• Estuary of Teesta and Rangit Rivers

  • Teesta View Point

  • Chatakpur, Darjeeling

  • Chilapata Forest

Wednesday, August 11, 2021

ম্যাকলস্কিগঞ্জ, ভারতের মিনি লন্ডন - McCluskieganj, Jharkhand

 ছোটবেলায় ঋজুদার সাথে ও কৈশোরে বুদ্ধদেব গুহর সাথে বার বার করে ঘোরা -ম্যাকলস্কিগঞ্জ।উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসে থাকা 'পালামৌএর পথে'তো অনেকেরই পড়া।

যেখানে নির্জন রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে কান পাতলে এখনো মনে হয় খোঁড়া প্যাটের ক্র্যচের শব্দ বা শাল মহুয়ার জঙ্গলে দাঁড়িয়ে মনে হয় ওইদূরে কোন সাহেব ঘোড়ায় চড়ে বন্দুক কাঁধে শিকারে চলেছে টগবগিয়ে।বড়ই প্রাণের জায়গা-এখানে প্রকৃতি যেন কথা বলে নিজের ছন্দে।রুক্ষ্ম ল্যাটেরাইট মাটির নালিক্ষয়সহ প্রকৃতির বুকে সবুজের সমারোহ।সাথে ছোট ছোট নদী ও পাহাড়।এই রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে সাথে খনিজ সম্পদের টানে ম্যাকলস্কি সাহেব রাঁচির রাতুর রাজার থেকে,রাঁচি থেকে 67কিমি দূরে দশ হাজার একর জমি লিজ নিয়েছিলেন এবং প্রায় তিনশো আংলো ইন্ডিয়ান পরিবারকে নিয়ে এখানে আংলো ইন্ডিয়ান জনপদ গড়ে তুলেছিলেন।যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কর্মবিমুখ ইংরেজ আর এখানে থাকেনি।তাদের আস্তানা বিক্রি করে যে যার দেশে পাড়ি দেন।কিছু আংলো পরিবার থেকে যায় জায়গাটিকে ভালোবেসে আর কিছু বাঙালিবাবু এখানে কিছু বাংলো কিনে নেয়।আগের বার স্টেশনে গিয়ে ফলবিক্রেতা কিটি ম্যামের সাথে দেখা হয়েছিল,এখন তিনি অসুস্থ শুনলাম।আগের বার অপর্না সেনের বাড়ি এখানে দেখে গিয়েছিলাম,এবার শুনলাম সেটা বিক্রি হয়ে গেছে।এখনও পথের ধারে জীর্ণ বাংলোগুলোর সামনে দাঁড়ালে মনে হয় এখানে কতো আলো ঝলমলে পরিবেশ ছিল একসময়,কান পাতলে যেন শোনা যাবে কোন ব্রিটিশ রমণীর পিয়ানোর শব্দে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে।



                                                                    ডোগাডুগি নদী

আমরা ছিলাম শহরের একপ্রান্তে শালবনে ঘেরা রানা'জ কান্ট্রি কটেজে।রানা দম্পতি নেপাল রাজপরিবারের মানুষ।মি:রাণার বাবা কর্নেল ছিলেন,চাকরির সুবাদে এখানে থাকতে এসে জায়গাটাকে ভালবেসে এখানেই থেকে গিয়েছেন।তাদের আন্তরিক ব্যবহার মুগ্ধ করার মতই।মিসেস রানা বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারেন।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ,সুসজ্জিত কটেজের পরিবেশ মুগ্ধ করবেই।আগের বার জর্ডনে ছিলাম।কিন্তু ম্যাকলস্কিগঞ্জে রাণা'জ কটেজ বেস্ট বলতে পারি।সাথে কর্মীদের সুন্দর ব্যবহার।খাবারের কথা যতো বলবো ততটাই কম বলা হবে।আমার মতো পেটুকরা শুধু খেতেই এখানে বারবার আসতে পারেন।



আমরা 6জন কলিগ সাথে দুটো বাচ্চাকে নিয়ে দোলের আগের দিন হাওড়া রাঁচি স্পেশ্যাল ট্রেনে রাত দশটা দশে রওনা দিয়ে পরেরদিন ভোর পাঁচটা চল্লিশে রাঁচি পৌঁছই।কটেজ থেকে দুটো বোলেরো গাড়ি এসে স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল।আমরা ম্যাকলস্কিগঞ্জ পৌঁছে যাই সকাল সাড়ে সাতটায়,তবে বেলা সাড়ে নটার পর লু বইবে,বাইরে বেরোনো যাবে না কোনোভাবেই।আমরা তাই দুটো অটো বুক করে বেরিয়েছিলাম বিকেল সাড়ে তিনটের পর ।বেরিয়ে দেখে নিলাম বসন্তে শুকিয়ে যাওয়া ডোগাডুগি ও চাট্টি নদী,দুপাশে শালবন চিড়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে পড়ন্ত বিকেলের রোদে প্রাণ জুরিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক শোভা-'জাগৃতি বিহার' ।দেখতে দেখতে হারিয়ে গিয়েছিলাম সত্যি।বসন্তে প্রকৃতি এখানে তার রঙ্গিন রূপে নিজেকে সাজিয়ে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।সেই শোভা মন ক্যামেরায় বন্দী করে রেখেছি,যতোই ক্যামেরা বন্দী থাকুক হৃদয়ের ক্যামেরা তখন পরিপূর্ণ।



পলাশ,শাল,পিয়াল,মহুয়া,কৃষ্ণচূড়া সহ আরো নাম না জানা ফুল পথের ধারে অতি অনাদরেও নিজেদের সাজিয়ে তুলেছে।সাথে দুল্লি গ্রামে সর্ব ধর্ম সমন্বয় দেখলাম।মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরুদ্বার পাশাপাশি অবস্থান করছে।বর্তমান সমাজ যখন পরস্পরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে ,দলাদলি চলছে,সেই পরিস্থিতিতে এখানে দাঁড়িয়ে মন শ্রদ্ধায় ভরে গেলো।এরপর সেই হেরিটেজ স্টেশন,হলুদের ওপর কালো দিয়ে লেখা-Mccluskiegunj।দাঁড়াতেই নস্টালজিক হয়ে পড়লাম।প্যাটের সেই কথা মনে পড়ে গেল
"যেসব লোক অন্যের করুণার উপর ভর করে বাঁচে, তারা দশটা পা থাকলেও চলতে পারে না। আই অ্যাম হ্যাপি দ্যাট আই ক্যান ম্যানেজ উইদাউট এনিবডি'জ হেল্প।"

                                                                            নতুন চার্চ


স্টেশনে অনেকক্ষণ বসে থাকার পর কটেজে ফিরলাম।পরের দিন ঝাড়খণ্ডে হোলির জন্য কোথাও বেড়ানো যাবে না,তাতে কি?আমাদের কটেজটাই তো অসাধারণ একটা স্পট।ভোরবেলা 'চোখ গেলো'পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে শাল বনের সামনে দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব গুহর বিখ্যাত লাইন মনে পড়ে গেল 'একটু উষ্ণতার জন্য’র সেই বিখ্যাত ভাষ্য-
“এই জায়গাটায় সকাল হয় না, সকাল আসে। অনেক শিশিরঝরানো ঘাসে ভেজা পাহাড়ি পথ মাড়িয়ে, অনেক শঙ্খিনী নদী পেরিয়ে সোনা-গলানো পোশাক পরে সকাল আসে এখানে।”



সাথে বসন্ত বৈরী,কোকিল আরও নাম না জানা শত শত পাখির ডাক।এরপর সারাদিন আমরাও হোলির রঙে মেতে উঠলাম।বাচ্চারা কটেজের চারটি জার্মান শেফার্ডের সাথে সখ্যতা করে নিলো।পরদিন ব্রেকফাস্ট করে বিদায় জানালাম সাধের ম্যাকলস্কিগঞ্জকে।ফেরার সময় দুপুর পৌনে দুটোর রাঁচি-হাওড়া শতাব্দীতে হাওড়া পৌঁছেছি রাত সোয়া নটায়।
হোটেলে আমরা 6বেডরুম ঘর নিয়েছিলাম,যদিও দুজন ছোটসহ আমরা আটজন ছিলাম।6/7তিনটে খাটে কোন অসুবিধা হয়নি।ঘরে এসি না থাকলেও ফ্যান চালালে চাদর গায়ে দিতে হয়েছে দুপুরেও।যেখানে বাইরে তখন লু বইছে।আর রাতে ফ্যান বন্ধ করে চাদর মুড়ি দিয়ে শুতে হবে।যার ভাড়া 3000/প্রতিদিন আর খেতে লেগেছে 700দিন/জনপ্রতি।খাবারে কি না ছিল...ব্রেকফাস্টে আলু পরোটা,টক দই,ছোলার ঘুগনি,লাঞ্চে একদিন চিকেন,একদিন মাছ সাথে ডাল,ভাজা,সব্জি,চাটনি হোলির দিন মিষ্টিও ছিল।আর সন্ধ্যেবেলা চিকেন পকোড়া ও রাতে একদিন চিকেন,ফ্রায়েড রাইস ও একদিন মটন ও রাইস দিয়েছে।আমরা দুটো বোলেরো গাড়ি নিয়েছিলাম যাতায়াতের জন্য,কারণ রাঁচিতে 7সিটার গাড়িতে 6জনের বেশি ওঠার অনুমতি নেই।একেক পিঠের ভাড়া প্রতি গাড়ি পিছু 2100/(with AC)।সমস্ত ছবির সাথে ক্যাপশন দেওয়া রইলো।



                                                                রানা'জ কন্ট্রি কটেজ


নিচে প্রযোজনীয় কিছু তথ্য দিলাম:-
রানা'জ কন্ট্রি কটেজ:-
ম্যানেজার ইউসুফ (যাকে মুশকিল আসান বলা যায়,যখন যা চেয়েছি সঙ্গে সঙ্গে হাজির)-9534034936
বোলেরো ড্রাইভার আলম-9534122772
অটো ড্রাইভার সাদ্দাম-7667935225

Suneeta Saha

Monday, July 5, 2021

নেতারহাট, পাত্রাতু, বেতলা(ঝাড়খন্ড) - Netarhat, Patratu and Betla(Jharkhand)

 কথায় আছে বাঙালির পায়ের তলায় নাকি সর্ষে, এটা সত্যি হলে আমার পায়ের তলায় তবে কাঁচের গুলি, তা নাহলে covid থেকে সুস্থ হয়েছি 14দিনও হয়নি এর মধ্যে bike করে মাইথন, হাজারীবাগ, পাত্রাতু,নেতারহাট,লোধ ওয়াটার ফলস, বেতলা, কান্তি ওয়াটার ফলস, পুরুলিয়া, আর শেষ পাতে মিষ্টির মতো ফেরার সময় ইটাচুনা রাজবাড়ী সব একসাথে(1580km)দেখার plan করতে পারি!যাইহোক নিজের কথা তো হলো এবার আসি সংক্ষেপে জায়গা গুলির কথায়, আর নড়বড়ে হাতের ও কম দামি মোবাইলে তোলা কিছু ছবি দিয়ে।


                                                                       পাত্রাতু ড্যাম
কেচকি সঙ্গম

মাইথন, পুরুলিয়া নিয়ে কিছুই বললাম না, আমরা প্রথমে যাই হাজারীবাগ(অশোকনগর থেকে 390km)এখানে দেখার বিশেষ কিছুই নেই ভালো weather,বড় market, একটা ছোটো পাহাড়, ঝিল, দুটো পার্ক আছে.. হোটেল rent বেশ কম।


                                                                      
মীরচাইয়া ফলস
                                                        Upper Ghagri Falls


                                                                                লোধ

ওখান থেকে আমরা ছবির মতো সুন্দর পাত্রাতু dam আর পাত্রাতু ভ্যালি তে যাই(83km)দুটোই খুব ভালো লাগবে,সময় নিয়ে যাবেন dam এ নৌকা বিহার অবশ্যই করবেন।

Next নেতারহাট(170km)এখানে বেশ কয়েকটা স্পট আছে তাই একদিন অব্যশই থাকবেন, দেখার জায়গা গুলো serially দিচ্ছি ও আমার চোখে যেমন লেগেছে পাশে star mark দিয়ে রাখছি প্রথম যারা যাবেন সুবিধা হবে, আর হ্যা এখানে গেলে অব্যশই ঝাড়খন্ড govt এর প্রভাত বিহার এ থাকবেন কারণ sunrise দেখতে হলে হোটেলের রুম থেকেই চা হাতে নিয়ে দেখতে পাবেন এছাড়াও হোটেল টি অসাধারণ room rent শুরু হয় 2200/- থেকে,suite room, tent(tent এর rent 2351/-দুজন, 3300/-চার জন)সবই পাবেন..সিজন এ গেলে online book করে যাবেন।

                                                                পাইনের সারি নেতারহাট

                                                                         পাত্রাতু ভ্যালি

1.প্রভাত বিহার(sunrise point)****
2.ফরেস্ট বাংলো(লাকড়ি ঘর)***
3.কোয়েল ভিউ পয়েন্ট*****
4.নাসপাতি বাগান(নাসপাতি গাছে থাকা অবস্থায় গেলেই শুধু ভালো লাগবে, july-sep)
5.আপার ঘাগড়ী ফলস***
6.লোয়ার ঘাগড়ী ফলস(আমরা যায়নি, শুনলাম নির্জন রাস্তা আর বেশ দূর)
7.নেতারহাট স্কুল/পিকনিক স্পট***
8.সালেট হাউস(কাঠের ঘর)***
9.নেতারহাট লেক**
10.sunset point****(এখানে পাকোড়া অবশ্যই খাবেন, চেষ্টা করবেন বিকেলে নেতারহাট পৌঁছে আগে এটা দেখে নেওয়ার তবে একদিন নষ্ট হবেনা)
এখান থেকে লোধ ওয়াটার ফলস(65km)বেশ ভালো লাগার জায়গা।

Kanti Water Fall

                                                Jharkhand govt hotel,Netarhat

দুপুরের মধ্যে এখান থেকে বেরিয়ে বেতলার উদ্দেশে রওনা দিলাম পথে যাওয়ার সময় আরো তিনটে spot পেয়েছি সব কটাই ভালো 1.Sugga bandh water fall,2.Kechki sangam, 3.Mirchaiya water fall
বেতালা রাতে থেকে সকালে সাফারি(এই মুহূর্তে সাফারিবন্ধ আছে)করে বেরিয়ে পড়ুন এখানে আর বিশেষ কিছু দেখার নেই, হোটেল ও বেশ কম(7-8),পালামু ফোর্ট দেখতে পারেন।
ফেরার পথে মেখলিগঞ্জ, হুড্রু ফলস দেখে রাঁচি আসতে পারেন(আমাদের হাতে সময় ছিলোনা বলে যায়নি).. ট্রেনে করে গেলে রাঁচি থেকে গাড়ি ভাড়া করে সব spot cover করা যায় সবাই তাই করে,রাঁচি তে Dassam falls, Jonha falls, Sifa falls এগুলো দেখতে পারেন(রাঁচি থেকে নেতারহাট 156km)।

                                                               পালামু ফোর্ট বেতলা

ঝাড়খন্ড এ ধূমপান নিষেধ আর হ্যা শাল পাতায় খেতে দেবে ভালো লাগবে.. যেখানে সেখানে plastic আর খাবার packet ফেলে আসবেন না, পরিবেশ সুন্দর থাকলেই আমরা ভালো থাকবো আমাদের এই group টাও ভালো থাকবে.. ধন্যবাদ


Mridul Saha

Tuesday, June 8, 2021

বাওয়ালি রাজবাড়ি, বজবজ - Bawali Rajbari, Budge Budge, South 24 Parganas

আমরা যারা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করি তাদের কাছে এই ঘরবন্দী দশা সত্যি হতাশার।ফেব্রুয়ারি মাসে বেশ কিছুটা অবস্থা অনুকূলে আসলেও আছড়ে পড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ,তারপর কখনও ইয়াশ তো কখনো টর্নেডো,ব্ল্যাক ফাঙ্গাস এর ধাক্কায় জর্জরিত আমরা।এই সব দেখে শুনে আজ সত্যি স্মৃতি রোমন্থনই ভরসা।



সেদিন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় অভিনীত গয়নার বাক্স সিনেমাটা দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম বাওয়ালি রাজবাড়িকে নতুন রূপে, চিনে নিতে অসুবিধা হয়নি সংস্কারের আগের এই বাড়িটিকে।বাড়িটি অজয় রাওলা মহাশয় সংস্কার করে হেরিটেজ রিসোর্ট বানান।অপর্ণা সেন হয়ত তার আগে শুটিং করেছিলেন সারা বাড়ি জুড়ে সেটা বোঝাই গেলো।




সিনেমাটি দেখতে দেখতে এই কঠিন পরিস্থিতিতে আরও একবার ভেসে উঠলো ঘুরে আসা এই বাড়ির প্রতিটি কোণার নানান দৃশ্য। জমিদারি প্রথা শেষ হয়ে গেলেও কোথাও কোথাও তার ছাপ থেকে যায় সুস্পষ্ট।আর ভাগ্যিস আছে তাই অতীতকে আমরা বর্তমানে দাঁড়িয়েও দেখতে পাই।ছোটবেলা থেকেই এই বাড়িগুলোর প্রতি  আমার ভালোলাগা ছিল একটু বেশিমাত্রায়।এই ভালো লাগাকে পাথেয় করে গেছি এমন অনেক বাড়ি আর তাদের মধ্যে অন্যতম এই বাওয়ালি রাজবাড়ি। যা ছিল কালকের মন্ডল ম্যানসন তা আজকের বজবজ নিকটবর্তী বাওয়ালি রাজবাড়ি।




রাজবাড়ি বললেও আসলে এটি জমিদার বাড়ি।প্রাচীন বাড়িগুলোতেও কিভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আধুনিকতাকে প্রবেশ করানো যায় তাও জমিদারি আভিজাত্যকে বজায় রেখে সেটা ওখানে না থাকলে হয়তো বোঝা সম্ভব হতো না।ঘর ও বাড়ির অনত্র সব জায়গাতেই আলোর ব্যাবহারের ক্ষেত্রেও প্রাচীনত্বের ছোঁয়া।পুকুরে খেলে বেড়ায় রাজহাঁসের দল।কোথাও প্রাকৃতিক ভাবে পুকুর তো কোথাও কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্টি করা সুইমিং পুল,স্পা।একই রাজবাড়ি চত্বরে কি সুন্দর ভাবে অধিষ্ঠান করছে পুরাতন ও নতুন পাশাপাশি।মনোরঞ্জনের জন্য পাবেন বিলিয়ার্ড,কেরাম,লাইভ মিউজিক।।সাথে দুপুরের জমিদার থালি,যা সত্যিই পরিবেশন করা হয় রাজকীয়ভাবেই।




বাড়িটি মানস ভ্রমণে ঘরে বসেই দিন ও রাতে কেমন দেখায় তা দেখতে ও যে কথা বলা হয়ে উঠলো না তা জানতে দেখতে পারেন নিচের ভিডিওটি,যেখানে বুকিং ডিটেলস ও খরচ সংক্রান্ত সব তথ্যই পাবেন আপনারা।
 



Ananya Bhattacharya

Friday, May 7, 2021

অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ, পুরুলিয়া - Ajodhya Hill Tour

 সত্যি বলতে কোনো রকম প্ল্যানিং ছাড়া বেরিয়ে পড়তে আমার খুউব ই ভালো লাগে ।এই করোনা এর চক্করে পড়ে আমার ট্রেক টাও হচ্ছে না ,তাই এই মুহুর্তে যখন আমি বাড়িতে তখন ছোট করে একটা লং ড্রাইভে এ বেরিয়ে পড়লে মন্দ হয় না।


রাত তখন ১০ টা বাজে।হেমা ( আমার স্ত্রী) কে বললাম চলো অযোধ্যা পাহাড় টা ঘুরে আসি ।তুমি অনলাইন এ হোটেল টা বুক করো।একটু নেট এ ঘাটাঘাটি করতে কুশল পল্লি রিসোর্ট টা মনে ধরলো। আর কি ,দুজনে দুটো বাগপ্যাক আর এক সেট জমা কাপড় ,আর পুচকুটার ( আমার পোলা অর্ণব- সাড়ে চার বছর) কে বগল দাবা করে ভর সাতটায় গাড়ি স্টার্ট দিলাম।বলতে ভুলে গেছি যে আমার বাড়ি বারাকপুর এ।বলি ব্রিজ টা পাস করতে করতে জয় মা করে ডান কুনি দিয়ে লেফট মারলাম । এই রোড টা বেশ ভালো।Dankuni মার্কেট এর ভিড় টা পেরোলে রাস্তা ভালই ।হেমা কয়েকটা স্যান্ডউইচ নিয়ে এসেছিল ,সেটা মেরে দিলাম। অর্ণব জাস্ট চোখ খুললো।আমি আরো কিছুটা গিয়ে বনলতা রিসোর্ট এর সামনে একটু চা খেয়ে নিলাম তারপর জয়পুর ফরেস্ট এর মধ্যে দিয়ে গাড়ি চললো।তখন সবে পলাশ ফুল ফোটা শুরু করেছে যদিও আমরা পথে সেরকম পলাশ দেখতে পেলাম না । ব্যারাকপুর থেকে অযোধ্যা পাহাড় মোটামুটি ২৯০ কিমি।পথের বিবরণ আর তেমন দিলাম না ।





যাই হোক দুপুর দুটো নাগাদ দুর থেকে পাহাড় দেখে মন টা নিচে উঠলো । কুশল পল্লী রিসোর্ট টা খুজে পেতে বেগ পেতে হলো না, বেশ সাজানো গোছানো, লোকে বেশ সময় কাটাতে ও আসে । সবুজ ঘাস এর খোলা প্রাঙ্গণ, শাল পিয়াল এ ঘেরা অনেক গুলো কটেজ আছে ,একটা প্রাকিতিক ছোট্ট ঝিল ও আছে এটায়।সব মিলিয়ে বেশ মনোরম। মুশকিল হলো মাত্র এক দিন এর প্ল্যান এ এসেছিলাম। জাস্ট একটু ফ্রেশ হয়েই গাড়ি টা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম আপার ডাম এন্ড লোয়ার ডাম দেখতে।তখন বিকেল, সন্ধে নামবে নামবে । আপার ডাম প্র্যায় ফাকা। তোবে সন্ধে বেলায় ওই নিস্তব্দ প্রকৃতি টা অনুভব করা টা বেশ লাগলো।যাই হোক পুরো অন্ধকার নামার আগে লোয়ার ডাম টা দেখার জন্য বেরিয়ে পরলাম।ভালো লাগলো পথ টা চলতে। সন্ধ্যায় গাড়ির হেড লাইট জ্বালিয়ে পাহাড় এর আকা বাঁকা পথে চলতে কার না ভালো লাগে ।উপড়ি পাওনা ঘরে ফেরা পাখি আর ঝিঝির ডাক।যাই হোক সেদিন আর কিছু দেখা হলো না ।তবে রাতের অন্ধকারে অযোধ্যা পাহাড় এর জঙ্গলে গাড়ি চালাবার আলাদা আনন্দ আছে বৈকি।



পরদিন সকালে গেলাম ময়ুর পাহাড়। মার্বেল রক ।এটা বেশ সুন্দর ।মার্বেল খাদান এ একটা লেক হয়ে গেছে।মন্দ নয় দেখতে ।তার পরে গেলাম বামনি ফলস এ।সকাল সকাল গেছিলাম বলে লোক বেশ কম ই ছিলো। তাই ঝর্নার ধরে একাকী বসবার সুযোগ পেয়েছিলাম। পুরুলিয়া আসবো আর মুখোশ তৈরি দেখবো না ! আবার গাড়ি ছুটলো চারীদা গ্রাম এর দিকে। দেখলাম কারিগর রা তাদের সুদক্ষ হাত এ মুর্তি গুলো জীবন্ত করে তুলছে । ফিরে এলাম রিসোর্ট এ। এবার ফেরার পালা। রিসোর্ট থেকে চেক আউট করে বেরিয়ে পরলাম।রাস্তায় বড় একটা গাছ এর নিচে গাড়ি টা দার করলাম।না বাড়ি যেতে একদম ই মন চাইছে না ।
হেমা অর্ণব দুই জন ই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। এত জলদি আমাদের সফর শেষ হয়ে যাবে এটা ওরা বিশ্বাস ই করতে চাইছিল না।
আমিও একটু হেসে বললাম হেমা দেখো তো বুদ্ধগয়া তে হোটেল ফাঁকা আছে কিনা।
হেমা চিৎকার করে বলে উঠলো হিপ হিপ হুররে।।।।

Timir Baran Biswas

Sunday, April 11, 2021

লাল কাঁকড়া বিচ, মন্দারমণি - Lal-Kakra Beach, Mandarmoni

 বছরে একবার #দীঘা নাহলে #পুরী আর মাঝে মধ্যে #মন্দারমণি.. এবার এর সঙ্গে লাল কাঁকড়া বিচ কে add করে নিন, মন্দারমণি থেকে মাত্র 3-4 km দূরে #শান্ত নিরিবিলি কোলাহল মুক্ত এক #নির্জন সমুদ্র সৈকত । ঝাঁও বন, বন্য লতা, উন্মুক্ত পরিষ্কার পরিছন্ন সাগর বেলাভূমি, বিচ লাগোয়া খেতবাড়ি আর..... মূল আকর্ষণ এর লাল কাঁকড়া । গোটা সৈকত জুড়ে অগণিত কাঁকড়া দৌড়ে বেড়ায়, তবে মনে হবে হাতের নাগালে কিন্তু না ধরতে যাবেন পারবেন না, সৈকতের উপর মাঝে মধ্যে নৌকা দাঁড় করানো,যা এর সৌন্দর্য্যকে বাড়িয়ে তোলে... অবশ্যই safety beach ... একা (অনেকেই পছন্দ করেন ) কিংবা প্রিয় জনের হাত ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে বেড়ান আর জীবনের সংজ্ঞা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন ।


এবার বলুন মন্দারমণি থেকে ঘুরে আবার রিটার্ন করবেন নাকি রাত কাটাবেন???????????????

Ok ধরে নিলাম ঘুরে ফিরবেন..... তবে 200 টাকায় অটো reserve কারুন যাওয়ার পথে অনেক শুটকি মাঝের আড়ৎ দেখবেন... ঝাঁও বন আর খেতের ফসল দেখতে দেখতে পৌঁছে যান.. বিচ ঘুরে আবার মন্দারমণি ।
রাত কাটাতে চাইছেন? Ok আব আয়েগা মজা
, কোথায় থাকতে হবে.........👉




👉1, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম.. থাকা এবং খাওয়া 500 টাকা perday, perhead........ Beach road এর উপরে ঘরোয়া পরিবেশে শান্ত ও নিরিবিলি, ফুল এবং গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ,,, ফোন 8116793234/8768435247
👉2, সাগর সঙ্গম home stay...ফোন 7001231132
বিচ রোড এর উপরেই কিন্তু সমুদ্রের কাছে,, পাঁকা বিল্ডিং সহ অনেক tent এর ব্যবস্থা আছে, অনেকটা area জুড়ে, ফুল গাছ দিয়ে সাজানো, রয়েছে বৈঠকখানা, natural swimming pool (পুকুর ) local food, সারিবদ্ধ ঝাঁও গাছের সরু রাস্তা ধরে সমুদ্রের নামুন । এক কথায় ভালো লাগার জন্য অনেক কিছু




👉3, নিরালা হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট (আসলে home stay.. (আমার ভিডিও দেখলেই বুঝতে পারবেন )
ফোন...9933064420 বিচ পাড়ে ঝাঁও বনের মধ্যে দোলনা, বসার জন্য বাঁশের মাচা, ac/non ac room, dormitory, খাওয়ার ও সুব্যস্থা, নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ




👉4'সাগরিকা হোমস্টে.. ফোন 9732723549
রামকৃষ্ণ আশ্রমের কাছে
👉5, বিচ লাগোয়া tent www.cliffline.in এ বুকিং করুন এর অভিজ্ঞতা দারুন adventurous, এর সঙ্গে cottage ও আছে ।


Bramhananda Tarafdar

Friday, March 19, 2021

বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির, হুগলী - Hangseshwari Temple, Bansberia, Hooghly

 আমাদের ধারে-কাছে অনেক সুন্দর সুন্দর বেড়ানোর জায়গা আছে যেখানে সকালে বেরিয়ে বিকালে ফিরে আসা যায়। এই রকমই একটা সুন্দর ঘোরার জায়গার সন্ধ্যান পেয়েছিলাম বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির। ব্যান্ডেল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন জনপদ বংশবাটী যার বর্তমান নাম বাঁশবেড়িয়া। সময় করে রবিবারের একটি ছুটির দিনে ক্যামেরাকে সঙ্গী করে একাই বেরিয়ে পড়লাম বাঁশবেড়িয়ার উদ্দেশ্যে। প্রথমেই প্রবেশ করলাম বাংলার টেরাকোটা সমৃদ্ধ প্রাচীন অনন্তবাসুদেব মন্দিরটিতে। পোড়ামাটির কাজে সজ্জিত এই মন্দিরের আদল অনেকটা বিষ্ণুপুরের মন্দিরের মতো। এই অনন্ত বাসুদেব মন্দির চত্বরেই রয়েছে এখানের বিখ্যাত হংসেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের চারপাশে রয়েছে বড় পরিখা বা চলতি ভাষায় গড় যা আজ নোংরায় ভরে আছে। প্রবেশের মুখে চারপাশে রয়েছে ফুল-মালা, পূজার ডালা, সিঁদুর- আলতা নানারকম পুজোর সরঞ্জাম নিয়ে অনেক দোকান। মন্দিরে ঢোকার মুখে রয়েছে জীর্ণ বিশাল নহবতখানা। নহবতখানা থেকে কয়েক পা হেঁটে এগোলেই হংসেশ্বরী মায়ের মন্দির পাশেই রয়েছে রাজবাড়ী। বর্তমানে এই রাজবাড়ীর বড়ই জীর্ণ দশা। তবে সেখানে এখনো রাজপরিবারের সদস্যরা থাকেন। নির্জন পরিবেশ, সুন্দর ও মনোরম। 

ঘুরতে যাওয়ার আগে মন্দিরের সামান্য ইতিহাস জেনে রাখা ভালো। ১৬৭৯ খ্রীষ্টাব্দে জমিদার তথা রাজা উপাধি ধারক রামেশ্বর রায় তথাকথিত বংশবাটী যা বর্তমানের বাঁশবেড়িয়ায় একটি টেরাকোটার কারুকার্যখচিত বিষ্ণু মন্দির নির্মাণ করান, যেটি এখন অনন্ত বাসুদেব মন্দির নামে পরিচিত। অনন্ত বাসুদেব মন্দিরের পূর্ব দিকে রয়েছে হংসেশ্বরী মন্দির। ১৭৯৯ খ্রীস্টাব্দে এই হংসেশ্বরী মন্দিরটির নির্মান শুরু করেন রাজা রামেশ্বর রায়ের প্রপৌত্র নৃসিংহদেব রায়। কিন্তু মন্দির নির্মাণ শুরুর বছর তিনেক পরে ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে নৃসিংহদেব পরলোকগমন করায় মন্দিরের কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। পরবর্তীকালে নৃসিংহদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী শঙ্করী ১৮১৪ খ্রীস্টাব্দে তাঁর এই অসমাপ্ত মন্দিরটির কার্য সম্পূর্ণ করেন।এই মন্দিরটিতে "হং" অর্থাৎ শিব এবং "সা" অর্থাৎ শক্তি এই দুটিকে অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে বলে মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে “হংসেশ্বরী”। এই মন্দিরটিতে মোট তেরোটি চূড়া রয়েছে। হংসেশ্বরী দেবীর মন্দিরে প্রতিদিন পূজাপাঠের ব্যবস্থা আছে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহের যেকোনো দিন ভোগ নিবেদন করা যায়। দুপুরে মূল মন্দিরে প্রবেশের কোন বাধা নাই কিন্তু গর্ভগৃহ বন্ধ থাকার কারনে তখন মায়ের বিগ্রহ দেখা যায় না।

প্রয়োজনীয় তথ্য :

মন্দির খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। রাত্রিতে বন্ধ হওয়ার পরে আর কোনো কারণেই খোলা হয় না। নিত্যপূজা সকাল ১০ টা, পুষ্পাঞ্জলি সকাল ১১ টা। ভোগের জন্য সকাল ১০টার মধ্যে কুপন সংগ্রহ করতে হবে, অগ্রিম কুপন দেওয়া হয় না। দুপুর সাড়ে ১২টায় ভোগ নিবেদনের পরে ভোগ দেওয়া হয় এবং দুপুর দেড়টার মধ্যে গ্রহণ করতে হবে।

মনে রাখবেন জুতো পরে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেয় না। এখানে ২ টাকার বিনিময়ে জুতো রাখার সুবন্দোবস্ত আছে এবং ৫ টাকার বিনিময়ে স্নানের ব্যবস্থাও আছে।


পথ নির্দেশ :

হাওড়া অথবা ব্যান্ডেল থেকে কাটোয়া লোকালে বাঁশবেড়িয়া স্টেশন। দিনের প্রায় সারাদিনই ট্রেন পরিষেবা আছে। শিয়ালদহ থেকেও সকালবেলায় সরাসরি একটি কাটোয়া লোকাল চলে। বাঁশবেড়িয়া স্টেশন থেকে বেরিয়েই পাওয়া যাবে টোটো। জনপ্রতি ১০ টাকায় পৌঁছে দেবে মন্দিরে। ব্যান্ডেল স্টেশন থেকেও হংসেশ্বরী মন্দির যাবার অটো পাওয়া যায়। এছাড়া নৈহাটী-ব্যান্ডেল ট্রেনের হুগলীঘাট স্টেশন নেমে অথবা চুঁচুড়া লঞ্চঘাট থেকে অটোস্ট্যান্ডে গিয়ে চুঁচুড়া-ত্রিবেণী অটোতে করেও যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। সড়কপথে যেতে হলে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু দিয়ে গঙ্গা পার হয়ে বাঁ দিকে পড়বে হংসেশ্বরী মন্দির যাবার ছোট রাস্তা। বালি থেকে দিল্লি রোড হয়েও যাওয়া যায়।_______________________________________________

ছবি ও তথ্য : নিজস্ব (মন্দিরের ইতিকথা গুগল থেকে সংগৃহিত)।


Nirmal Kumar Saha