এখন বাঙালির নতুন অফবিট ডেস্টিনেশন চটকপুর।ঘুরে এলাম এই ক্রিস্টমাসেই। তারই কিছু অভিজ্ঞতা ও একরাশ ভালোলাগা শেয়ার করে নিচ্ছি আপনাদের সাথে ।
আমাদের হোমস্টে, মেঘেদের ভিড় জমে উঠছে তখন । কাঞ্চনজঙ্ঘা পিছনে আড়াল পড়েছে ।
Get real visiting experiences from the travelers
এখন বাঙালির নতুন অফবিট ডেস্টিনেশন চটকপুর।ঘুরে এলাম এই ক্রিস্টমাসেই। তারই কিছু অভিজ্ঞতা ও একরাশ ভালোলাগা শেয়ার করে নিচ্ছি আপনাদের সাথে ।
এবার শীতে অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে হয়তো পারবেন না। তাদের বলি কাছাকাছি পুরুলিয়ার বড়ন্তি থেকে ঘুরে আসুন। আমরা অবশ্য গিয়েছিলাম ডিসেম্বরে। যাইহোক সকালের ব্ল্যাক ডায়মন্ড ধরে আসানসোল গিয়ে ওখান থেকে আদ্রা লাইনের ট্রেনে উঠে মুরাডি স্টেশনে নেমে অটো নিয়ে 3কিমি গেলেই বড়ন্তি। পাহাড়ের কোলে টলটলে নীল জলের লেক, শাল-পলাশের জঙ্গল, লালমাটির পথ আর আশেপাশে দু-একটা আদিবাসী গ্রাম। কাছেই বিহারিনাথ পাহাড় আর মন্দির, একটা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসুন। আর হাতে সময় থাকলে পরদিন সেই গাড়িতে শুশুনিয়া পাহাড়, গড় পঞ্চকোট এমনকি মাইথনও ঘুরে আসতে পারেন সারাদিনের চুক্তিতে। তবে বড়ন্তি একাই একশো। লেকের পাশে বসে কিংবা লালমাটির পথে হাঁটতে হাঁটতে কিভাবে যে সময় কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না। আদিবাসী গ্রামে দেশি মুরগিও পাবেন। থাকার জন্য 1000 থেকে 2000 এর মধ্যে কয়েকটা রিসর্ট আছে। আকাশমনি খুবই ভাল। আমরা ওখানেই ছিলাম। রান্নাও ফার্স্টক্লাস। লেক থেকে 2 মিনিট। পলাশবনি ও খারাপ নয়। ফোন করে কথা বলে নিতে পারেন : 8017215952, 9732038397, 9874887046. তবে আর কি ? বুকিং করে বেরোনোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। বড়ন্তি আপনাকে নিরাশ করবে না, কথা দিলাম।
বার্মেক ।।





তিস্তা ও রঙ্গীতের মিলন স্থল, দুটি হৃদয়ের মিলনে যেন প্রকৃতির প্রেম প্রেম উৎসব। এনজেপি থেকে শেয়ার গাড়ি তে তিস্তা ব্রিজ, ওখান থেকে কাছেই আবার অন্য একটা গাড়ি ধরে এিবেনী। আমি যেহেতু একা ট্রাভেল করি তাই কারও সাহায্য নেবো বলেই ঠিক ছিল কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে একটা ছোটো ট্রাভেল এজেন্সির লোভনীয় অফার ও তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগ পরিত্যাগ করতে পারলাম না। তাঁবু, ডিনার, বনফায়ার এবং বারবিকিউ, ব্রেকফাস্ট; সবকিছু মিলিয়ে ১৩০০ টাকা। বিয়ার বা পছন্দের ওয়াইন নিলে আগে থেকে বলে রাখা ভালো। এমন একটা পরিবেশ নদী পাহাড় জঙ্গল এর মাঝে নির্জন তাঁবুতে রাতের প্রবাহের কুলুকুলু শব্দ এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। বোটিং এরও ব্যবস্থা দেখলাম , আমি অবশ্য নিইনি। তবে এজেন্সির সাহায্য নেওয়ায় নিরাপত্তা বা ব্যবস্থাপনায় একপ্রকার নিশ্চিত ছিলান। সবকিছু লিখতে পারছি না।
অপার সৌন্দর্যের চাবিকাঠি খুঁজতে যখন বিষ্ণুপুর যাওয়া তখন শুধুই চেয়ে থাকি,,,,, আঁখি ফিরাইতে না পারি,,,,,,,,........।
দার্জিলিং জেলার পূর্বে ছোট্ট একটি পাহাড়ী গ্রাম রিলিং। নেপালী ভাষাভাষী মানুষের বাস এই গ্রামে। ঘুম থেকে নীচে উপত্যকা বরাবর ২২ কিমি দূরে রিলি্ং গ্রামের অবস্থান। উচ্চতা ২৫০০ ফিট। পাহাড়ি উপত্যকার অপরুপ সৌন্দয্য এছাড়া পাহাড়ী আঁকা বাঁকা পথে হারিয়ে যেতে চাইলে চলে আসুন রিলিং।
ঘুম থেকে আসবার পথে দেখা মিলবে ছোট বড় অনেকগুলি চা বাগানের। পথে দাঁড়িয়ে সেল্ফি ও তুলে নিতে পারেন। মেরিবং, রিশিহাট, চংটং প্রভৃতি চা বাগান গুলি রিলিং যাওয়ার রাস্তাতেই মিলবে।
এছাড়া হিমা ফলস্, বিশ্বম্ভর রক তো আজকের দিনে হিমালয়ান ট্রাভেলারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় দর্শনীয় জায়গা। খুব কাছেই পুলবাজার হাট। এই অঞ্চলের সব্জি এবং ফার্মের পশু বিক্রির জায়গা। দার্জিলিং জেলার সবচেয়ে পুরনো বাজার ও এই পুলবাজার।
এখান থেকে চমৎকার ভিউ পাওয়া যায় দার্জিলিং শহরের। রাতে সেই সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। সিঙ্গালিলা থেকে ট্রেক করেও রিলিং আসা যায়। ফলে যারা সান্দাকফু ট্রেক করতে আসেন তারাও আসতে পারেন এখানে।
পাশ দিয়ে বয়ে চলা রঙ্গীত নদী অসাধারণ সুন্দর এক সিনারি এঁকেছে যেন। এই নদীর পাড় বরাবার অরেঞ্জ, অ্যাপেল প্রভৃতি গার্ডেন রয়েছে অনেকগুলি। এক কথায় বিজনবাড়ী শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক চিত্রপট যেন। পাশ দিয়ে রঙ্গীতের বয়ে চলার শব্দ আর পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে যায় এখানে।