায়গাটা জঙ্গলের ভেতর তাই বনফায়ার করা যাবে না।
ডিসেম্বর বা জানুয়ারীতে গেলে ঠান্ডা ভীষণরকম, সেইরকম প্রস্তুত থাকবেন
কপাল ভালো হলে বরফপাত'ও পেতে পারেন ।

চেষ্টা করবেন ভিউ রুম নেওয়ার, রুম থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারেন। ননভিউ রুমেও চাপ নেই, একটু বেরিয়ে এসে দেখতে হয় ।
খাবার-দাবার ঠিকঠাক (লাঞ্চে ডিম হলে ডিনারে চিকেন বা উল্টোটা, ভেজও রয়েছে । সকালে লুচি তরকারি, এছাড়াও চা রয়েছে )।

এই covid সিচুয়েশনে sanitizer, mask(extra), disinfectant spray সবসময় ক্যারী করবেন । যতটা সম্ভব মানবেন, তবে অহেতুক খুঁত খুঁত করে ঘোরার আনন্দ মাটি না করাই ভালো ।
Homestay : Phoorba Homestay (Upper Chtakpur)
Contract No: +91 77979 28988

Sourin Mukherjee

Tuesday, May 5, 2020

বড়ন্তি, পুরুলিয়া - Baranti Purulia

 এবার শীতে অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে হয়তো পারবেন না। তাদের বলি কাছাকাছি পুরুলিয়ার বড়ন্তি থেকে ঘুরে আসুন। আমরা অবশ্য গিয়েছিলাম ডিসেম্বরে। যাইহোক সকালের ব্ল্যাক ডায়মন্ড ধরে আসানসোল গিয়ে ওখান থেকে আদ্রা লাইনের ট্রেনে উঠে মুরাডি স্টেশনে নেমে অটো নিয়ে 3কিমি গেলেই বড়ন্তি। পাহাড়ের কোলে টলটলে নীল জলের লেক, শাল-পলাশের জঙ্গল, লালমাটির পথ আর আশেপাশে দু-একটা আদিবাসী গ্রাম। কাছেই বিহারিনাথ পাহাড় আর মন্দির, একটা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসুন। আর হাতে সময় থাকলে পরদিন সেই গাড়িতে শুশুনিয়া পাহাড়, গড় পঞ্চকোট এমনকি মাইথনও ঘুরে আসতে পারেন সারাদিনের চুক্তিতে। তবে বড়ন্তি একাই একশো। লেকের পাশে বসে কিংবা লালমাটির পথে হাঁটতে হাঁটতে কিভাবে যে সময় কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না। আদিবাসী গ্রামে দেশি মুরগিও পাবেন। থাকার জন্য 1000 থেকে 2000 এর মধ্যে কয়েকটা রিসর্ট আছে। আকাশমনি খুবই ভাল। আমরা ওখানেই ছিলাম। রান্নাও ফার্স্টক্লাস। লেক থেকে 2 মিনিট। পলাশবনি ও খারাপ নয়। ফোন করে কথা বলে নিতে পারেন : 8017215952, 9732038397, 9874887046. তবে আর কি ? বুকিং করে বেরোনোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। বড়ন্তি আপনাকে নিরাশ করবে না, কথা দিলাম।







Debashish Himalaya Addict

Tuesday, April 21, 2020

বার্মেক, সিকিম - Barmek, Sikkm

 বার্মেক ।।

"এখানে মেঘ গাভীর মত চরে.."
কালিম্পং থেকে রংলী যাওয়ার পথে বাংলা সিকিমের বর্ডারে অবস্থিত এক ছোট্ট পাহাড়ি হ্যামলেট বার্মেক। সে অর্থে বার্মেক এখনও হিমালয়ান ট্রাভেলারদের কাছে বেশ অপরিচিতই বটে। তবে শহুরে কোলাহল থেকে দুরে দু-তিনদিন যদি প্রকৃতির কোন অজানা আস্তানায় লুকিয়ে পড়তে চান তবে চলে যান বার্মেকে। যদি পাহাড়ী পথে এক মূহূর্তে নিজের সাথে হারিয়ে যেতে চান, চলে যান বার্মেকে। যদি কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর সূর্যোদয় দেখতে চান কোন এক ভালো লাগার ভোরে। বন্ধু পরিজনদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে কাটাতে চান দুদিন,আপনার গন্তব্য হোক বার্মেক।


মূলতঃ শিঙ্কোনা উদ্ভিতের চাষ এই গ্রামে। ছোট্ট একটি গ্রাম। একেবারে নিরিবিলি, নানারকম পাখির ডাক ছাড়া আর কিছুই শুনবেন না। দু-একটি হোমস্টে আছে। গ্রামের মানুষরা আতিথিয়তা করেন অতিথিদের। এই মানুষগুলির সরলতা আপনার ভালো লাগবেই। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বার্মেকের দূরত্ব ৯২ কিমি এবং বাগডোগরা থেকে দূরত্ব ৯৮ কিমি। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ীতে বার্মেক আসতে সময় লাগে সাড়ে তিন ঘন্টা মতন। কালিম্পং থেকে এই গ্রামে দূরত্ব ১৮ কিমি। যারা সিল্করূট যান, কাটিয়ে যেতে পারেন এখানে দুদিন।



বার্মেক থেকে খুব কাছেই ইচ্ছেগাও, সিলারীগাঁও প্রভৃতি গ্রাম। হিমালয়ান পার্ক, জলসা বাঙলো, রামিতে ভিউ পয়েন্ট, লাভা , রিশপ প্রভৃতি ঘুরে আসা যায়। এছাড়া হিমালী পার্ক, ডেলো, ডুর্পিন, পাইন ভিউ নার্সারী, হনুমান টক প্রভৃতি স্থান দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায়।


এসব তো গেল না হয়, বার্মেক এর কথা। এর বাইরে যেটা বলতে হয় তা হলো এই হোমস্টেটির কথা। হোমস্টের বারান্দায় বসেই যেন গোটা একটা দিন কেটে যায়। আকাশে সারাদিন মেঘেরা যেন পাহাড়ের সাথে লুকোচুরি খেলে। কিম্বা হিমেল ভোরে চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় বসেই কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর সূর্য ওঠার দেখা আর পাশে যদি থাকে প্রিয়জন তবে অনুভূতি হতে পারে স্বর্গীয়। আর নিশ্চিত করেই সঙ্গে থাকবে অমায়িক আতিথিয়তা। তাই আপনি যদি প্রকৃতি কে ভালোবাসেন, পাহাড়ের গন্ধকে যদি গায়ে মেখে নিতে চান, নিঃস্তব্ধতাকে যদি উপলব্ধি করতে চান আপনাকে তবে একবার বার্মেকের এই আঁকাবাঁকা পথে চলতেই হবে এক অজানাকে জানতে।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বার্মেকের দূরত্ব ৯২ কিমি।
গাড়ী ভাড়া- ৩০০০-৩৫০০ টাকা
হোমস্টে খরচ ১৫০০/- টাকা জনপ্রতি প্রতিদিন। (সব মিল)
06291538880



Barmek
- where the clouds graze like cows
Barmek is a Himalayan hamlet situated cosily in the Bengal-Sikkim border on the way from Kalimpong to Rongli. The place is not yet too familiar with the tourists. However, if you are the one who has been long in city pent and wish to spend a few days in an intimate relationship with nature then Barmek could be the end of your search. Be it your wish to lose yourself in the winding paths that entwine the village like a garland, or just sit with family and watch the magnificent Kangchendzonga changing hue with the day's progression, Barmek is bound to mesmerize you.
Cinchona is mainly cultivated in this village. The overwhelming silence of this small village is occasionally broken by the chirping of the birds. A few homestays are available - you will be impressed by the simplicity and hospitality of the villagers. Barmek is 92 kms from New Jalpaiguri, 98 kms from Bagdogra and 18 kms from Kalimpong. It takes about three and a half hours to reach Barmek from New Jalpaiguri. Those who are planning to visit Silk Route may spend a couple of days here too.

Icchegaon and Silarigaon are not very far away from Barmek. You may also visit the Himalayan Park, Jalsha Bungalow, Ramite View Point, Lava, Rishyap. Besides, Himali Park, Dello, Durpin, Pine View Nursery etc may be visited within a day.

Enough has been said of Barmek. Now this particular homestay also deserves a special mention. It seems as if an entire day can be spent sitting in the balcony watching the clouds playing hide and seek with the hills or a picturesque sunrise over Mount Kangchendzonga. With your beloved by your side the feeling could be divine. And needless to say the warm hospitality would be the icing on the cake.

To sum it up, if you are in love with nature, if you want to hear the sound of silence, if you want to feel the aroma of the hills you have to tread at least once in the enchanting trails of Barmek.
Distance between NJP to Barmek is 92 Km.
Car fare 3000-3500 INR.
Homestay cost- 1500/- INR per person per day including all meals.
06291538880

Saturday, April 18, 2020

তিস্তা ও রঙ্গীত। - এিবেণী(দার্জিলিং) - Teesta Rangit River Confluence Tribeni(Darjeeling)

তিস্তা ও রঙ্গীতের মিলন স্থল, দুটি হৃদয়ের মিলনে যেন প্রকৃতির প্রেম প্রেম উৎসব। এনজেপি থেকে শেয়ার গাড়ি তে তিস্তা ব্রিজ, ওখান থেকে কাছেই আবার অন্য একটা গাড়ি ধরে এিবেনী। আমি যেহেতু একা ট্রাভেল করি তাই কারও সাহায্য নেবো বলেই ঠিক ছিল কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে একটা ছোটো ট্রাভেল এজেন্সির লোভনীয় অফার ও তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগ পরিত্যাগ করতে পারলাম না। তাঁবু, ডিনার, বনফায়ার এবং বারবিকিউ, ব্রেকফাস্ট; সবকিছু মিলিয়ে ১৩০০ টাকা। বিয়ার বা পছন্দের ওয়াইন নিলে আগে থেকে বলে রাখা ভালো। এমন একটা পরিবেশ নদী পাহাড় জঙ্গল এর মাঝে নির্জন তাঁবুতে রাতের প্রবাহের কুলুকুলু শব্দ এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। বোটিং এরও ব্যবস্থা দেখলাম , আমি অবশ্য নিইনি। তবে এজেন্সির সাহায্য নেওয়ায় নিরাপত্তা বা ব্যবস্থাপনায় একপ্রকার নিশ্চিত ছিলান। সবকিছু লিখতে পারছি না।






অন্য টুরিস্টদের সাথে আনন্দটা ভাগ করে নেওয়া গেলেও যেন মনে হচ্ছিল সিচুয়েশানটা যদি প্রিয় বন্ধুদের সাথে অন্তত একবার ভাগ করে নিতে পারতাম। কাছ থেকে তিস্তাকে ছুঁয়ে দেখা, তিস্তার নুঁড়ির ওপর শুয়ে দেখা, অসামান্য অনুভূতি।

ওখান থেকে পরের দিন কালিম্পং এ থেকে ফেরা, কালিম্পং ওখান থেকে ১ ঘন্টার রাস্তা।
Travel Agency -
Pahaari Tours & Travels
Contact No. - 6294471489

Sudipta Bhuin